রাজনীতি নয় আমি কেন ছাত্র আন্দোলনের কর্মী

 

রাজনৈতিক ক্ষমতা হল একই দলভুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা অন্যব্যক্তিদের পরিচালনা করাকে বুঝায়। আর রাজনীতি হল এই ক্ষমতাকে ব্যবস্থাপনার একটা পদ্ধতি মাত্র। যা রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে, সংগঠন পরিচালনার কাজে, দল পরিচালনার কাজে, পরিবার পরিচালনার কাজে কিংবা কখনও কখনও ব্যক্তি যখন নিজেই প্রতিষ্ঠান তখন অন্যব্যক্তিকে পরিচালনা করার কাজে ব্যবহার করা হয়।

তাহলে বলুন, একজন শিক্ষার্থীর কেন রাজনীতি করতে হবে? কেন তাকে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে হবে? যে ছেলেটা বা মেয়েটা এখনও ইতিহাস জানে না, বিজ্ঞান বুঝে না, সে শিক্ষার একটা পর্যায় অতিক্রম করনি, সে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো উপযোগী নয়, সে মাত্র পাঠশালাতে প্রবেশ করেছে, পরিশেষে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে না বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে প্রত্যেকেই পড়াশোনা করবে, গবেষণা করবে, গান-বাজনা করবে। একটি মুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠবে। যে কোন প্রকার মতাদর্শের বা আদর্শের কর্তৃত্ববাদীতা থেকে শিক্ষাকে মুক্ত করতে হয়। শিক্ষা হবে সকলের জন্য মুক্ত। সে কি করবে? কিভাবে জীবন যাপন করবে তা সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিবে। এরপরও যদি কোন কারণে শিক্ষার পরিবেশ কর্তৃত্ববাদী হয়ে পড়ে তখন ছাত্ররা আন্দোলন করবে, ছাত্রদের সংকট নিয়ে কথা বলবে…এর জন্য রাজনৈতিক সংগঠনের কোন আবশ্যকতা নেই। অনেকেই বলতে পারেন আন্দোলন তো রাজনীতির অংশ। না। বরং রাজনীতি হচ্ছে আন্দোলনের অংশ। আন্দোলন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন, রাজনৈতিক আন্দোলন, সামাজিক আন্দোলন, পরিবেশ আন্দোলন, নারীবাদী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন ইত্যাদি। তারপরেও কি ছাত্র আন্দোলনকে অরাজনৈতিক বলা যায়? হ্যা, ছাত্র আন্দোলনের পিছনে কোন আদর্শ থাকে না…থাকে কিছু কর্মসুচি। অপরদিকে রাজনৈতিক দল গুলো নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে জনগণের কাছে যায়, ক্ষমতা দখল তাদের মূল লক্ষ্য। এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা, ক্ষমতায় যাওয়া ছাত্রদের উদ্দেশ্য নয়। বরং ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার সমাজ থেকে কিংবা বিভিন্ন মতাদর্শের প্রাথমিক মূল্যবোধ নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা কিছু সাধারণ কর্মসুচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়। গণ ছাত্র  সংগঠন তৈরি করে। শিক্ষাজীবনে তাদের চিন্তার পথঘাট পরিবর্তন হতে থাকে। বিস্তৃত হয় চিন্তার স্তর। এখানেই রোপন হয় সে কি ফলবৃক্ষ হতে চলছে। তাই কোন বিশ্ববিদ্যালয় একক মতাদর্শের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। ছা্ত্ররা রাজনীতি করবে কি করবে না তা শিক্ষাজীবন শেষে সিদ্ধান্ত নিবে। কারো যদি মনে হয় দেশ পরিচালনায় সে ভূমিকা রাখতে পারবে…সে রাজনীতি করবে, কারো যদি মনে হয় সে বিজ্ঞানী, ডাক্তার, বিচারপতি কিংবা বিপ্লবী হবে…তা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। এর আগ পর্যন্ত ছাত্ররা রাজনৈতিক কর্মী নয়, ছাত্র আন্দোলনের কর্মী। আমার মনে হয় আজকাল প্রগতিশীলরা এই জায়গা ভুলতে বসেছে। ছদ্মবেশে দখল করে নিচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিরা।

রাজনীতির দলাদলি থেকে ছাত্রদের রক্ষা করা না গেলে আগামীর বাংলাদেশ নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। আমাদের মনে রাখা দরকার দেশ পরিচালনায় শুধু রাজনীতিবিদরাই থাকে না। তার সঙ্গে বিশাল একটা মেধাদীপ্ত কর্মীবাহিনীও প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু রাজনীতিবিদ পয়দা করবে না…তাকে আরো অনেক কিছুই তৈরি করতে হয়। তাই ছাত্রজীবনকে রাজনীতির বাহিরে রাখাই ভালো বলে আমি মনে করি।

বিদ্যমান ছাত্রলীগকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা আওয়ামী লীগের জমায়েত  হবে না, ছাত্রদল বিএনপির জমায়েত  হবে না, ছাত্র ইউনিয়ন সিপিবির জমায়েত  হবে না এবং ছাত্রফ্রন্ট বাসদের জমায়েত হবে না। তারা নিজেদের ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকার করবে বলে আমার প্রত্যাশা। এর ব্যতিক্রম হলে এদের ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য রয়েছে, কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্যে ছাত্রদের ব্যানারে লুকিয়ে রয়েছে। তাদের চিহিৃত করে ছাত্র রাজনীতির প্রভাব থেকে ছাত্র আন্দোলন কে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। এই বলে শেষ করব ছাত্রসমাজের বিশাল একটা অংশ রাজনীতিবিমুখ বলে যারা প্রচার করেন; হ্যা, তারা রাজনীতিবিমুখ সত্যই কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অসচেতন নয়। তারা রাজনৈতিক সচেতন বলেই রাজনীতিকে না বলেছে। তারা প্রমাণ করেছে রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য দল করাই একমাত্র প্রমাণ নয়।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার মোর্শেদ হালিম

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!