দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের বস্তু নিয়ে ভাবনা

বস্তুর ধারণা নিয়ে আলোচনায় এঙ্গেলসের বক্তব্য সামনে আসে । তাঁর মতে পৃথিবীর সাথে মানুষের একটি ব্যবহারিক সম্পর্ক আছে । বস্তুই প্রধান । বস্তু থেকে চেতনার উদ্ভব । জগৎকে জানা সম্ভব । এটি হচ্ছে দর্শনের বুনিয়াদী প্রশ্নের উত্তর । এই কাঠামোর মধ্যেই কেবল বস্তুর সংজ্ঞা নির্ণয় করা যায় । এঙ্গেলস বলেছিলেন, বস্তুর প্রত্যয় বা ধারণাটি হলো একটি বিমূর্তন, অর্থাৎ বাহ্যিক পৃথিবীর বস্তুসমূহ, প্রক্রিয়াসমূহ, এবং এর সম্পর্কের অসীম বৈচিত্র্যের এক সার্বিক প্রতিফলন …

আরও পড়ুন

আমাকেই কেনো আত্মহত্যা করতে হবে?

‘আত্মহত্যা’ মানে নিজেকে নিজে খুন করা। নিজের জীবনকে নিজেই শেষ করা বা নিজ জীবন হত্যা করাকে আমরা আত্মহত্যা বলি। পৃথিবীর সুন্দর সব কিছুকে ফেলে স্বেচ্ছায় নিজ জীবনাবসানের নাম ‘আত্মহত্যা’। এখানে আমাকেই শব্দের অর্থ ‘নারী’কে বোঝানো হয়েছে। জরিপ করলে দেখা যায়, আত্মহত্যা প্রবণতা নারীদের মাঝেই বেশি। পুরুষশাসিত, ভোগবাদী সমাজে নারীকে আত্মহত্যার পথে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার যথেষ্ট উপকরণ বিদ্যমান। একটা মেয়ে ধর্ষিত হলে, ডিভোর্স হলে, প্রেমের পরাজয় হলে নানান কটু কথা শুনতে …

আরও পড়ুন

জীবনের রেলগাড়ি থেমে গেলো

“গরীবরা চুরি করেনা, তারা পরিশ্রম করে উপার্জন করে। চুরি করে শালার বড়লোকেরা। এই অঙ্ক বুঝিতেই হইবে” “তোমরা না তরুণ, তোমরা না যুবক- তোমাদের ভয় কিসের! তোমরা পারবে না কেন? এই সমাজ, এই পঁচা-গলা সমাজ ভাঙ্গা ছাড়া মুক্তি আসবে না” “সমাজতন্ত্র গণমানুষের একমাত্র মুক্তির পথ”- এছাড়াও অসংখ্য মূল্যবান কথা আছে জসিম উদ্দিন মন্ডল’র ঝুড়িতে। কেউ কেউ বলছেন শেষ কমিউনিস্ট নেতা চিরবিদায় নিলেন। হয়তো অনেক অনেক কমিউনিস্ট নেতার মধ্য থেকে আর কোন …

আরও পড়ুন

বন্ধুত্ব ও প্রেমিকের তফাৎ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘বন্ধুত্ব বলিতে তিনটি পদার্থ বুঝায়। দুই জন ব্যক্তি ও একটি জগত। অর্থাৎ দুই জনে সহযোগী হইয়া জগতের কাজ সম্পন্ন করা। আর, প্রেম, বলিলে দুই জন ব্যক্তি মাত্র বুঝায়, আর জগত নাই। দুই জনেই দুই জনের জগত।’ বন্ধুকে অনেকে প্রেমের সঙ্গে অথবা ভালোবাসার সঙ্গে এক করে ফেলেন। বন্ধুত্ব ও ভালোবাস নিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘ইহা ছাড়া আর একটা কথা আছে প্রেম মন্দির ও বন্ধুত্ব বাসস্থান। মন্দির হইতে যখন দেবতা …

আরও পড়ুন

অপ-তসলিমা এবং তার অপ-সাহিত্য

আমি আতঙ্কের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, আমার অনেক বন্ধু, যারা নারীর পক্ষে লিখছেন বলে মনে করছেন, তারা অনেকেই একটা বিশেষ ছকের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছেন। সেই ছকটা তসলিমার তৈরি। ছকের বৃত্তে বন্দি হয়ে তারা প্রায়শঃই অশ্লীল শব্দে, বিকৃত বাংলায়, অশুদ্ধ বাক্যে তাদের চিন্তার দৈণ্যদশা প্রকাশ করে যাচ্ছেন। যা তসলিমা এবং তার অপসাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আমি বিষয়টাকে নারী তথা আমাদের সুস্থতার জন্য বিপদজনক মনে করেছি। আমি কিছুদিন এদের একটু বাজিয়ে দেখেছি। ফলাফল? ভয়াবহ! …

আরও পড়ুন

ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার: পর্ব-৪

বাংলাদেশের একজন সিরিয়াল কিলার,যার নাম আছে বিশ্বের দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলারের তালিকায়।কে সেই দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার?আসুন তাহলে পরিচিত হই তার সাথে। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মাদালঘোনা গ্রামে তার জন্ম।পেশাজীবন শুরু করেন খুলনা রেল স্টেশনে কুলির সহযোগী হিসেবে।সেখানে রেললাইনের পাত চুরি করে বিক্রি করে এমন একটি দলের সাথে যুক্ত হয়।পরবর্তীতে নিজেই একটি দল গঠন করে। ১৯৭৬-৭৭ সালে রামদা বাহিনী নামে একটি দল গঠন করে।এই রামদা বাহিনী নিয়ে তিনি ১৯৮২ সালে ৪ ও …

আরও পড়ুন

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য

মার্কস ও এঙ্গেলসের দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তবাদ মৌলিকভাবেই সৃজনশীল । এর কারণসমূহ হচ্ছে – (১) পরিবর্তনশীলতা : এই দর্শন প্রতিমুহূর্তে পরিবর্তনশীল । মার্কসবাদ প্রতিমুহূর্তে প্রাকৃতিক জগৎ এবং সমাজ জীবনের নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক অবস্থার ব্যাখ্যা ও পরিবর্তন সংক্রান্ত কাজের ভেতর দিয়ে নানা বৈজ্ঞানিক ডাটা বা উপাত্ত দ্বারা নিজেকেও সমৃদ্ধ করে । (২) শ্রমিক শ্রেণির সমাজবদলের হাতিয়ার : দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ সৃজনশীল হওয়ার এবং বিকশিত হওয়ার কারণ এ দর্শন হচ্ছে বিপ্লবী শ্রমিক শ্রেণির সমাজ …

আরও পড়ুন

মনের বিকৃতি কি আইনে সারে ?

অর্থ নয়, সম্পদ নয়, আমাদের আসলে মানসিক চিকিৎসা দরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বৃহৎ পরিসরে পরিকল্পনা গ্রহন করা দরকার মানসিক চিকিৎসার। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনের আগে আমাদের মানসিক সুস্থতা অর্জন করা দরকার। আমরা, এই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে বসবাসকারী মানুষেরা, ব্যাপকহারে মানসিক বৈকল্যের শিকার। জাতি হিসেবে আমরা অসুস্থ, অসুস্থ, অসুস্থ! পানির একটুকরো পাইপ চুরি করার অপরাধে ময়মনসিংহে এক কিশোরকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে হ্যাচারীর মালিক। ঠিক পাশেই হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আরো তিনটি শিশু/কিশোর! …

আরও পড়ুন

দর্শনে মার্কসবাদ একটি বিপ্লব

মহামতি মার্কস ও এঙ্গেলস সৃষ্ট দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হচ্ছে দর্শনের ইতিহাসে এক বুনিয়াদি বিপ্লব । এটি বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায়ও একটি বিপ্লব । আমরা যদি ইতিপূর্বে সৃষ্ট দর্শনের সাথে মার্কসবাদকে মেলাই তা হলে তফাৎ দেখতে পাবো । দেখতে পাবো মার্কস ও এঙ্গেলস সৃষ্ট নতুন উপাদানগুলো । (১) মার্কসীয় তত্ত্বের সামাজিক দিক : মার্কস-এঙ্গেলস সৃষ্ট দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের সামাজিক গুরুত্ব হচ্ছে তাদের দর্শন শ্রমিক শ্রেণির বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি । তাঁরা দর্শনের সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন শ্রমিক …

আরও পড়ুন

ইসলামপূর্ব আরবে নারীর অবস্থা

ইসলামে বলা হয় ইসলামপূর্ব আরবে নারীর অবস্থা শোচনীয় ছিলো। ইসলাম উদ্ধার করে তাদের। সব ধর্ম ব্যবস্থাই তার পূর্বের ধর্মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে। ঐতিহাসিক ভাবে সাধারণত সেটি সত্যি হয় না। আরব নারীদের ইতিহাসে জানা যায়- ইসলামপূর্ব আরবে অনেক বেশি স্বাধীনতা ও অধিকার ছিলো নারীর। তারা অবরোধে থাকতো না, তারা সব ধরণের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতো। তাদের প্রাধান্যও ছিলো সমাজে। ইসলামপূর্ব আরবে কিংবা মোহাম্মদ যখন সবে তার ধর্ম প্রচার শুরু করছেন তখনও …

আরও পড়ুন

বাংলা ভাষা ও শব্দে পুরুষতান্ত্রিকতার চূড়ান্ত প্রভাব

ছোটবেলায় নীতিকথা পড়তাম- গ্রামে-গঞ্জে এখনও প্রচারিত। ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে,’ ‘ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন যদিও পৃথক হয় নারীর কারণ’। এই নীতিকথাগুলো ভালোই লাগতো। মা,খালা, কাকীরা শিখাতো। কিন্তু চেতনার পরিবর্তনের সাথে সাথে বুঝতে শিখলাম- এই নীতিকথাগুলোতে রয়েছে পুরুষতন্ত্রের একচোখা দর্শন। প্রথম নীতিকথাতে নারীদের প্রতি চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে অবজ্ঞা ও অপমান। কেননা, ‘রমণী’ শব্দে নারী যেন ব্যবহার্য পণ্যে রূপান্তরিত। বলছি, ব্যাকরণের ভাষ্যে, রমণ+ঈ=রমণী। আর ‘রমণ’ অর্থ হলো মৈথুন/রতিক্রিয়া/প্রমোদ-কেলি ইত্যাদি। তাহলে …

আরও পড়ুন

জেগে ওঠো, বহ্নিশিখা

নারীদের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর রাষ্ট্রনায়ক আছে।বৈজ্ঞানিক আছে।সাহিত্যিক আছে।যোদ্ধা আছে।ব্যবসায়ী আছে।ভাস্কর আছে।নভোচারী আছে।শিল্পী আছে।সবকিছু আছে। সব।হাজার বছর ধরে পুরুষদের দমন নিপীড়ন অবদমন বৈষম্যের মধ্যে থেকেও পাথরের ফুলের মতো অদম্য হয়ে ওঠেছে অনেক নারী। শত কোটি প্রতিকুলতার মধ্যেও এগিয়ে এসেছে সভ্যতার মিছিলে।যদি পুরুষ তন্ত্রের শেকল ছিঁড়ে বেড়িয়ে আসতে পারত, তবে নিশ্চিতভাবেই নারী দেখাতে পারত আরো বহু কিছু। এ যুগে গায়ের জোর অচল হয়ে যাচ্ছে। জানোয়ারদের মতো গায়ের জোরে কুক্ষিগত করার পৌরুষত্ব এখন …

আরও পড়ুন

তত্ত্বগত পূর্বশর্তসমূহ

মার্কসীয় দর্শনের আত্মপ্রকাশ নির্ভর করেছিলো সে যুগে দর্শন যতটুকু এগিয়েছিলো তার উপর । ১৯শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদের আত্মপ্রকাশের পূর্বশর্তগুলো গড়ে ওঠেছিলো । তখনকার ক্লাসিকাল জার্মান দর্শনের প্রগতিশীল ভাবধারণা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অবদান রেখেছিলো । সে সময়ের হেগেল ও ফয়েরবাখের দর্শন ছিলো মার্কসবাদের সরাসরি তত্ত্বগত উৎস । মার্কস ও এঙ্গেলস শ্রমিকশ্রেণির বিপ্লবী অবস্থান থেকে হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ এবং ফয়েরবাখের বস্তুবাদকে সমালোচনা করেছিলেন গবেষণার মাধ্যমে । এভাবেই তাদের দার্শনিক অভিমত …

আরও পড়ুন

প্রকৃতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পূর্বশর্তসমূহ

১৯শ শতাব্দীর শুরুর দিকে পৃথিবীতে বিজ্ঞান এমন একটা পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিলো যা দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের আত্মপ্রকাশে সহায়ক হয়েছিলো । বলবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জীববিদ্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিকাশ পৃথিবীর বস্তুগত ঐক্যকে দেখিয়েছিলো । আরো দেখিয়েছিলো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলোর দ্বান্দ্বিক চরিত্রকে । ঐ সময়ের তিনটা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ প্রতিষ্ঠায় বিরাট অবদান রেখেছিলো । (১) শক্তির অক্ষয়তা ও রূপান্তরের নিয়ম : ১৮৪২-১৮৪৫ সালে, জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী জুলিয়াস রবার্ট মায়ার শক্তির অক্ষয়তা ও রূপান্তরের নিয়ম …

আরও পড়ুন

ভাবনার এরোপ্লেন- ১

অন্যান্য ধর্মের প্রভাবে বিশেষ করে বর্বরতম ধর্ম ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের দাবিতে অর্ধমৃত ভাইরাস হিন্দুরাও এক ভয়াবহ মৌলবাদি দানবে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। মৌলবাদের জবাবে মৌলবাদ, ধর্মান্ধতার বদলে ধর্মান্ধতা, খেলাফতের জবাবে রামরাজ্য আমাদেরকে আরো এক কুৎসিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খুব বেশি দূরে নয় শীঘ্রই হয়তো হিন্দু ধর্মান্ধদের দৌরাত্বে কাপঁবে বিশ্ব মানবতা ; ইসলামের মতোই। হয়তো আরো জমে উঠবে এই দুই কুকুরের লড়াই; কোন এক কাল্পনিক হাড়ের দখলের চেষ্টায়। আশ্চর্য হলেও সত্য, আমাদের …

আরও পড়ুন
error: Content is protected !!