মিসেস জিয়ার মুক্তি ও আমাদের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব

()

আজ ২৪ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুপারিশে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ মুক্তির শর্ত দুইটা, ১.বাসায় থাকতে হবে ২. বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না (শর্তগুলো খেয়াল করুন)

মিসেস জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয় ফৌজদারির কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারায়। এই ধারায় ক্রিমিনাল কেসের উপর সরকারের বিশেষ ক্ষমতা আছে৷ মিসেস জিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জুস্ট বাংলাদেশ সফর করে স্পিকার ও পিএমের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। মার্কিন এই দূত খালেদার মুক্তি/প্যারেলের কথা বলেছেন। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় খালেদার মুক্তির বিনিময়ে বিএনপি সংসদে যোগ দিয়েছিলেন৷ পরে এই মুক্তি থেকে যেন বিএনপি কোন সুযোগ সুবিধা লাভ করতে না পারে তাই পরিবার থেকে আবেদনের শর্ত দেয় সরকার৷

সরকার কেন এই সময়টা মুক্তির জন্য বেঁচে নিল! মিসেস জিয়ার মুক্তিকে কেন্দ্র করে বিএনপির বড় ধরনের শোডাউন নিয়ে আপত্তি ছিল সরকারের। তিনি যেদিন গ্রেফতার হন সেদিন নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও নেতাকর্মীদের শোডাউন থামানো যায়নি৷ ফলে মানবতার বিপর্যয়ের এই সময়ে বিএনপি মুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক শোডাউন করতে পারবে না৷
ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্ত এখন কেন বাস্তবতায়ন! মার্চ মাসে মুজিববর্ষ উপলক্ষে আসা বিদেশী অতিথিদের সাথে খালেদার সৌজন্য সাক্ষাৎ হউক সেটা সরকার চায়না৷ করোনা না আসলেও মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানের পরে রাজনৈতিক সুবিধাজনক সময়ে মিসেস জিয়া মুক্তি পেতেন!

শর্তগুলোর দিকে খেয়াল করুন!
১.বাসায় থাকতে হবে৷ এটার স্পষ্ট ব্যাখ্যা রাজনীতি করতে পারবেন না৷ ফিরোজা ভবনের পাশেই গুলশান অফিস, সেখানেও যেতে পারবেন না৷
২.বিদেশ যেতে পারবেন না। অথচ বিএনপি ও জিয়া পরিবার থেকে বারবার চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার জন্য আবেদন করা হচ্ছে৷ কিন্তু সরকারের এখানেই আপত্তি। বিদেশ যাত্রা নয় মূলত খালেদা জিয়াকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মুখোমুখি হতে দিতে নারাজ সরকার। তার জন্যই মার্চের মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের পর মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছে ছিল৷
বিদেশ যাত্রা বা বিশ্ব নেতাদের মুখোমুখি নিয়ে কেন বাধা!
১. বিএনপির বেশ কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত খালেদার-তারেকের ঐক্যমতের অভাবে ঝুলে আছে। দুজন একসাথে বসতে পারলে দল চাঙা হবে৷
২.সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখনো বেশ কয়েকটি দেশের হাতে ঝুলছে৷ বিএনপির A-Z নেতাকর্মীর আন্তর্জাতিক গুরুত্বের চেয়ে খালেদার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহুগুণ। খালেদার সাথে বেশ কিছু ভারতের বিজেপি নেতা, ক্লিনটন পরিবার ও বিশেষ করে সৌদি ও কাতারের রাজপরিবারের একটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে৷ আপনারা অনেকেই জানেন দেশে ক্রমশ সৌদি প্রভাব বাড়ছে৷ বিদেশ সফরের সুযোগে বা মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আগত বিদেশী অতিথিদের ২০১৮ সালের নির্বাচনের কথা খালেদা মনে করিয়ে দেওয়ার সরকারের জন্য উদ্বেগের৷ রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে চাপা পড়া এই নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফের আলোচনা তোলানোর সক্ষমতা একমাত্র খালেদা জিয়ারই আছে।

এই মুহুর্তে এবং আগামী ১ বছরের জন্য বিশ্ব বিপর্যপ্ত থাকবে করোনা নিয়ে৷ বাংলাদেশ নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কই! ফলে রাজনৈতিক অগুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে,জনসমাগমহীনতার মধ্যে মার্কিন মুলকে দেওয়া কথা রেখেছে সরকার৷ খালেদার সাথে আসলে শেখ হাসিনার আসলে ব্যক্তিগত কোন ক্ষোভ নেই, যা আছে রাজনৈতিক। যখন দেখছে খালেদা মুক্তি পেয়েও কিছু করতে পারবে না তখন তো ছেড়ে দিলই৷
করোনা অর্থনীতি ঃ
বাংলাদেশে এখন যা চলছে তা জরুরী অবস্থা। কাল থেকে যা চলবে তা হচ্ছে কারফিউ। কিন্তু রাজনৈতিক নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকার এসব শব্দ মুখে আনছে না বা আনবে না৷ যা ভুল হওয়ার তা তো হয়ে গেছে৷ তবে সেনাবাহিনী নামার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে৷ আমাদের মন্ত্রীদের যে আসলেই কোন ক্ষমতা নেই সেটা তো বুঝলেন ই৷ আশা করা যায় যা ক্ষতি করার করে আগামী ১ মাসের মধ্যে করোনা বিদায় নিবে৷ কিন্তু এর রেশ হয়ে যাবে বহুবছর৷ আমরা আসলে চলি রেমিট্যান্স ও গার্মেন্টস আয় দিয়ে৷
রেমিট্যান্স আয়ের দেশ মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আগামী মাসে করোনার প্রভাবে আমাদের লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে৷ এর প্রভাব পড়বে দেশের কাঁচারবাজার থেকে চায়ের দোকান সবখানে।
আমাদের গার্মেন্টসের কাঁচামাল আসে চায়না থেকে আর বিক্রি হয় ইউরোপে। মাঝখানে আমরা শুধু শ্রম বিক্রি করি। চায়না থেকে শিপিং বন্ধ তিনমাস। ইউরোপের বায়াররা সব অর্ডার বাতিল করছে। ফ্যাক্টরিতে একবার তালা পড়লে এই তালা এই সিজনের আগে মানে গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরির সিজন (৬ মাস) এর আগে খুলতে পারবে না। কারণ একটাই, অর্ডার নেই৷ ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ব্রান্ড ও বাংলাদেশের ক্রেতা প্রাইমমার্ক ইতিমধ্যে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। এটা কেবল শুরু৷ প্রতিদিন ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো দেউলিয়া হবে এখন থেকে।

আর ৬ মাস বন্ধ থাকার পরে ফ্যাক্টরিগুলো আর খুলবে কিনা সন্দেহ। যারা ভাড়া ফ্যাক্টরি মানে নিজস্ব বিল্ডিং নেই তারা এই ৬ মাস কীভাবে ভাড়া দিবে! আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিক প্রায় ৫০ লাখ৷ তার মধ্যে ২০ লাখ বেকার হওয়া মানে ২০ লাখ পরিবার মানে ১ কোটি লোকের রুটি রোজগার বন্ধ৷
আসলে ভাবলেই গা শিউরে উঠে করোনা পরবর্তী আমাদের অর্থনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।
যাই হোক আপাতত মানুষ বাঁচুক। এখনোও সময় আছে সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন, বেঁচে থাকুন।
অবশ্যই বাড়িতে থাকুন,খালেদা জিয়াকে বাড়িতে থাকতে বলেন।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 1
    Share

লেখক শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন

একটি মন্তব্য

  1. আলমগীর হোসাইন

    ভালো লিখেছেন। লিখে যান সফলতা আসবেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: এই ব্লগের লেখা কপি করা যাবে না