সংবিধান সাংবিধানিক নয়

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে (কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরুপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।) এই অনুচ্ছেদ নিয়ে যথেষ্ট আপত্তি আছে অনেক বিজ্ঞ আইনবিদদের। আমি আইনের ছাত্র হিসেবে অবশ্যই আমার নিজস্ব মতামত অনেক আগেই এক লেখায় আমি জানিয়েছিলাম। এই অনুচ্ছেদ কেনো সংবিধান বিরোধী নয় এই শিরোনামে। ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক মতদানের স্বাধীনতাও খর্ব হয় এই ৭০ অনুচ্ছেদ দ্বারা।

নির্দিষ্ট একটি দল অনেক সময় অনেক ভুল কাজ বা সিদ্ধান্ত নিতেই পারে নিজ স্বার্থ উদ্ধারে তখন কোন সংসদ সদস্য সে একই ভুল সিদ্ধান্তে একমত না হলে তার সংসদীয় পদ শূন্য হবে এতে কি তার দেশপ্রেম অথবা সততা খর্ব হবে না! আবার অন্যদিকে সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সেক্ষেত্রেও তার সংসদীয় পদ শূন্য হবে। যদিওবা ৯৯.৯% সাংসদ কখনোই নিজ দলের বিপক্ষে যান না। কারণ হিসেবে প্রধান কি তা আপনারাই জানেন। এমনও হতে পারে বিরোধী দলীয় কোন প্রার্থী এমন একটি প্রস্তাব করেছে যা দেশ ও দশের কল্যাণকর এবং তাদের ভোট দিয়ে সে প্রস্তাব জয়ী করা একজন আদর্শ দেশপ্রেমীক হিসেবে একজন সাংসদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ালো কিন্তু সে বিরোধী দলকে ভোট দিতে পারবে না। ভোট দিলেই তার সাংসদ পদ শূন্য হয়ে যাবে। এক কথায় বিরোধী দলের ভালো কোন সিদ্ধান্তেই কোন সাংসদ ভোট দিতে পারবেন না। এতে করে কি একজন সাংসদের সাংসদীয় একজন ব্যাক্তিগত মতামত প্রদানের অধিকার হারায় না? বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধান বিরোধী।

মহামান্য হাইকোর্ট এই ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে করা রিটটি খারিজ করে দিয়েছে। কেনো এবং কি কারণে এই রিট খারিজ করেছে তা নিয়ে নিশ্চয় এখন প্রশ্ন করা যাবে না। তবে আমি আইনের ছাত্র হিসেবে যতটুকু বুঝার ক্ষমতা অর্জন করেছি তা থেকে বলতে পারি সারাজীবন এই ৭০ অনুচ্ছেদ আমাকে ভাবাবে, অপরাধী করে তুলবে এর পক্ষ হিসেবে যখন একদিন আমাকে থাকতে হবে। ৭০ অনুচ্ছেদের মতোই আরো কয়েকটি অনুচ্ছেদ পবিত্র সংবিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তার মধ্যে ২ নং অনুচ্ছেদের (ক) রাষ্ট্রধর্ম অন্যতম। সংবিধানের প্রস্তাবনায় যদিওবা বলা হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা। আইন পড়া এখনো শেষ হয়নি তারপরেও সংবিধান নিয়ে আলোচনা করার সাহস করেছি, এই সাহস শুধুমাত্র আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমার এই আলোচনায় ব্যাখ্যায় হয়তো ভুল থাকতেও পারে, আমার অনুভূতি শেয়ার করেছি মাত্র।

শেয়ার করুন

ব্লগার শিপ্ত

শূন্য দশকের অপরাধ