লুৎফর রহমান

দাগ

যৌবনে সমাজবিপ্লবের আন্দোলনে জড়িয়ে গেলাম । পরিচয় হলো সজিবের সাথে । ঘটনাচক্রে সজিবের পরিচয় হলো রাতুলের সাথে । রাতুল এতিমখানার মেয়ে । এক হৃদয়বান নিঃসন্তান মা সেখান থেকে ওকে গ্রহণ করে পরম স্নেহে লালন-পালন করেন । রাতুল কলেজে পা রাখতেই মহিলার মৃত্যু হয় । ওর স্বামী ছিলেন খারাপ প্রকৃতির লোক, নেশাখোর । এলাকার নেশাখোরদের সাথে ছিলো তার বিরাট সখ্যতা । এদের কুপরামর্শে নেশার টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে সে রাতুলের রূপকে ব্যবহার …

আরও পড়ুন

আহ্বান

ট্রলারের ফাস্টটিপ ধরেছি । শীতকাল । হাওরের পানি নদীতে নেমে পড়েছে । চর জেগে ওঠেছে । পাখপাখালির কলতানে চারদিক মুখরিত । মাঠে এখন সবুজ ঘাস নতুন স্বপ্নের মতো গজাচ্ছে । কৃষকদের মধ্যে এখন চলছে ফসল লাগানোর জন্য প্রস্তুতি । কুয়াশার প্রলেপ সরিয়ে সকালের সূর্য নীলাকাশকে জ্বলজ্বলে করে তুলেছে । মনের কোণে দুএকটা চেনা গানের কলি আপনা থেকে নড়ে ওঠছিলো । গুনগুন করছিলাম । পাশের যুবকটি বলে ওঠলো, ছাদেইতো, গলা ছেড়ে …

আরও পড়ুন

দ্বন্দ্ববাদ অবধারণা

রূপান্তরের এক পদ্ধতি : অবধারণা হচ্ছে চেতনা ও বাস্তবের পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানার্জন । কোনো বিজ্ঞান শুধু অতীতের জ্ঞানার্জনের ফলই নয়, নতুন নতুন সত্য আবিষ্কারেরও হাতিয়ার । অর্থাৎ যে কোনো মানবিক জ্ঞান নতুন জ্ঞানার্জনেরও পদ্ধতি । সেই অর্থে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ নতুন জ্ঞানার্জনের একটি পদ্ধতি এবং তত্ত্বগতভাবে এই পদ্ধতির গরুত্ব অপরীসীম । ডায়ালেকটিকস নতুন জ্ঞানার্জন ও ব্যবহারিক ক্রিয়াকলাপের সবচেয়ে সাধারণ ও সার্বিক এক পদ্ধতি । তত্ত্বগতভাবে তা বিকাশের প্রবণতাকে …

আরও পড়ুন

দ্বন্দ্ববাদের মূলনীতিসমূহ

বস্তুজগৎ এবং মানুষের চেতনা বিকাশের বিশ্বজনীন সংযোগ এবং বিশ্বজনীন নীতিগুলোর বিজ্ঞান হচ্ছে দ্বন্দ্ববাদ । এবার আমরা এর মূলনীতিগুলো আলোচনা করবো । (ক) বিকাশের বিশ্বজনীন সংযোগ ও মিথষ্ক্রিয়ার নীতি : বস্তু ও ব্যাপারসমূহের সংযোগ হলো বস্তুজগতের সাধারণ নীতি । পৃথিবীর সব বস্তু, প্রক্রিয়া ও ব্যাপারসমূহ অভিন্ন বস্তুগত চরিত্র থেকে উদ্ভুত হয় । বিশ্বজনীন : কোনো বস্তু বা ঘটনার জন্ম, পরিবর্তন, অর্থাৎ গুণগতভাবে এক নতুন অবস্থায় পৌঁছানো বিচ্ছিন্নভাবে সম্ভব নয় । সবসময় …

আরও পড়ুন

দ্বন্দ্ববাদ, সার্বিক সংযোগ ও বিকাশের মতবাদ

একটি বিজ্ঞান হিসেবে দ্বন্দ্ববাদ : এঙ্গেলস দ্বন্দ্ববাদ বা ডায়ালেকটিকসের সংজ্ঞা নিরূপন করেছেন এভাবে, দ্বন্দ্ববাদ হচ্ছে সমস্ত গতি ও বিকাশের বিশ্বজনীন নিয়মগুলোর বিজ্ঞান । জগতের সব বস্তু ও ঘটনাপ্রবাহ সামগ্রিক রূপের এক প্রকাশ, এখানে কোনো কিছুই খণ্ডিত নয় । প্রতিটি বিষয় অবশিষ্ট জগতের সাথে যুক্ত আছে । বস্তু ও ঘটনাপ্রবাহের নিরন্তর বিকাশ হচ্ছে । এই বিকাশের মধ্যে আছে সুশৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা ও সুসম্পর্ক । গভীর সম্পর্কের বন্ধন, অখণ্ড সামগ্রিক বিষয়গত বন্ধন, বিকাশের …

আরও পড়ুন

ভাষা ও চেতনার সম্পর্ক

(১) ভাষা ও চেতনা অবিচ্ছিন্ন : ভাষা ও চেতনা বিচ্ছিন্ন কিছু না । ভাষা হচ্ছে চেতনার একটি ধরণ বা রূপ । চেতনা আত্মপ্রকাশের সময় থেকেই ভাষার বহিরাবরণে ছিলো । ভাষার মধ্য দিয়ে চেতনা বাস্তবে পরিণত হয় । লোকেরা ভাষা দিয়েই চেতনাকে উপলব্ধি করে । ভাষা ও চেতনার কাল একই ।ভাষা হচ্ছে ব্যবহারিক চেতনা । ভাষার জন্ম চেতনার আদান-প্রদানের জন্য । তাই ভাষা ও চেতনা একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে …

আরও পড়ুন

স্থান ও কাল

বস্তুর একটি নির্দিষ্ট আকৃতি আছে, পরিমাণ ও গঠনকাঠামো আছে । বস্তুসমূহ পরস্পরের সাথে একটা সম্পর্কে আবদ্ধ এবং একটা ধারাবাহিকতা তৈরি করে । একটি অপরটির পূর্বগামী হয় বা একটি অপরটিকে প্রতিস্থাপিত করে । বস্তুসমূহের এসব গুণ-ধর্ম বোঝায়, এগুলোর অস্তিত্ব আছে স্থানে ও কালে । স্থান ও কাল বস্তুর অস্তিত্বের বিশ্বজনীন রূপ । স্থান : স্থানের ধারণাটি বস্তুসমূহের অবস্থানের বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করে । স্থান পদার্থসমূহের বিস্তার, সহাবস্থান প্রকাশ করে । স্থানিক সম্পর্কের …

আরও পড়ুন

গতি

পৃথিবীতে গতিশীল বস্তু ছাড়া কিছুই নেই ।সব পদার্থই রয়েছে গতি ও পরিবর্তনের অবস্থায় । এঙ্গেলস বলেছেন গতি হলো বস্তুর অস্তিত্বের ধরণ । গতি ছাড়া কোনো কিছু থাকতে পারে না । (১) বিরাম আপেক্ষিক, গতি অনাপেক্ষিক : পৃথিবীতে বস্তুর গতি ও পরিবর্তন বিরামকে বাতিল করে দেয় না । গতিশীল পদার্থগুলোর কিছু স্থিতিশীলতা থাকে । কিন্তু গতি ও .বিরাম বিচ্ছিন্ন নয় । ধরা যাক একটি মানুষ ঘুমুচ্ছে । মানুষটি আছে বিরামের অবস্থায় …

আরও পড়ুন

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের বস্তু নিয়ে ভাবনা

বস্তুর ধারণা নিয়ে আলোচনায় এঙ্গেলসের বক্তব্য সামনে আসে । তাঁর মতে পৃথিবীর সাথে মানুষের একটি ব্যবহারিক সম্পর্ক আছে । বস্তুই প্রধান । বস্তু থেকে চেতনার উদ্ভব । জগৎকে জানা সম্ভব । এটি হচ্ছে দর্শনের বুনিয়াদী প্রশ্নের উত্তর । এই কাঠামোর মধ্যেই কেবল বস্তুর সংজ্ঞা নির্ণয় করা যায় । এঙ্গেলস বলেছিলেন, বস্তুর প্রত্যয় বা ধারণাটি হলো একটি বিমূর্তন, অর্থাৎ বাহ্যিক পৃথিবীর বস্তুসমূহ, প্রক্রিয়াসমূহ, এবং এর সম্পর্কের অসীম বৈচিত্র্যের এক সার্বিক প্রতিফলন …

আরও পড়ুন

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য

মার্কস ও এঙ্গেলসের দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তবাদ মৌলিকভাবেই সৃজনশীল । এর কারণসমূহ হচ্ছে – (১) পরিবর্তনশীলতা : এই দর্শন প্রতিমুহূর্তে পরিবর্তনশীল । মার্কসবাদ প্রতিমুহূর্তে প্রাকৃতিক জগৎ এবং সমাজ জীবনের নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক অবস্থার ব্যাখ্যা ও পরিবর্তন সংক্রান্ত কাজের ভেতর দিয়ে নানা বৈজ্ঞানিক ডাটা বা উপাত্ত দ্বারা নিজেকেও সমৃদ্ধ করে । (২) শ্রমিক শ্রেণির সমাজবদলের হাতিয়ার : দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ সৃজনশীল হওয়ার এবং বিকশিত হওয়ার কারণ এ দর্শন হচ্ছে বিপ্লবী শ্রমিক শ্রেণির সমাজ …

আরও পড়ুন

দর্শনে মার্কসবাদ একটি বিপ্লব

মহামতি মার্কস ও এঙ্গেলস সৃষ্ট দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হচ্ছে দর্শনের ইতিহাসে এক বুনিয়াদি বিপ্লব । এটি বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায়ও একটি বিপ্লব । আমরা যদি ইতিপূর্বে সৃষ্ট দর্শনের সাথে মার্কসবাদকে মেলাই তা হলে তফাৎ দেখতে পাবো । দেখতে পাবো মার্কস ও এঙ্গেলস সৃষ্ট নতুন উপাদানগুলো । (১) মার্কসীয় তত্ত্বের সামাজিক দিক : মার্কস-এঙ্গেলস সৃষ্ট দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের সামাজিক গুরুত্ব হচ্ছে তাদের দর্শন শ্রমিক শ্রেণির বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি । তাঁরা দর্শনের সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন শ্রমিক …

আরও পড়ুন

তত্ত্বগত পূর্বশর্তসমূহ

মার্কসীয় দর্শনের আত্মপ্রকাশ নির্ভর করেছিলো সে যুগে দর্শন যতটুকু এগিয়েছিলো তার উপর । ১৯শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদের আত্মপ্রকাশের পূর্বশর্তগুলো গড়ে ওঠেছিলো । তখনকার ক্লাসিকাল জার্মান দর্শনের প্রগতিশীল ভাবধারণা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অবদান রেখেছিলো । সে সময়ের হেগেল ও ফয়েরবাখের দর্শন ছিলো মার্কসবাদের সরাসরি তত্ত্বগত উৎস । মার্কস ও এঙ্গেলস শ্রমিকশ্রেণির বিপ্লবী অবস্থান থেকে হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ এবং ফয়েরবাখের বস্তুবাদকে সমালোচনা করেছিলেন গবেষণার মাধ্যমে । এভাবেই তাদের দার্শনিক অভিমত …

আরও পড়ুন

প্রকৃতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পূর্বশর্তসমূহ

১৯শ শতাব্দীর শুরুর দিকে পৃথিবীতে বিজ্ঞান এমন একটা পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিলো যা দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের আত্মপ্রকাশে সহায়ক হয়েছিলো । বলবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জীববিদ্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিকাশ পৃথিবীর বস্তুগত ঐক্যকে দেখিয়েছিলো । আরো দেখিয়েছিলো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলোর দ্বান্দ্বিক চরিত্রকে । ঐ সময়ের তিনটা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ প্রতিষ্ঠায় বিরাট অবদান রেখেছিলো । (১) শক্তির অক্ষয়তা ও রূপান্তরের নিয়ম : ১৮৪২-১৮৪৫ সালে, জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী জুলিয়াস রবার্ট মায়ার শক্তির অক্ষয়তা ও রূপান্তরের নিয়ম …

আরও পড়ুন

দ্বিতীয় অধ্যায় মার্কসীয় দর্শনের আত্মপ্রকাশ ও পূর্বশর্তসমূহ

আমরা যদি দর্শনের ইতিহাস আলোচনা করি, তা হলে এক তীব্র সংগ্রামের দেখা মিলবে ; সেটা হচ্ছে বস্তুবাদ এবং ভাববাদের মধ্যে সংগ্রাম । দর্শনের সৃষ্টিলগ্ন থেকে অনেক দার্শনিক বস্তুবাদের কথা বলে শেষে ভাববাদের স্রোতেই গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন । একমাত্র জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কসই সত্যিকার বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন । তখনকার সমাজে বৈজ্ঞনিক চিন্তার বিকাশ এবং সার্বিকভাবে সমাজের বিকাশের ফল হলো মার্কসীয় দর্শন । বাস্তবে কার্ল মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩) এবং …

আরও পড়ুন

দর্শনের শ্রেণি চরিত্র

আমাদের কালে সমাজের মূল দুটো শ্রেণি হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণি ও বুর্জোয়া বা ধনিক শ্রেণি । পৃথিবীতে এযাবৎকালে যে সব দার্শনিক তত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে এবং এসময়ে বর্তমান আছে তা হয় বস্তুবাদী নয় ভাববাদী । বস্তুবাদ আর ভাববাদের মাঝামাঝি কোনো দর্শন নেই । বস্তুবাদী দর্শন শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পক্ষ কাজ করে আর ভাববাদ ধনিক শ্রেণি ও শোষকগোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করে । এখানেই দর্শনের পক্ষপাতিত্ব, শ্রেণি চরিত্র ফোটে ওঠে । (ক) দর্শন …

আরও পড়ুন
error: এই ব্লগের লেখা কপি করা যাবে না