রাজস্থলী সেনা-এএলপি বন্দুকযুদ্ধ:স্বার্থান্বেষী মহলের চুক্তি বিরোধী প্রোপাগান্ডা ও ভূয়া সংবাদ| বাচ্চু চাকমা

গত ১৮ আগষ্ট রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলীতে আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ এবং এতে একজন সেনা সদস্য নিহত ও ক্যাপ্টেনসহ কয়েকজন সেনা সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় উগ্র জাতীয়তাবাদী ও উগ্র সাম্প্রাদায়িক সংবাদমাধ্যম ও স্বার্থান্বেষী মহল পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও জনসংহতি সমিতি বিরোধী প্রোপাগাণ্ডা ও ভূয়া সংবাদ প্রচারে উঠে পড়ে লেগেছে। শুধু তাই নয়, এঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী রাঙ্গামাটি জেলায় নিপীড়নমূলক ব্যাপক কম্বিং অপারেশন শুরু করেছে, যেখানে ঘরবাড়ি তল্লাসী, ধর-পাকড়, শারীরিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় জড়িত করে জেলে প্রেরণ ইত্যাদি নির্বিচারে চালিয়ে যাচ্ছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে একটা ঘটনা ঘটলেই জনসংহতি সমিতির উপর সব দায়ভার চাপানো হয়। কারণ জনসংহতি সমিতি সেই অন্যায়ের পক্ষে রাজনীতি করে না, দালালীপনা আর ভন্ডামীর রাজনীতি করে না, শাসকগোষ্ঠীর লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি করে না। সেকারণেই জনসংহতি সমিতির উপর মিথ্যার দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। সবচেয়ে আরও হাস্যকর মনে হলো যে, একটি বিদেশী সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ডাকাতি দলকে অনলাইন পত্রিকায় আঞ্চলিক দল হিসেবে প্রকাশ করা। এই আরাকান লিবারেশন পার্টি বা এএলপি, যারা সহানুভূতি লাভের হীনউদ্দেশ্যে নিয়ে স্থানীয়ভাবে মগ লিবারেশন পার্টি নামে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকে এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সেনাবাহিনীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পার্বত্যাঞ্চলে অবাধে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে, সেই দল পার্বত্য চট্টগ্রামে কখনও আঞ্চলিক দল ছিল না, অথচ এই ডাকাত দলকে পত্রিকায় পদন্নোতি দিয়ে দিলো আঞ্চলিক দল। প্রশ্ন এসে যায়, সংবাদ মাধ্যমগুলো কি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্র পরিবেশন করতে সক্ষম?

যাইহোক, গত ১৮ আগষ্ট ২০১৯ সকাল ৯.৩০ ঘটিকার সময় রাজস্থলী সদর হতে প্রায় দুই মাইল দূরে পয়তু পাড়া নামক স্থানে মগ লিবারেশন পার্টি সেনাবাহিনীর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল। রাজস্থলী উপজেলায় এএলপির আক্রমণে এক সেনা সদস্য নিহত ও আহতদের কেন্দ্র করে ফেইসবুক মিডিয়া এবং ভূয়া অনলাইন পত্রিকায় নানা গুজব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে ভূয়া প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। সেনা সদস্যদের নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য Parbattanews.com অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জেএসএসকে দায়ী করেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। রাজস্থলী উপজেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান চালানো সত্যিই পার্বত্য চট্টগ্রামে জনমনে ব্যাপক আতংক আর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এধরণের সেনা অভিযান ও সাধারণ জনগণের ঘরবাড়িতে ব্যাপক তল্লাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে, তার কোন সন্দেহ নেই।

আমরা জানি স্থানীয় আওয়ামীলীগের মদদে সেনাবাহিনী এযাবত স্থানীয়ভাবে মগ পার্টি নামে পরিচয় দেয়া আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) সদস্যদেরকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মদদ দিয়ে আসছিল। রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দা ইউনিয়নের পয়তু পাড়ার লাগোয়া এক পাহাড়ে এএলপি নামক বিদেশী সশস্ত্র গোষ্ঠী ক্যাম্প তৈরি করে থাকলেও সেনাবাহিনী দেখেও না দেখার ভান করে এতদিন থেকেছিল। এএলপি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের খুঁজে না পাওয়ার নাটক করে সেনাবাহিনী প্রায়ই অপারেশন চালাতো। সম্প্রতি এএলপি সদস্যরা পয়তু পাড়ায় ঐ পাহাড় থেকে তাদের আস্তানা সরিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ বিহারের লাগোয়া আরেকটি পাহাড়ে তাদের গোপন আস্তানা স্থাপন করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। সেই পাহাড়ে ঐদিন ১৮ আগষ্ট ২০১৯ সকাল ১০টার দিকে সেনাবাহিনীরা উঠতে গেলে এবং তাদের আস্তানার দিকে অগ্রসর হতে থাকলে এসময় এএলপি সদস্যরা সেনাবাহিনীর উপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে দুইজন সদস্য আহত হন। তাদেরকে চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান বলে পত্রিকান্তরে জানতে পারি। পরে এলাকা তল্লাসী চালাতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনসহ আরো দুইজন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর্যবেক্ষণে ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এই প্রচারিত হতে দেখা যাচ্ছে যে, আরাকান লিবারেশন পার্টিই সেনাবাহিনীর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে এবং এএলপিদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফেরণে সেনা সদস্য আহত হয়েছেন (বিবিসির ১৯ আগষ্ট: পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা টহলে হামলা: সন্দেহের তীর কোন দিকে, এবং chttimes24.com-এর ১৮ আগষ্ট: রাজস্থলীতে মাইন বিস্ফোরণে আহত ২ সেনাসদস্যঃ ৩ উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার)। তারপরেও বাস্তব পরিস্থিতিকে এড়িয়ে গিয়ে অনলাইন পত্রিকা Parbattanews.com ভূঁয়া সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উপর দোষ চাপিয়েছিল, যা সত্যিই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। আমি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিতে চাই যে, কারা এই এএলপি? তাদের আসল উদ্দেশ্য কি? তাদের পেছন হতে কারা কলকাঠি নাড়ছে? উল্লেখ্য যে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই এই এএলপিদের উত্থান বেশি লক্ষ্য করা যায়। এটায় বাস্তব সত্য যে, মগ পার্টি বা এএলপি এই ভূঁইফোড় সংগঠন বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষ হয়েই ভোট ডাকাতি করেছিল, স্থানীয় জনগণকে হুমকি-ধামকি দিয়ে ভোট প্রদানের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল।

এই Parbattanews.com অনলাইন পত্রিকাগুলোই নিঃসন্দেহে সাংবাদিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে আমি মনে করি৷ সাংবাদিকতার যে নৈতিক মানদণ্ড রয়েছে, সেটা তো তারই সততা৷ যেটা সংবাদ নয়, সেটাকে যদি আপনি সংবাদ বানিয়ে ফেলেন, তাহলে তো পেশা হিসেবে এটার কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকে না৷ এটা যে সত্যতার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা তো আর টেকে না৷ ভুয়া সংবাদ আসলে কোনো সংবাদই নয়, এটাকে আপনি কোনোভাবেই সংবাদ বলতে পারেন না৷ সংবাদের ভেতরে ভুল হতে পারে, এবং আপনি অনিচ্ছাকৃতভাবেও ভুল করে থাকতে পারেন৷ ইচ্ছাকৃতভাবেও যে কেউ চেষ্টা করে থাকতে পারেন৷ সেটার পুরোটাই হয়ত অসত্য নয়৷ ভুয়া সংবাদের কোনো ভিত্তিই থাকে না৷ যেসব সাংবাদমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে টিকে আছে, এই ধরনের সংবাদে তারা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন৷ পাঠকদের পক্ষে কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয়, সেটা বুঝার আর তেমন বাকি নেই।

আমরা তো আসলে ‘ভুয়া সংবাদ’ নামে সংবাদের কোনো ক্যাটাগরি আগে শুনিনি৷ একটা ছিল ‘হলুদ সাংবাদিকতা’৷ যেটা সংবাদ না আপনি সেটাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রকাশ করতেন৷ বা এমন সংবাদ যেটা বাস্তবে নেই, আরেকজনের জন্য মানহানিকর৷ এই বিষয়গুলোর সঙ্গে আমরা একসময় পরিচিত ছিলাম৷ এখন ‘ভুয়া সংবাদ’ বিষয়টা অনানুষ্ঠানিকভাবে মাঝে মধ্যে শোনা যায়৷ ‘ভুয়া সংবাদ’ আমি যেভাবে বুঝাতে চাই- যেটার আসলে কোনো ভিত্তি নেই, অবাস্তব সংবাদ, অলীক, কল্পনা দিয়ে তৈরি সংবাদ। নিজের ইচ্ছামত লিখবেন, বাস্তবতার সাথে কোন মিল থাকবে না, তাহলে এটা তো কোনদিনই সংবাদ হতে পারে না। হলুদ সাংবাদিকতা ও ভুয়া সংবাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটা কি?

এই দু’টোর মধ্যে যতটুকু না পার্থক্য তার চেয়ে মিলটাই বেশি৷ হলুদ সাংবাদিকতায় সেই বিষয়টাই তো ছিল৷ যেটা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বা সংগঠনের বিরুদ্ধে আপনি লিখলেন, আসলে সেটার কোনো ভিত্তি নেই, কারণ অতিরঞ্জিত করে লিখছেন৷ আমি যদি বুঝে থাকি, ভুয়া সংবাদ হলো আসলে কোনো সংবাদ হয় না, আমি একটা সংবাদ বানালাম, সেই সংবাদের কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। ফেইসবুক মেডিয়ায় এবং অনলাইন পত্রিকায় এধরণের ভূয়া সংবাদ পরিবেশন করে সংবাদপত্রের নৈতিক মানদণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়া তেমন কিছুই হতে পারে না। জাতীয় সংবাদ পত্রিকায় যারা কাজ করে থাকেন, তাদের আরও অধিকতর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।

রাজস্থলী উপজেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৮ আগষ্ট থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গোটা রাঙ্গামাটি জেলায় ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। নিরীহ গ্রামবাসীর উপর ঘরবাড়ি তল্লাসী, ধর-পাকড়, শারীরিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় জড়িত করে জেলে প্রেরণ ইত্যাদি নির্বিচারে চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পর পরই সেদিন রাজস্থলীর পয়তু পাড়া থেকে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়। তারা হলেন- উ দামা ভিক্ষু (২৫ বছর), মংসঅং মারমা (৪৮ বছর) ও ছোঅং মারমা (৩৩ বছর)। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে নিরীহ পাবলিক দুইজন ধরে নিয়ে যায়। তারা হলেন বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের পশ্চিম খেদারমারা গ্রামের নিরীহ শৈলাস চাকমা (বাবু মেকার) এবং সার্বোয়াতলী ইউনিয়নের চিন্তারামাছড়া (নিউফরেস্ট) এর পরেশ্বর (রাঙাধন) চাকমা। পরে তাদের ১৯/৮/০১৯ তারিখে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানা যায়।

এছাড়াও ঐদিন মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়, সেনাবাহিনীরা মহালছড়ি বাজার ঘেরাও করে বাজারে আসা সব পাহাড়ি লোকজনকে মারধর করে এবং পাহাড়িদের সব দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় বদনালা, মহালছড়ি কলেজ গেট, লেমুছড়ি এলাকায় পাহাড়িদের সব দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সেনাবাহিনী। সেখানকার একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন হঠাৎ করে সেনাবাহিনীর মারমুখী আচরণ কেউ বুঝে উঠতে পারেনি।

১৮ আগষ্ট বিকাল ৩:০০ ঘটিকার সময় সেনাবাহিনীর একটি টিম সারোয়াতুলি ইউনিয়নের শিজক এলাকার স্থানীয় ত্রিদিপ চাকমা, জুপিটার চাকমা বাপ্পি এবং নয়ন চাকমা- এই তিন জনের বাড়ি ঘেরা করেছে। একই দিনে বিকাল ৫টার সময় শিজক এলাকার চিন্তারাম ছড়া নামক একটি গ্রাম থেকে রাঙাধন চাকমাকে সেনাবাহিনীরা ধরে নিয়ে যায়।

১৯ আগষ্ট লংগদু উপজেলার লংগদু ইউনিয়নের গোলাছড়ি গ্রামের অধিবাসী দেব বিকাশ চাকমা (দেবাহালা) (৩৮বছর)-কে ধরে নিয়ে যায়। তাকে গত বছর ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বরে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিথ্যাভাবে জড়িত করে থানায় সোপর্দ করে। এছাড়া ঐদিন সকাল ১১:০০ টায় লংগদু উপজেলার লংগদু ইউনিয়নের রাধামন বাজার থেকে সুপর্ণ জীবন ১১টা বাজে বামে লংগদু সাবজোন ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে একদল আর্মি ধরে নিয়ে যায়। পরে ছেড়ে দিলেও তাকে অমানুষিকভাবে হয়রানি করা হয়।

২০ আগষ্ট বেলা ১:০০ ঘটিকার সময় বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের বিল্লছড়া গ্রামে ক্যাপ্টেন হাবিবের নেতৃত্ব সেনাবাহিনীরা সাধন বিকাশ চাকমা ও ইতিময় চাকমা বাড়িতে হানা দেয়। এক পর্যায়ে বাড়ির লোকজন কাউকেও না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে বাড়িতে ঢুকে তল্লাসি চালায়। সাধন মনির বাড়ি হতে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল হ্যান্ড সেট ১টি, চাকমাদের সংষ্কৃতির পোষাক পিনোন হাদি ও ২৫টি মুরগির ডিম, সাধন বিকাশ চাকমার ছেলের পরিচয়পত্র, ঢাকায় কোম্পানি চাকরি করার কাগজ পত্র এবং ৮ম শ্রেণির সার্টিফিকেট, রেজিষ্টার কার্ড ইত্যাদি নিয়ে যায়। উল্লেখ ইতিময় চাকমার বাড়িতেও তল্লাসি চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট করে দেয় |

১৮ আগষ্টের রাজস্থলী ঘটনার পর নিরীহ জুম্ম গ্রামবাসীর উপর এভাবে একের পর এক নির্যাতন চালানো হলেও ঘটনার জন্য দায়ী বিদেশী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ- এএলপির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা যায়নি। এতোদিন ডাকাতি, অসহায় জনগণকে অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবী, হুমকি-ধামকি দিয়ে রাজস্থলী, বান্দরবান রোয়াংছড়ি, রুমা ও বান্দরবান সদরের রাজভিলা আরও অনেক স্থানে সাধারণ জুম্ম জনগণের ঘুম হারাম করে দিয়ে সন্ত্রাসী ও ডাকাতির রাজত্ব কায়েম করেছিল এই ভূঁইফোড় সন্ত্রাসী এমএলপি। ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে অদ্যাবধি এই এএলপি সন্ত্রাসীরা কমপক্ষে ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে; আরো ৫ জনকে অপহরণ করে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়; ৫ জনকে মারধর করে আহত করে এবং ১৭ জনকে নানাভাবে হত্যার হুমকি প্রদান করে। নেপথ্যে কারা মদদ দিয়েছিল? কাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এই ভূঁইফোড় সন্ত্রাসী এএলপিরা চোর, ডাকাতি, গুন্ডামী, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা, গুম করতে সাহস করেছিল? এসবের জন্য দায়ী আওয়ামীলীগ এর বীর বাহাদুর এমপি, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বান্দরবান জেলার সভাপতি ক্যহ্লা মারমা, কতিপয় সেনাপ্রশাসন ও স্থানীয় বেসামরিক পুলিশ প্রশাসন এসপি, ওসি।

জনসংহতি সমিতি ও সাধারণ জুম্ম জনগণের পক্ষ থেকে বারবার বহিরাগত মায়ানমার বিদ্রোহী গ্রুপ এএলপিদের সন্ত্রাসী আর ডাকাতি কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের কাছে অবগত করা হয়েছিল। এই ডাকাতি, সন্ত্রাসী এমএলপি ও এএলপিরা সহিংস ঘটনা ঘটালে দোষ চাপানো হয় জনসংহতি সমিতির উপর এবং পরবর্তীতে জেএসএস সদস্যদের পাইকারী হারে মামলা দেয় আওয়ামী লীগ, সামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। এতোদিন সেটায় দেখে এসেছি, এখনও অব্যাহত রয়েছে, যার কারণে শত শত জেএসএস সদস্য ঘরছাড়া, এলাকা ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নির্দোষ মানুষদের এভাবে দোষী সাব্যস্ত করে জেলে অন্তরীন করবেন, অন্যরা জ্বালানো আগুনে আমরা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবো, এটা কখনো হতে পারে না। তাই অত্যাচারী স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়াতে হবে, এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে যেখানেই হোক সন্ত্রাসী আর ডাকাতি দলের বিষদাঁত সমূলে উপরে ফেলতে হবে। নিপীড়িত জুম্ম জনগণের জয় হবেই, হবে। সত্যের জয় একদিন আসবেই।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার তপন চাকমা

নিপীড়িত,নির্যাতিত,শোষিত,বঞ্চিত,সর্বহারা মেহনতি মানুষের পক্ষে থাকবো সদা সর্বদা

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!