মোর্শেদ হালিম

রাজনীতি নয় আমি কেন ছাত্র আন্দোলনের কর্মী

  রাজনৈতিক ক্ষমতা হল একই দলভুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা অন্যব্যক্তিদের পরিচালনা করাকে বুঝায়। আর রাজনীতি হল এই ক্ষমতাকে ব্যবস্থাপনার একটা পদ্ধতি মাত্র। যা রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে, সংগঠন পরিচালনার কাজে, দল পরিচালনার কাজে, পরিবার পরিচালনার কাজে কিংবা কখনও কখনও ব্যক্তি যখন নিজেই প্রতিষ্ঠান তখন অন্যব্যক্তিকে পরিচালনা করার কাজে ব্যবহার করা হয়। তাহলে বলুন, একজন শিক্ষার্থীর কেন রাজনীতি করতে হবে? কেন তাকে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে হবে? যে ছেলেটা বা মেয়েটা এখনও ইতিহাস …

আরও পড়ুন

ধর্ম, ব্যক্তি, রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনা

আলোচনার শুরুতেই বলে নেওয়া প্রয়োজন আমি কেন ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। এই বিষয়টা বুঝতে আমাকে প্রচুর সময় অতিক্রম করতে হয়েছে। আমরা যদি একটু সচেতনভাবে বুঝতে চেষ্টা করি তাহলে দেখব, আমরা ব্যক্তিকে কখনই জানতে পারি না।  আমরা যা জানি বলে প্রচার করি তা মূলত, ঘটনা সম্পর্কে সাময়িক ধারণা। আসুন আরো ভিতরে ঢুকে বুঝতে চেষ্টা করি। ধরেন, আব্দুল রহিম ও দীপক শীল দুই বন্ধু। এরা পরস্পর দাঁড়িয়ে কথা বলছে। আমাদের কাছে সাধারণভাবে মনে …

আরও পড়ুন

আবরার হত্যা: নতুন কিছু নয়

ধর্মনিরপেক্ষতা কোন আদর্শ নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তা যেন অন্যের দ্বারা বাঁধাপ্রাপ্ত না হয় তা নিশ্চিত করবে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের নিজস্ব কোন নির্দিষ্ট মতাদর্শ নেই। তাহলে কোন রাষ্ট্র যদি বিশেষ চিন্তাকে গুরুত্ব দেয়, অধিকাংশ ব্যক্তির একই চিন্তাকে সিদ্ধান্ত আকারে নেয়, তা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে পারে না। সংখ্যাধিক্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের এখানেই চরম বিরোধ খুঁজে পাওয়া যায়। আমার দেখি, প্রাচীন দার্শনিক প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রচিন্তা গ্রহণ না করে, মধ্যযুগের রাষ্ট্রগুলো ধর্মীয় আদর্শ …

আরও পড়ুন

তোমাকে বলছি…..কেন ফ্যাসিবাদ দূর হয় না

কুসংস্কারচ্ছন্ন, ধর্মান্ধ, ভক্তিবাদী কর্মী বাহিনী নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না। ইতিহাস কি বলে, ইউরোপী বুর্জোয়ারা যখন গির্জার শাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করল তখন রাজার সঙ্গে আপোস করতে হয়। স্বৈরাতন্ত্রকে সমর্থন দিতে হয়। কারণ পুরোহিতদের সঙ্গে লড়াই করার মতো সক্ষমতা বুর্জোয়াদের ছিল না। সেকালে পুরোহিতরা জনগণকে ব্যক্তিস্বাধীনতা দেয়নি। ঈশ্বরের কাছে মাথা বন্ধক রাখতে হত। কেননা ধর্মও একপ্রকার সমাজবাদী আন্দোলন। জোটবদ্ধভাবে ঈশ্বরের বিধি নিষেধ মান্য করতে হত। ধর্মে ব্যক্তির কোন …

আরও পড়ুন

সেপ্টেম্বর শুধু উৎসব নয়: বদলা নেয়া হবে

মহান ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল বর্তমান বংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের পথচলা। এই প্রতিষ্ঠানের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে এ দেশের ছাত্র আন্দোলনে সূচিত হয় দেশপ্রেমিক ও বিপ্লবী ধারার। জন্মলগ্ন থেকেই ছাত্র ইউনিয়ন শিক্ষার অধিকার অর্জন, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শোষণ ও নিপীড়নের অবসান, সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল, সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র ও নয়া ঔপনিবেশক শোষণের হাত থেকে মুক্তি এবং দেশে একটি সুখী-সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নিরবিচ্ছিন্ন ও আপোসহীন লড়াই পরিচালনা করছে। …

আরও পড়ুন

কমিউনিস্টরা বিভ্রান্ত, উত্তরণের উপায়

রাষ্ট্র গঠনের উপাদান হল, সার্বভৌমত্ব, জনগণ, ভূমি ও প্রশাসন। চারটি উপাদান থাকলে আমরা তাকে রাষ্ট্র বলতে পারি। কমরেড লক্ষ্য করুন, সামন্তযুগে বুর্জোয়াদের রাষ্ট্র ছিল না। তারা রাজার অধীনে সামন্তসমাজে বসবাস করত। তাদের কর্তৃত্ব বলতে কিছু ছিল না। রাজা-জমিদারদের অত্যাচার শোষণ থেকে মুক্তির জন্য তারা আন্দোলন সংগ্রাম করে, শ্রেণিসংগ্রাম করে এবং রাজতন্ত্র ও ধর্মতন্ত্র উচ্ছেদ করে ইউরোপীয় ও মার্কিনীয় বুর্জোয়ারা তাদের ধনীর জাতীয়তার ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রস্তুত করল। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার, অধিক …

আরও পড়ুন

কার্ল মার্কস প্রসঙ্গ: নৈতিকতা ও মানবিকতা

মার্কসবাদী বিরোধী শিবির প্রথমই যে আঘাতটা করে তা হচ্ছে মার্ক্সবাদে নৈতিকতার কোন স্থান নেই। মার্কস-এঙ্গেলস কে শয়তান হিসেবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একজন টাকার উড উন্নতম। হ্যা, আমাদের স্বীকার করতে আপত্তি নেই, মার্কস-এঙ্গেলস সনাতনী নীতিবিদ ছিলেন না, উনারা অপরিবর্তনীয় ধ্রুব নীতিসর্বস্ববাদী কায়দায় যে নৈতিকতা তৈরি হয় তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। মার্কসের পূর্বের দার্শনিকদের বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখব কেউ কেউ ধর্মের প্রত্যাদেশ কে মেনে নেয় আবার কেউ কেউ নৈতিকতার মানদণ্ডের …

আরও পড়ুন

মার্ক্সীয় সাম্যবাদ অনিবার্য

ইউরোপে ১৬৮৮ সালে ইংলিশ বিপ্লব ও ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের পথধরে পুঁজিবাদ যাত্রা করে। দীর্ঘ কালপর্যায়ে ইউরোপীরা দুনিয়ার প্রায় অঞ্চল তাদের উপনিবেশিক শাসনে পরিণত করেছিল। কার্ল মার্কস কমিউনিস্ট ইশতেহার রচনা করেন ১৮৪৮ সালে। এরপূর্বেই স্বাধীনতা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ইংরেজ হঠাও, স্বাধীনতা নয় মৃত্যু এমন স্লোগান দুনিয়া জোরে উচ্চারিত হতে থাকে। যেমন, আমেরিকা স্বাধীন হয় ১৭৭৬ সালে, রুশ বিপ্লব হয় ১৯১৭ সালে, দেশভাগ হয় ১৯৪৭ সালে ইত্যাদি। সাম্রাজ্যবাদ বিষয়টা আসলে কি? …

আরও পড়ুন

আমি কেন অবিশ্বাসী

দর্শনের অগ্রযাত্রা থেমে নেই। সময় যতই অতিক্রম করছে ঠিক ততই আমরা নতুন নতুন জ্ঞানের সন্ধান পাচ্ছি। তাই চূড়ান্ত জ্ঞান এবং তাতে স্থিরতা বলে কিছু নেই. বিজ্ঞানও আমাদের ধ্রুব সত্য দিতে পারে না। আমরা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে সাময়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি। আপাতভাবে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য অধিকতর যৌক্তিক ও প্রমাণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি। এই সিদ্ধান্ত ততক্ষণই অপরিবর্তিত থাকে যতক্ষণ গ্রহীত সিদ্ধান্তের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অক্ষুণ্ন ভাবে বাস্তবে বিদ্যমান। এই বাস্তব পরিস্থিতি বদলের …

আরও পড়ুন

বাঙালী ছাত্র ইউনিয়ন

১৯২৪ সালের শেষের দিকে বর্মার গোপন পার্টির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় “সারা বর্মা বাঙালী ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়। নামে বাঙালী ছাত্র হলেও অবাঙালী ছাত্ররাও এর সদস্য হতে পারত।অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এই ছাত্র ইউনিয়ন তার শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং বর্মার বাঙালী ছাত্র-ছাত্রীদের অতি প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়। সেই সময় বিপ্লবী ছাত্র কর্মীরা এই সংগঠনের সদস্য ছিল। এই সংগঠন বহু বিপ্লবী কর্মীর জন্ম দিয়েছে। রেঙুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেরা ছাত্র জ্যোতীশ যিনি …

আরও পড়ুন

বুদ্ধিভিত্তিক আন্দোলন : আমাদের করণীয়

অপরিবর্তনীয় নৈতিক আদর্শই হল ঈশ্বরবাদের মূল ভিত্তি। কিন্তু মার্ক্সবাদ বলে সম্পূর্ণই তার উল্টা কথা। পরিবর্তনশীলতাই হবে মানুষের প্রকৃত আদর্শ। কিন্তু দুইদিন পরপর বদলে যাওয়াকে…আমরা মানুষেরা…এই সত্য মানতে পারি না। আমরা উদ্ভিতের মতো শিকড় গেড়ে বংশবিস্তারে অভ্যস্থ। আমরা নিজ শরীর না খাটিয়ে…অন্যেরটা খাটাতে পছন্দ করি। আমরা আরাম প্রিয়…পুরনোপ্রীতি নতুনভীতি সংগ্রাম বিমুখ শান্তিকামী মানুষ। ঈশ্বরবাদ মানুষকে নিশ্চয়তা দিতে পারে, স্বপ্ন দেখাতে পারে…যদিও বিশ্বাসীরা কার্যত পরিবর্তনশীল ও জিহাদি…তবু শুধু চৈতন্যগত ভাবে অপরিবর্তনীয়, আটকে …

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে আমার ভাবনা

সাম্প্রতিকালে ছাত্রলীগ পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করতে চাইতেছে। মধুর ক্যান্টিনে আশে-পাশে অন্য কোন ছাত্রসংগঠন আছে বলে তারা মনে করে না। একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। আমি এর কারণ গুলি খুঁজতে চেষ্টা করেছি মাত্র। সকল মহল থেকে ‘ছাত্র সংসদের’ দাবিটা জোরালো ভাবেই তুলা হচ্ছে। সুপ্রীম কোটও বারবার সময় বেঁধে দিচ্ছে। আওয়ামীলীগের একাংশ ডাকসু নির্বাচন চায়। ফলে প্রশাসন এই বিষয়ে বেশ চাপেই আছে বলে মনে হয়। আপনাদের মনে আছে রাজুর দেয়ালচিত্র মুচে ফেলতে …

আরও পড়ুন

মার্ক্সীয় নৈতিকতা ও করণীয়

কার্ল মার্কস হেগেলের দ্বন্দ্ব থেকে ভাব কে বিতাড়িত করেন। কাণ্টের দর্শনের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেন হেগেল। তাই হেগেল বাতিল হলে আলাদা করে কাণ্টকে বাতিল করতে হয় না। এবং কাণ্টের বাতিলের মধ্য দিয়ে সকল আদর্শিক ধ্যাণ ধারণা বিলুপ্ত হয়। ফয়ের বাকের বস্তুবাদ ছিল যান্ত্রিক। তিনি বস্তুর পরিমাণগত পরিবর্তন কে স্বীকার করলেও মন ও চেতনা কে নাকচ করেন। কিন্তু মার্কস দেখালেন যে বস্তুতে চৈতন্য আছে কিন্তু তা বস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বরং চৈতন্যও …

আরও পড়ুন

আমি আদর্শবাদী নই, বাস্তবিক

আমরা ঠিক করেছি শোষণহীন সমাজের আদর্শ কমিউনিজম। এখানেই আমার আপত্তি। কারণ মার্কসের আগে সমাজবাদী ও সমাজতন্ত্রীরা আদর্শ বলতে নৈতিক, শুদ্ধ মঙ্গলকর সমাজের কথা চিন্তা করতেন। এবং তার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। মার্কস এই আদর্শবাদকে খারিজ করে দিয়েছেন। বরং বাস্তব সংকট পুঁজি, মুজরি ও সেলামির বিলোপ চান। তিনি বদলে দিতে বলেন বাস্তবতাকে। স্বাভাবিক ভাবেই পুঁজি না-থাকলে, সেখানে সামাজিক প্রক্রিয়া চালু হবে, সেইটাই তখনকার বাস্তবতা। এইটা বস্তুগত অধ্রুব সত্য। এখানে আদর্শের কোন …

আরও পড়ুন

আমি কেন লেনিনবাদী নই

এই অঞ্চলের কমিউনিস্টরা মার্কসবাদ জানে লেনিনের চোখ দিয়ে এদের নিজস্ব কোনো দৃষ্টিভঙ্গি এখনো দাঁড়ায় নি বলেই আমরা মনে করি। কেননা এ-যাবত কার্ল মার্কস সকল সমতাবাদী, সমাজবাদী, কাল্পনিক সাম্য-মৈত্রীকে ধুয়ে দিয়েছেন। তিনি পরোক্ষ ভাবে সকল প্রচলিত স্বদেশ ও জাতিসত্তার বিলোপের কথা বলেছেন। অথচ আমরা দেখে থাকব লেনিনবাদী-মাওবাদীরা জাতিসত্তার স্বাধীন বিকাশে মগ্ন। এইটা প্রলেতারিয়েতের পার্টি করবে না। কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে যখন স্বদেশ ও জাতিসত্তার বিলোপের নিন্দা করা হয় তখন মার্কস তাদের বলেন, “শ্রমজীবীদের …

আরও পড়ুন
error: এই ব্লগের লেখা কপি করা যাবে না