নিস্তব্ধতায় তুমি!

রুম নাম্বার-৭০৭

()

এক.
চারিদিকে রিক্সার কলোরব, ফুটপাতের কোলজুড়ে ফুল বিক্রেতারা ‘আফ্রোদিতির’ জন্য ফুলের মালা তৈরির কাজ নৈপুণ ও দক্ষতার সাথে শেষ করছে কারিগররা।তার পাশে মস্ত বড় দেয়ালের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে আমার আফ্রোদিতি।
জয়িতা আমার কাছে গ্রিক-রোমান প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবীর বাস্তব রুপ।আহা! কত মধু মাখা কালো কেশ। আমার আফ্রিদিতির সাথে পৌরণিক আফ্রোদিতির পার্থক্য শুধু হৃদয়ে,পৌরণিক দেবীর হৃদয়ের বিশালতা সম্পর্কে আমার ধারণা নগণ্য, কিন্তু তার প্রেমিকের সংখ্যা ছিল অসংখ্য!
আর আমার দেবীর হৃদয়ের বিশালতার কাছে, বঙ্গোপসাগরে বিশালতা নগণ্য। কিন্তু এখনো কোন দেবতা পদচারনার সুযোগ লাভ করেনি।

জয়িতা এক হাতে পানির বোতল, বাঁ হাতে বই, ভেজা চুলগুলো খোলা এবং মেয়েদের সারা জীবনের কাঁধের সঙ্গী ভ্যানিটি ব্যাগ। ফোনে কল আসায় বইটি রুদ্রর কাছে দিল-
-‘হ্যালো দোস্ত?’
-কোথায় আপনি? আপনার সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় ২০ মিনিট ধরে তপস্যা করছি!
-সরি রে আমি আসতেছি, কোথায় তুই?
বিশাল মহাযজ্ঞ কে বিদায় জানিয়ে, ‘যজ্ঞের ব্রাহ্মণদের উদ্দেশ্যে করে জয়িতা বললো, তোরা থাক আমি চললাম।রুদ্র এই বইটি তুই নিয়ে যাস।’
এই বলে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে হাটা শুরু করল।
হঠাৎ ফোনের অপরপ্রান্ত থাকা আমি-
থাক তোর আর আসতে হবে না, তুই আড্ডা দে।
-আরে বললামতো কোথায় তুই?

মাঝে মধ্যে জয়িতা মায়াবী চোখের মায়ায় পরার সৌভাগ্য হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য দাতা জয়ীর চশমা,যে ব্যক্তি মায়াবী চোখ দুটিকে আগলে রাখে।কখনো কখনো ক্লান্ত হয়ে চশমা মহাশয় একটু নিচে নেমে যায়, মনে হয় মহাশয় বেচারা চোখের এতপ্রেম সহ্য করতে পারছে না। তাই বা হাত দিয়ে মোবাইলে কানে ধরা ও ডান হাতে পানির বোতল নিয়ে ছুটে চলা অবস্থায় ,ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি একটু ভাজ করে হালকা ধাক্কা দিয়ে চশমা বেচারাকে বাধ্য করছে প্রেমে পড়তে!নয়তোবা চশমা পরকীয়ার অপরাধে সাজা প্রাপ্ত হচ্ছে।তাই ফ্রেমকে পরম যত্নে উপরে তুলল। জয়ীর স্টাইল এর কাছে সুচিত্রা সেনের কারিশমা তুচ্ছ বলা যায়।মাঝে মধ্যেই কারিশমায় মুগ্ধ হয়ে দর্শকদের ভূমিকা পালন করি।

-বলনা কোথায় তুই?
– তোর কোথায় আসার কথা ছিল?
-আচ্ছা পাঁচ মিনিট দাঁড়া ,আমি আসতেছি।
-দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? বসে থাকা যাবে না?
-হ্যাঁ, তোর এক পা উঁচু করে দাঁড়িয়েই থাকতে হবে!

হঠাৎ রিক্সাওয়ালা পানে, মামা যাবেন?….. মামা যাবেন?…. বলা যায়, এটি একটি রিকশা নেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। জয়িতা হাটে আর রিক্সা ডাকে ,চুলগুলো বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় চুলগুলো ওর চোখের সাথে লুকোচুরি খেলছে।
এক বিরক্তকর মেজাজে ইভটিজারকে চুলগুলোকে কানের ওপাশে জেলে মধ্যে ঢুকিয়ে দিল।যাতে জয়ীকে দেখতে না পারে। হঠাৎ এক রিক্সাওয়ালা, এই মামা কই যাইবেন?
এবার রিক্সা কপালে জুটলেও পেয়েছে ভাড়া হিসাব মেলে না।

ঢাকার রিকশাওয়ালা মামাদের এক ধরনের জ্যোতিষী বলা যেতে পারে। তারা কিভাবে যে মানুষের ব্যস্ততা বা বিপদের কথা বুঝতে পারে।প্রায়ই আমি রিক্সাওয়ালা মামাদের অন্তর্যামী বলি। তারা আসলে মানুষ দেখে মনের খবর দেখে ভাড়া বলেন।
না হলে কিভাবে এত মায়াবী একটি মেয়ের কাছে ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা দাবি করে।
অবশেষে অর্থনীতির চাহিদা ও যোগান রেখার মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণ করা হলো ৩০ টাকা।

দুই.
-সরি রে!
-হইছে মহারানী আপনার ঢং করতে হবে না। আপনি আমাকে একটু এটা বুঝিয়ে দিয়ে উদ্ধার করেন। আর নিজেও উদ্ধার হন।
-জাহাঁপনা! আপনাকে না হয় উদ্ধার করলাম কিন্তু আমি আমাকে উদ্ধার করব কিভাবে?
-তাহলে সজীব ভাই কে ডাকি ,সে আপনার উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করবে।
-সজীব ভাইটা আবার কোন মহামানব ? যে আমাকে উদ্ধার করতে তাকে প্রয়োজন?
– কেন আপনাকে উদ্ধার করতে আবার মহামানবের প্রয়োজন হবে?
-আমি তোদের মত সাধারণ মানুষ না-কি?
অট্টহাসির শহরের আনাচে-কানাচেতে ভেসে ভেসে মধুর ককিলা সুরে পরিণত হচ্ছে।
জয়ীর হাসি মাখা মুখেই শোনার তীব্র ইচ্ছে নিয়ে যখন জিজ্ঞেস করল,
-আচ্ছা তুই কি এবার ফাইজলামি বাদ দিবি নাকি বলবি কি হয়েছে?
-এই নে, আমাদের থার্ড ইয়ারের সজীব ভাই তোর সাথে পত্রমিতালী করতে চায়।
-আবারও তোর ঢং। তুই আজকালতো মেয়েদের চেয়েও বেশি ন্যাকামি করিস!
-আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে তুই এটা নিয়ে আমাকে যমের দুয়ার থেকে রক্ষা কর।
-মানে?
-কচি খুকি তুমি, এখন কিছুই বোঝনা?
-আমি কিছু জানি না। আমার কাছেতো দেয়নি, তোর কাছে দিয়েছে তুই না হয় তোর সজিব ভাইয়ের সাথে চিঠি আদান-প্রদান করে আমাকে একটু রক্ষা কর।
-বিনিময় আমি…?
-এই যে আমি তোকে পড়াচ্ছি!
-জ্বি না! এত গভীর মামলা কি এতো সহজে জামিন হয়?
-আচ্ছা তাহলে তোর কিছুই করতে হবে না। আমি এই….
হঠাৎ কত থামিয়েই আমি বললাম, থাক তোর কিছু করতে হবেনা ।পরে বলবি নে,আমিই তোরে এমন পরিবেশে ফেলায়ে মজা নিয়েছি।

জয়ী শাসন করে পড়ানোর সময় , ওর শাসন কে খুব মিষ্টি লাগে। কোন এক মোহে ওর পানে চেয়ে থাকি। যেন তার শব্দবুলির একনিষ্ঠ শ্রোতা। উচ্চারণ কিংবা বাচনভঙ্গিতে হয়তো এই শ্রোতার অভিযোগ নেই।আমার এই অভিযোগহীনতার স্বভাব অদূর ভবিষ্যতে হয়তো কাঁদাবে।
আমার নিজের অজান্তেই তাকে ভালোবেসে ফেলেছি। যেহেতু নিজের অজান্তেই, তাই এটা দেবীর অজান্তেই রয়েছে। হয়তোবা কোনদিন প্রকাশের সুযোগ আসবেও না, কিন্তু বুকের ভেতরের আর্তনাদ জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলছে।

তিন.
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের দিনের সঙ্গী হয় শুধু এক দীর্ঘ আশ্বাস। এইতো নীলিমা প্রায়ই ডাকে রেস্টুরেন্টে কিন্তু পড়ানোর নাম করে কিংবা ক্লাস আছে, সময় পেলে দেখা করব -এমন মিথ্যা আশ্বাসই হয় একমাত্র সম্বল হয়।
আমাদের পাশের মেয়ে নীলিমা।ওর বাবা পাশের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।সুখ্যাতি ও কুখ্যাতি দুটোই রয়েছে। তবে কুখ্যাতির পরিমাণই বেশি। নিলীমা আজ দেখা না করে ছাড়বেই না।
উত্তরে বলেছি, লালবাগ স্টুডেন্ট পড়ানোর পরে সময় পেলে দেখা করব।
কিন্তু ফোনে থাকা অপর প্রান্তের মানুষটি, সময় পেলে দেখা করব কথায় একটু অভিমানী হলো।
যদিও তার এই ডাকা নতুন কিছুই নয়, মাঝে মধ্যেই অবুরোধ আসে ২০ মিনিটের জন্য হলেও সাক্ষাৎ করার। তবে প্রায়ই তাকে দেখি বিভিন্ন মানুষের সাথে। তবে একটি কথা অনস্বীকার্য যে,নীলিমা অসাধারণ একটি মেয়ে। খুব সহজেই মানুষের সাথে মিশতে পারে, মানুষের মনের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে।

রিয়াকে পড়াতে যাচ্ছি লালবাগে। লালবাগ যাওয়ার একমাত্র সঙ্গী পুরান ঢাকার চিপাগলি।বাসা থেকে লালবাগে যেতে ২০ মিনিটের মত লাগে। কিন্তু রিকশায় সেখানে ৪০ মিনিট। তাই মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড়িয়ে বলতে থাকি, এ শহর বড় অদ্ভুত শহর। দীর্ঘশ্বাস ফেলে হেঁটে হেঁটেই রিয়াদের বাসার দিকে যাচ্ছি।
রিয়ার খুব মিষ্টি একটি মেয়ে। ক্লাস ফাইভে পড়ে। এইতো সেদিন বলল, স্যার আপনার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই?
আমার দুচোখ কপালে উঠে গেল। শাসন এর কন্ঠে থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। ওর মিষ্টি ও মায়াবী চেহারার দিকে তাকানোর পরে শাস্তি দেওয়ার সাধ্য কারো নেই।শাসন করতে গেলেই অট্টহাসি লেগেই থাকে। মাঝে মাঝে মনে হয় রিয়ার সাথে আমার আফ্রোদিতির কোন সম্পর্ক রয়েছে।

হঠাৎ জয়িতার ফোন এলো, আশেপাশের কোলাহলের শব্দে কথা বোঝাই সাত পুরুষের ভাগ্য বলে যেতে পারে-‘হ্যালো …
-‘হ্যাঁ বল।’
-কোথায় তুই?
-পড়াতে যাচ্ছি। কথা বোঝা যায় না…..
-পড়ানো শেষ কখন? শেষ করে ফোন দিস কাজ আছে।
-নারে আজকে পারবনা, আমার একটু কাজ আছে।
জয়িতাকে নীলিমার সাথে দেখা করার কথা বলার সাহস পেলাম না। নীলিমার কথা শুনলেই রাগ করে।যদিও জয়ীকে রাগলে খুব মিষ্টি লাগে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই রাগাই ‌।
এদিকে ফোনের শব্দ ভেসে আসে তীব্রভাবে। এখন সমস্যা হল যদি জয়িতার কথা শেষ করতে দেই তাহলে ওকে না বলার অধিকার, ঠিক অধিকার বলা যায়না সাহস বলা যেতে পারে, সেটা আমার নেই।তাই পড়াতে যাওয়াটাই সবার মঙ্গল।

চার.
নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে, যদিও রাগ ভাঙ্গানোর মাসুল দিতে হলো দুই প্লেট ফুচকা । জয়ী সবথেকে বেশি ভালোবাসে ফুচকাকে।তাই মাঝে মধ্যেই বলি, ইস!আমি যদি ফুচকা হতাম আর ফুচকা না হলে-ও ফুচকায়ালা হতাম।তাহলেতো কিছুটা ভালোবাসা পেতাম। সেটা যখন অসম্ভব, তাই আমিও চেষ্টা করছি ফুচকাকে হৃদয়ে জায়গা করে দেওয়ার। তাহলে হয়তো ফুচকার মত আমিও ওর সঙ্গী হতে পারবো কিন্তু সমস্যা হল জয়ীর ফুচকার ঝাল, ঝালকে আমার এক ধরনের শত্রু বলা যায়।
ধ্যানের জগৎ থেকে বের হয়ে নীরবতা ভেংগে বলেই ফেললাম, দেখো কতটা নিলজ্জের মত একা একা খাচ্ছে, একবার বলছেও না তোর টাকায় খাচ্ছি যেহেতু খাবি তুই!
-তুই তো খাস না যেকারনে তোকে বলি না!আর তুই এত ঝাল খেতেও পারবি না।
যাক ,আমার উদ্দেশ্য সফল? অবশেষে ওর হাসি দেখতে পেলাম। হঠাৎ হাসি থামিয়ে জয়ী বলল, আচ্ছা তুই কি আমার হাসি দেখার জন্য এমন কথা বললি?
-কই নাতো…..
জয়িতা নিজের মত করে খেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি মনে মনে ভাবছি, তাহলে জয়ী ও কি রিক্সাওয়ালা আমাদের মত অন্তর্যামী হয়ে গেলো? যে মনের কথা বুঝতে পারে। কিন্তু আবার চিন্তা করি, না জ্যোতিষী হলে তো আমার হৃদয়ের না বলা কথা বুঝতে পারতো। তাই অন্তর্যামী ভাবার চিন্তা থেকে বেরিয়ে এলাম ‌।

হঠাৎ সজীব ভাইয়ের অপ্রত্যাশিত প্রবেশ, আমার কল্পনাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিল। কল্পনা কল্পনাতেই রইল।
-নিলয় তুই একটু একটু পাশে যা,জয়ীতার সাথে আমার কিছু ব্যক্তিগত কথা আছে।
সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য গালি জমা পরে গেল সজিব ভাইর ভান্ডারে,যদিও মনে মনে।নিলজ্জ কোথাকার!
কিন্তু কিন্ডার গার্ডেনে পড়া বাধ্য শিশুর মত পাশে গিয়ে বসে আছি। যদিও জয়ীতা ইঙ্গিতে যেতে না বলেছে। কিন্তু আমি নিরুপায়। আবার টেনশনে আছি, কারণ গতকাল সজিব ভাইকে বলেছি, আমরা চার বছর যাবত দুজন দুজনাকে ভালোবাসি..!!!
কেন এমন মিথ্যে বলেছি, নিজেই জানি না। বলা যায় নিজেরই অজান্তে! কিন্তু জয়িতাকে সাহস করে বলতে পারিনি। চিন্তা যেন ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।
কিছুই বুঝলাম না জল কতদূর গড়ালো। নির্বোধ বালকের মতো চোখ বড় বড় করে নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে আছে।

খুব বেশি চিন্তা মাথায় ধরা দিলে, আমার ওপরের ঠোঁট নিচের ঠোঁটের সাথে ক্রমাগত ধাক্কা খেতে থাকে। আর বিকট এক ধরনের শব্দ হতে থাকে।এমন শব্দ হয় শীতে কাঁপলে নয়তোবা ছোট সময়ে দাদা ভাইয়ের কাঁধে উঠে গাড়ি চালাচ্ছি।
কিন্তু আজ একটু শব্দ বেশি বেরোচ্ছে। তাই বলা যায় চিন্তার পরিমানও বেশি।
সজীব ভাই চলে গেল। আমি ওর কাছে গিয়ে বললাম-কিরে কি বলল?
-কিছু না এমনি!
-বলবি না?
-সত্যি তেমন কিছু না….
-সত্যি তো?
-হু, কেন তোর কি মনে হয় কি বলবে?
-আমি কিভাবে জানব? আমি কি এখানে ছিলাম?
যাক বাঁচা গেল! মনে মনে বিড়বিড় করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। মনে হলো জেল থেকে মুক্তি পেলাম।
-ক্লাসে যাবি না? সময় হয়ে গেছে ।
-হ্যাঁ, চল ক্লাসে যাবো।

ক্লাসে বসে বারবার ওর দিকে তাকাচ্ছি। আর ওকে বুঝবার ব্যর্থ নকশা করার চেষ্টা করছি।

দুদিন ক্লাসে যাচ্ছি না। ইচ্ছে করে বলা যেতে পারে। যদি একটা গোপন কারণ আছে।সেটা না জানাই থাক।
আগামি পরশুদিন ঢাকা মেডিকেলে ওর বোনের জন্য রক্ত দিতে বলেছিল। তাই রক্তদানের সময় ভেবেছিলাম হয়তোবা রক্তদানের পরে দেখা মিলবে। কিন্তু ভাগ্য খারাপ, ভাগ্য আমার সাথে ছিল না। তবে এর দুটি কারণ, প্রথমটি জয়ী রক্ত দেখতে পারেনা। দ্বিতীয় টি জয়ী খুব ব্যস্ত। তাই ব্যস্ত থাকায় কলও দিচ্ছি না। আরো জয়ীও দিচ্ছে না।
বাসায় বেলকুনিতে পায়চারি করছি, এমন সময় জয়ীর ফোন এলো……হ্যালো বলার আগেই, কিরে কথা তোর কোন খবর নেই, মারা গেছিস নাকি!
-মনে কর তাই!!
-তাহলে কথা বলছি কার সাথে?
-ভুতের সাথে! আমরা আত্মা এখন ভূত হয়ে আছে।
-ও আচ্ছা, তাহলে একটা কাজ কর তোর আত্মাকে বল বিকেলে মাঠে এসে আমার ঘাড় ভেঙ্গে রক্ত খেতে। পরে না হয় আমার আত্মা ভূত হয়ে তোর আত্মার সাথে ঘুরবে। তবে আমার বিশ্বাস আমার আত্মা তোর আত্মার চেয়ে ভালো ভূত হবে।
– ও তাই নাকি….কখন আসতে হবে?
-বিকেল চারটায়।
বিকেলে মাঠে গিয়ে শুনলাম, ওর এক মামা নাকি তার এক বন্ধুর বিদেশ ফেরত ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলো ওর জন্য প্রস্তাব নিয়ে।তাহলে কল না দেওয়া বা ব্যস্ত থাকার কারণ পরিষ্কার হলো।
ছেলে জয়িতাকে দেখে পছন্দ করেছে। আর ওদেরও অনেকের নাকি পছন্দ হয়েছে।
-কিরে তুই তো মোটা হচ্ছে! মানুষতো বলে রক্ত দিলে চিকন হয়। ভালো ভালো খাবার খেতে হয়। কিন্তু তুই তো ব্যতিক্রম।
উত্তরে বললাম,হয়তো হচ্ছি।
-কিরে রাগ করছিস?দোস্ত খুব সমস্যার মধ্যে ছিলাম এই কয়দিন।
-রাগ করার ক্ষমতা আছে আমার!
-তুইতো আবার রাগহীন মানুষ।আচ্ছা কোন প্রানীর রাগ নেই?
-জানি না।
জয়িতার বিভিন্ন রেসিপি টেস্ট করার মেশিন হলাম আমি। সে নতুন নতুন রান্নাআবিস্কার করে, আর আমি সেটা নিয়ে গবেষণা করি।তাই বরাবরই গবেষণারফলাফল আমারই হাতে থাকে। কিন্তু সে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়। তার ফলাফল ভালো হবে সে আত্মবিশ্বাসই তাকে দুর্বল করতে পারেনা।
সত্যি বলতে এখনো পাইনি যে রান্না খারাপ হয়েছে। তাই মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় ও কি সত্যিই প্রথম রান্না করে……..
-কিরে নে খাদক,এটা আগে চেক কর। খুব টেনশনে আছি!কেমন হয়েছে কে জানে। আমি সিওর আজকের রান্না ভালো হয়নি!
আমিও নিছক মজার ছলে,-দেখেই বুঝা যাচ্ছে ভালো হবে না!
-যা তোকে আর দিব না। বলেই খাবারের বাটি হাত থেকে নিয়ে,’যা তোর চেয়ে রাস্তায় না খেতে পারা মানুষগুলোকে খাওয়াবো, তাও শান্তি পাব।’
-তাদের মতোই না হয় আমাকেও দে। ব্যাচেলররা এক ধরনের রাস্তায় থাকা বিটামাটি হীন মানুষের মতোই।
-নেন হয়েছে, ভুড়ি ভোজন করেন।
অবশেষে খাবারের বাটি হাতে পেলাম। সত্যিই তো ব্যাচেলর এক ধরনের রাস্তার মানুষের মতই। এইতো সেদিন এক পিচ্চি বললো ব্যাচেলররাতো মানুষ না!
বাধ্য হয়ে বললাম, তাহলে তোরা কি?
উত্তর আসলো, ব্যাচেলররা তো ব্যাচেলর।
আকষ্মিকভাবে মহাবিপদের সম্মুখীন হলাম।জয়ী বলল, আচ্ছা বলতো আমার জন্মদিন কবে? মনে আছে?
এটা তো মহা মুস্কিল। বলতে না পারলে আমার আর খাওয়া হবে না। হাতের খাবার কি হাত ছাড়া করতে মন চায়?
তাই এক ধরনের আন্তাজে ঢিল ছুড়ে মারলাম । বললাম ,২০ তারিখ না?
-মাসের নাম বল।
যাক তবু তারিখ মিলল, তবুও আপাতত খাবার বা পাওয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়লাম।
-দে বাটি দে! আগে বলবি তারপরে খাবার পাবি।আমার ক্ষেত্রে মনে রাখতে পারিস না, অথচ অন্য মেয়েদের ক্ষেত্রে ঠিকই ফেসবুকে উইশ করতে পারিস।
-আরে ওটা তো ফেসবুক নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়। ফেসবুক থেকে নোটিফিকেশন আসে।
-হুম, সেজন্য আমিও আগে থেকে নোটিফিকেশন দিলাম। ২০ অক্টোবর। মনে থাকে যেন, আমি জানি সেদিনতো তুই আবার মহা ব্যস্ত থাকবি।
-দেখছিস বলছিনা ২০ তারিখ।
-হয়েছে আমি জানি তুই আন্দাজে বলছিস।
-সেদিন তাহলে কি ট্রিট দিবি?
-সেদিন তোর জন্য স্পেশাল রেসিপি নিয়ে আসব।
-দেখ ‘কেকা আপার’নতুন রেসিপি প্র্যাকটিস করে নিয়ে আসিস না!
জয়ীর হাসির শব্দ প্রকৃতিতে মিশে প্রকৃতিকে সৌন্দর্যে মুগ্ধ করেছে। সত্যি অসাধারণ! আচ্ছা কিভাবে পারে এমন হাসতে? হঠাৎ জয়ীর শব্দে আমার কল্পনার জগত স্থগিত হল…
-আচ্ছা শোন সেদিন কিন্তু আমরা রিক্সায় ঘুরবো , কোন গিফট আমি নিব না।
-এ আইছে, ওরে গিফট দিব! তোকে বলছি যে তোকে গিফট দিব?
আবারো সেই পুরাতন হাসি। যে হাসিতে মুগ্ধ আমি।

২০ অক্টোবর জন্মদিনে পরিকল্পনা অনুযায়ী জয়ী নীল শাড়ি ও আমি লাল পাঞ্জাবি পড়ে অসভ্য কংক্রিটের শহরের ,আমরা সভ্যতার প্রেম ছড়াচ্ছি।
রমনার সবুজ স্বর্গরাজ্যে , স্বর্গ রাজ্যের রানী নীল দেবীর পদচারণ। আচ্ছা স্বর্গরাজ্য কি ফুচকাওয়ালা মামাদেরও আধিপত্য রয়েছে? না হলে কেন হঠাৎ করে ফুচকাওয়ালা মামা এসে আমাকে স্বর্গ রাজ্য থেকে ইহজগতে নিয়ে আসলো? আমার কল্পনার জগত বরাবরের মতই ভেঙ্গে চুরমার হলো।

সন্ধ্যায় নতুন বায়না হলো সিনেমা দেখাতে হবে। অনেক কষ্টে ৬ থেকে ৯ শো শেষ করে বাসায় ফেরার পালা। সিনেমা হলেই সিদ্ধান্ত নিলাম ,মনের মধ্যে আর্তনাদকে মুক্তি দিব! আজ থেকে সে হবে মুক্ত পাখি,হয়তো স্বাধীন হয়ে বেঁচে উড়বে নয়তো মুক্ত আকাশের এলোমেলো তীব্র বাতাসে ডানা ভেঙ্গে নিচে পরে থাকবে।
সিনেমা হল থেকে বের হয় রিক্সার নগরীতে ,রিক্সা নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলাম। কিন্তু মনের মধ্যে আর্তনাদ অস্থির করে তুলছে। মনে মনে বিড়বিড় করতেছি, আর সেই পুরনো অভ্যাস ঠোঁট কাঁপানো ও শব্দ করা।
জয়ী নীরবতা ভেঙে দিয়ে, কিরে মহামানব তোর আবার এখন চিন্তা এলো কোথা থেকে?
মহামানব শব্দে অস্থিরতা দ্বিগুণ হয়ে গেল।
অস্পষ্ট ভাবেই বললাম , নারে কিছু না!
-তুই বললেই হলো কিছু না।
কথা ঘুরানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলাম, আচ্ছা আমি মহামানব হলাম কবে থেকে? মহামানবতো সে , যে তোকে উদ্ধার করবে!
-কেন তুই আমাকে উদ্ধার করতে পারবি না!
-আচ্ছা শোন তোর সাথে আমার একটা কথা ……
জয়ীর কথা শেষ হওয়ার আগেই আমার মুখ থেকে ফসকে বের হয়ে গেল, আমার একটা কথা আছে, কিন্তু কিভাবে বলি….
পরক্ষনেই বললাম,’ আচ্ছা তুই কি বলবি বল?’
-না তুই আগে বল?
-আরে তুই কি বলবি আগে সেটা বল পরে আমি বলছি।
হঠাৎ যেন মনের মিলনে একসাথে বললাম,’রিক্সা থেকে নেমে বলবো!’
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে একটু হাসি ।সেই হাসি ছড়িয়ে যাচ্ছে, পুরান ঢাকার বিভীষিকাময় গলিতে। শহরের কোলাহলপূর্ণ শব্দগুলো যেন প্রাণ ফিরে পায়। চারিদিকে হাসির কলরব।
হঠাৎ তিন-চারজন ভদ্রলোক রিক্সা থামিয়ে বললেন, সামনে রাস্তায় কাজ চলতেছে ।রাস্তা বন্ধ, হেঁটে যেতে হবে।
কি আশ্চর্য! সত্যি জাদুর শহর ঢাকা, সকালে কিছুই দেখলাম না কিন্তু ……… আজব শহরে,আজব মানুষের বসবাস।
-কিন্তু ভাই সকালে তো দেখলাম ভালো।
মধ্যবয়সী এক ভদ্রলোক, আরে মিয়া কথা বুঝেন না কিল্লাই।রাস্তা বন,এহান দিয়া যাওন যাইব না।
অন্য একজন, কি দুনিয়া আইলো পোলাপানগো কথা কইলে মূল্যায়নই করেনা। চুলে হালকা পাক ধরেছে, বয়স হয়তো ৩৫ এর কাছাকাছি।
তবে মনে মনে খুশি হলাম, যাক এবার মনের কথাগুলো বলার যথেষ্ট সময় পাবো এই ভেবে।
রিকশাওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে জয়ীর বাসার উদ্দেশ্যে দুজনে নিশ্চুপ হাঁটছি। গলিটার নিশ্চুপ নির্জন, আর আমরাও তার সঙ্গী দিয়ে চলছি। আর মনে মনে বিড় বিড় করছি, যাক ভালই হল এবার কথাগুলো বলা যাবে। রিক্সা বললে হয়তো রাগ করে নামিয়ে দিত বা নামিয়ে না দিলেও কিভাবে পাশাপাশি বসে থাকতাম তা নিয়ে চিন্তা করছি।
নির্জনতা ভেঙ্গে জয় বলল, কিরে মহাপুরুষ কি বলবি, বললি নাতো?
-না কিছু না, তুই আগে বল কি বলবি।আমার কথা শুনে তুমি আমার সাথে কথা না বলতে পারিস। তাই সব থেকে ভালো হবে আগে তোরটা শুনি , পরে আমারটা বলছি।
-ধুর, ছেলেমানুষ হয়ে কি ন্যাকামি শুরু করছিস। যা বলার বল, আমি তোকে অভয় দিলাম। রাগ করবো না।
আচ্ছা আজ আমাকে মহাপুরুষ বলে এত সম্মোধন করছে কেন? আগে বলতো, আমাকে যে উদ্ধার করবে সে হবে মহাপুরুষ। তাহলে ও কি চায় আমার হৃদয়ের আর্তনাদ শুনতে! ওকি জ্যোতীষি হয়ে গেল,যে মনের কথা বুঝতে পারে। নাকি সজীব ভাই কিছু বলছে? হিসাব মিলছে না কিছুতেই।
জয়ী বললো,—আচ্ছা তুই বলার আগে আমার একটা কথার উত্তর দে তো!
-কি কথা?
– কোন বন্ধু কি তার কাছের সব থেকে ভালো বন্ধুকে বিয়ে করে সুখী হয়েছে?
মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা। এ প্রশ্নের কি উত্তর হতে পারে কিছুই বুঝছি না। তবে হৃদয় আনন্দের ঝড় নিয়ে বললাম, –কেন হঠাৎ এমন প্রশ্ন?
-না মানে ,তারা বিয়ের পর কি তুই নাকি তুমি করে বলে?
-জানিনা। তবে আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় পাশে থাকার জন্য তুই নাকি তুমি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, সম্মান ও ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন হয়।
-বাহ, তুই তো দেখি পুরো দার্শনিক হয়ে গেছিস।
-কেন তুই কি আবার শুভকে বিয়ে করবি নাকি?
-হঠাৎ যেন মুখখানা পেঁচার মত হয়ে গেল।
তবে রাগলে ওকে ভালই লাগে। সবথেকে ভালো হলো ও রেগে বেশি সময় থাকতে পারেনা। তাই বলা যায় রাগটা ক্ষণস্থায়ী।
শুভ হল ওর স্কুলের সব থেকে কাছের বন্ধু। যে ওকে পাগলের মত ভালবাসে । শুভর ভালোবাসা দেখে মাঝে মাঝে আমার নিজেরই নিজের প্রতি সন্দেহ হয়।
রাগ ভেঙ্গে,আচ্ছা তুই কি বলবি বল। বাসার কাছে এসে গেছি বেশি সময় নাই।
কিভাবে বলবো তা বুঝে ওঠার আগেই বলার চেষ্টা করছি। আমার কথা বলার প্রচেষ্টা দেখেই ওর অট্টহাসি। ওর হাসির মাঝেও আমার হৃদয়ের কথা বুঝতে পারার সত্য তা প্রকাশ পেল। সিদ্ধান্ত নিলাম বলে ফেলবো, এরমধ্যে মধ্যবয়সী চাচার কন্ঠ শুনতে পেলাম, আই বাপজান আমনেরা এহানে কই যাইবেন? কার বাড়িত যাইবেন?
শুভ সময় বাধা পেয়ে, রাগের বহিঃপ্রকাশ করার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। যে এত সুন্দর নির্জন স্থানে আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।এরা মানুষ নাকি অন্যকিছু?আসলে সৃষ্টিকর্তা কিছু মানুষকে পাঠিয়েছে,যারা মানুষের ভাল সহ্য করতে পারে না।এদের জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো মানুষের শুভ কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে।
তার উত্তর দেওয়ার জন্য রাগান্বিত চেহারায় দাঁড়িয়ে গেলাম। ঘুরে কথা বলতেই……
সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে গেল।নিস্তব্ধতার গলি যেন আরও বিভীষিকাময় হয়ে উঠল।
পর মুহূর্তে নিজেকে আবিষ্কার করলাম ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে। মৃত্যুর সাথে সন্ধি করার চেষ্টা করছি। হয়তো কিছু সময় মধ্যে সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত যমের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যাবে। অনুভব করলাম মাথায় তীব্র যন্ত্রনা, নাড়াতে পারছিনা।
আমার দেবীর স্বর্গের আম্রকানে কতগুলো দৈত্য পদচারণা করছে। সেও ৭০৭ নাম্বার কক্ষে ভর্তি।
খবরের শব্দ কানে ভেসে আসছে, “পুরান ঢাকায় একদল বখাটে তার বন্ধুকে মেরে তরুণীকে ধর্ষণ করেছে। উভয় ঢাকা মেডিকেলে জরুরী বিভাগে ভর্তি। ছেলেটির নাম নিলয়।ডাক্তার বলেছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ছাত্র-ছাত্রীরা ও সুশীল সমাজ শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করছে।”
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ”দোষীদের দ্রুতখুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”

………………..
লেখকঃনয়ন রায় আকাশ,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা কলেজ।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 45
    Shares

লেখক নয়ন রায় আকাশ

নয়ন রায় আকাশ,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা কলেজ।

৬ টি মন্তব্য

  1. ভাই মন ছুয়ে গেলো। অনবদ্য গল্প।

  2. নয়ন রায় আকাশ

    ধন্যবাদ ভাই।😍😍

  3. মো.ইকবাল হাসান

    কিরে তুইও লিখিস জানতাম না।খুব ভালো লিখছিস।

  4. একবার মাত্র পড়েছি আরো বার কয়েক পড়তে চাই! অবাক হই নি!! আরো সুন্দর হোক বাকিটা

  5. নয়ন রায় আকাশ

    মাঝে মধ্যে মন খারাপ থাকলে!😚

  6. নয়ন রায় আকাশ

    বাকিটা সুদর হলে আফ্রোদিতির ঘরে ফেরা হয়ে কি না জানি না তাহলে আমার ঘরে ফেরা হবে না

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: এই ব্লগের লেখা কপি করা যাবে না