মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন : ট্রাম্প বনাম বাইডেন লড়াই

()

বিশ্বে এখন করোনার ক্রান্তিকাল চলছে। প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। হাজার হাজার মানুষ করোনার ভয়াল থাবায় প্রাণ হারাচ্ছে। পৃথিবীর এই দুঃসময়ে থমকে আছে সব রাজনীতি, অর্থনীতি, ক্রীড়াঙ্গণ, ব্যবসা-বাণিজ্য। এই করোনার ভয়াল থাবা এখন সবচেয়ে বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। অথচ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন গণতন্ত্রের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। মাত্র কিছুদিন আগেও দেশটিতে নির্বাচন নিয়ে পরিস্থিতি ছিলো সরগরম। এখন তা কিছুটা স্তিমিত হলেও এরই মধ্যে রাজনীতিতে নানা ঘটনা ঘটছে। অন্তত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তা ক্রমেই ষ্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুদ্ধটা এখন ট্রাম্প বনাম জো বাইডেন হচ্ছে একথা বলা যায়। কারণ ইতিমধ্যেই সরে দাড়িয়েছেন জো বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স। তাই মার্কিন রাজ্যের নির্বাচনের ছবিটাও ক্রমেই ঝাপসা থেকে ষ্পষ্ট হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের বিপরীতে যে লড়াই করবেন তিনি অবশ্যই এমন একজন প্রার্থী হবেন যে একজন যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। সে যদি বাইডেন হয় তাহলে কি ট্রাম্পকে তিনি হারাতে পারবেন? যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ঐতিহ্য হলো একজন প্রেসিডেন্ট দুই বারই ক্ষমতায় থাকেন। যদিও গত ১০০ বছরে একাধিকবার ব্যতিক্রমও ঘটেছে। প্রথমে বাইডেন ও স্যান্ডার্স এর মধ্যেকার মনোনয়নের লড়াই বেশ জমেই উঠেছিল। তবে যত দিন গড়িয়েছে স্যান্ডার্স ততই পিছিয়ে পরেছেন। ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থীদের মধ্যে বাইডেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ। তবে আলোচনায় ছিল বার্নি স্যান্ডার্সের নামও। তিনিও বেশ জনপ্রিয়। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তাকে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীও ভাবা হচ্ছিল। বার্নি স্যান্ডার্স একজন সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী দাবি করা ব্যক্তি। তিনি এমন একটি অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন দেখেন যা শুধু ধনীদের জন্য নয় সব পর্যায়ের মানুষের জন্য কাজ করবে। তিনি কর্পোরেট মুনাফাবাদের বিরোধীতা করে এবং রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটানোর প্রত্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রচারণা শুরু করেন।

কিন্তু যেদিন ১৪ টি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় তখন বাইডেন এগিয়ে যান। এতে ককাস ও প্রাইমারির মতো বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে জয় ছিনিয়ে নেন বাইডেন। এর ফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সকে পেছনে ফেলেন। এটি ছিল উল্লেখযোগ্য বিজয়। এরপর থেকে পিছিয়ে পরতে থাকেন স্যান্ডার্স। বিপরীতে উজ্জল হতে থাকে বাইডেন। ফ্লোরিডা, ইলিনয় ও আ্যারিজোনা এই তিনটি অঙ্গরাজ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। করোনাকালীন সময়ে যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা থমকে গেছে তখনও নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়নপ্রত্যাশী জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এখন ডেমোক্র্যাট দলে বাইডেন ছাড়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার মতো আর কেউ নেই। রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহলের ধারণা, পরপর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পরাজয়ের কারণেই বার্ণি স্যান্ডার্স প্রেসিডেন্ট লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। কারণ বিগত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ফলাফল তার জন্য আশাব্যঞ্জক ছিল না। বারবারই জো বাইডেনের এগিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এখন বাইডেনের রানিংমেট কে হবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সেক্ষেত্রে বাইডেন আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন একজন নারীকে তিনি রানিংমেট বানাবেন। যাই হোক সবকিছু ঠিক থাকলে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এবং বাইডেনের মাঝেই প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার কথা। এতে কে বিজয়ী হবেন?

প্রথমবার ট্রাম্প ক্ষমতায় আসে মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন এই  শ্লোগান নিয়ে। আমেরিকা তার সময়ে কতটা গ্রেট হয়েছে তার বিচার করবে সময়। ৪৫ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নির্বাচনে রাশিয়ার সাথে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠে। এখন করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত হলেও নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য তিনি জোর প্রচারণা শুরু করেছিলেন। ট্রাম্পের অভিশংসনের ঘটনাকে দুই দলই নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারে মনে হচ্ছিল। একপক্ষ অভিশংসন প্রক্রিয়ায় অন্তত বিচারের মুখোমুখি করা এবং অন্য পক্ষ অভিশংসন থেকে অব্যাহতি পাওয়া। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এতটাই যে পরিস্থিতি সামাল দিতেই সময় পার হয়ে যাচ্ছে। ফলে আপাতত নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সুযোগ কম। তবে ট্রাম্প কতটা দক্ষভাবে এই মহামারীরর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে সেটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী করোনা ইস্যুতে জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে ট্রাম্পের। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ পর্যন্ত যে ভূমিকা রেখেছেন তাতে দেশটির জনগণ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এবিসি নিউজ এবং ইপসোস যৌথভাবে এক জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, গত মাসের মাঝামাঝি থেকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ছিল শতকরা ৫৫ ভাগ সেখানে এখন তা শতকরা ৪৪ ভাগে নেমে দাঁড়িয়েছে। তবে শতকরা ৮৯ ভাগ মানুষ আমেরিকায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া এবং ট্রাম্পের তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ইপসোস যৌথভাবে চলতি সপ্তাহে যে জরিপ পরিচালনা করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা শতকরা ৪২ ভাগ এসে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে জনপ্রিয়তার মাত্রা ছিল শতকরা ৪৮ ভাগ। তবে একথা ঠিক যে জরিপ সবসময় একরম থাকে না। করোনাভাইরাসের প্রভাব সারা বিশ্বে কতদিন চলবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। করোনাও নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটতে পারে বহু ঘটনা। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং প্রার্থনা করতে হবে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা মোকাবেলা করতে পারি তার জন্য।

লেখক: অলোক আচার্য, শিক্ষক, পাবনা।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 4
    Shares

লেখক অতিথি লেখক

অতিথি লেখকদের ব্লগপোষ্ট এই একাউন্ট থেকে প্রকাশিত হবে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: এই ব্লগের লেখা কপি করা যাবে না