মন খারাপের খবর, অপেক্ষা আজ মৃত্যু বা সুদিনের

()
মন খারাপের খবর বলছি, মন খারাপ করেই বলছি। দিনে দিনে যেন আমাদের অসহায়ত্ব ফুটে উঠছে। দিনে দিনে অঘোর কালো মেঘ ভর করছে আমাদের মাথার উপর।  মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বক্তব্য  পুরা জাতিকে হতাশ করেছে। তিনি করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রধান হওয়া সত্ত্বেও তিনি জানেন না আসলে কোথায় কী হচ্ছে ! কেন গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হলো, কেন গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতদিন জিডিপির গল্প বলা সরকারের আজ করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হওয়ার ১ মাস পরে এসেও এই ধরনের সমন্বয়হীন আলাপ আসলে আমাদের সামনে কঠিন সময়ের অশনি সংকেত দিচ্ছে। আমাদের  অপেক্ষা আজ মৃত্যু বা সুদিনের।
আমরা প্রার্থনা করছি সুদিন তুমি ফিরে এসো, পৃথিবী তুমি সুস্থ হয়ে উঠো। কিন্তু জানি না বরফ ঢালা এই পথের ঘনত্ব জানি না মেঘে ঢাকা আকাশের দুরত্ব। অনিশ্চিত এক শেষ ট্রেনে চলছি হয়ত।
গৃহবন্দি সময় অনেকের ২০ দিন পার হচ্ছে। সরকার ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে কিন্তু বিশ্বাস রাখেন এই মেয়াদ আরও বাড়বে। বাড়াতে হবে। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেছেন আগামী ৩০ দিন বাংলাদেশের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ সময়।

জ্যামিতিক হারেই বাড়ছে সংক্রমণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহে দেখি রোগী হাজার, পরের সপ্তাহে লাখ, এখন পরবর্তী সপ্তাহে মিলিয়নে বা আগামী মাসে কোটিতে পৌঁছাবে না এটা ভাবা যাচ্ছে না। সে দেশে ইতিমধ্যে আক্রান্ত বৃদ্ধ বা ডায়বেটিস ,হ্নদরোগসহ আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিতসা দেওয়া হচ্ছে না। মৃত্যু যাদের নিশ্চিত তাদের চিকিৎসা দিয়ে কী হবে!

আমাদের দেশে গত পরশু ৯ জন, গতকাল ১৮ জন আর আজ ৩৫ জন নতুন আক্রান্ত, দুইয়ের অঙ্ক থেকে তিনের অঙ্কে যেতে কতক্ষণ!  ১ দিনে মারা গেছে ৪ জন৷ মৃত্যুর  মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে ৷ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এভাবে জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকলে কীভাবে সামাল দিবে রাষ্ট্র আমরা ভাবতে পারি না। সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।
চট্টগ্রামে যে বৃদ্ধ আক্রান্ত হয়েছেন তিনি মারাত্মক অন্যায়ভাবে  ডাক্তারের কাছে বিদেশ ফেরত ব্যক্তির সংস্পর্শের তথ্য লুকিয়েছিলেন। ফলে ডাক্তার ও নার্সসহ ১৫ জন সেবাকর্মী কোয়ারেন্টাইনে। তিনি হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। কী সাংঘাতিক অন্যায় ভেবে দেখুন। ফলে আমার বাড়ির ২/৩ কিলোমিটার উত্তরে একটি মহল্লাও লকডাউন। গতরাতের খবর, চট্টগ্রামের ৩৫ বছরের আরেক যুবকও আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি একটি সুপার শপের কর্মী। কমিনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হলো আরকি। কক্সবাজারে আক্রান্ত ওমরা ফেরত ব্যক্তির সৌদি থেকে আসার প্রায় ৯ দিন পর সংক্রমণ প্রকাশ্য হয়েছে। তাহলে ভাবুন কতজনের শরীরে বর্তমানে ভাইরাস সংক্রমিত আছে! আমরা জানি না।
সময় যতই গড়াচ্ছে আশঙ্কা বাড়ছে সেই সাথে বাড়ছে অভাব আর ক্ষুধা। এটা যুক্তরাষ্ট্র না। এখানে গরীব লোককে বাঁচতে লাইনে দাঁড়াতে হয়। ২০ দিন ঘরে বসে থেকে শ্রমজীবি মানুষ আর বসে থাকতে পারছে না। ক্ষুধা বাড়ছে। ত্রাণ বা সাহায্য প্রদানে নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে, আত্মসাত হচ্ছে অহরহ।  আজকে মসজিদে নামাজ পড়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ এখনো নিয়ম মানছে না। বাইরে বের হচ্ছে, ঘুরছে , ফিরছে। ফলে হয়ত শুরু হয়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর কমিনিটি ট্রান্সমিশন।
বর্তমান সরকার বেশ শক্তিশালী সরকার। সরকার চাইলে বিমানবন্দরেই ঠেকাতে পারত করোনা। এরপর লকডাইনের নামে সাধারণ ছুটি দেওয়া হলো। মানুষ গেল শইয়ে শইয়ে গ্রামে, বরিশালের লঞ্চের ছবিটা যেন মৃত্যু পথ যাত্রীর। এখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে কী তামাশাটাই না করা হলো।
আমাদের রেমিট্যান্স  বন্ধ। আমাদের গার্মেন্টসের কাপড় যারা পরে তাদের শবযাত্রা চলছে আটলান্টিকের পাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ১ বছর লক ডাইন থাকলেও ঘরে বসে খাওয়ার সক্ষমতা আছে তাদের। আমরা কী পারব! যাই হোক আমি অন্তত আমার এলাকার খবর রাখি, আমার এলাকার চিত্র আমার কাছে পরিষ্কার। নিম্নবিত্ত মানুষের পাশাপাশি নিম্ন মধ্যবিত্তদেরও  টান পড়েছে ইতিমধ্যে। সামনের রমজানে কী হবে ভাবা যায় না। মানুষের পেটে সেহরি ইফতার জুটবে কিনা নিশ্চয়তা নেই। শুধু মৃত্যু নয় আমাদের দেশকে সইতে হবে ক্ষুধাও।
আমাদের হয়ত একদিন ঠিকই বসন্ত ফিরবে।কিন্তু এরই মধ্যে অনেক কিছুই হারিয়ে যাবে। কত সুন্দর অনাগত স্বপ্নে সাজানো ছিল সময় তার হয়ত অনেক কিছুই ঝরে পড়বে। হয়ত অনেকে বেঁচে যাব, অনেকে না , কিন্তু আমাদের খুব কাছ দিয়ে যাবে অসহায় মৃ্ত্যু।
আসুন ক্ষমা করে দেই, একে অপরকে। ক্রোধ, হিংসা , মান-অভিমান , ভুল বুঝাবুঝি না রাখি। এই কঠিন সময়গুলোতে একে অপরের খোঁজ নেই, মানসিক সাপোর্ট দেই। আমাদের সবাইকে বাঁচতে হবে সুন্দর পৃথিবীর জন্য। যদিওবা আমাদের সেই পৃথিবীর অনেক কিছুই আগের মতো রইবে না।
আমাকেও ক্ষমা করুন, প্রার্থনা করুন সুন্দর পৃথিবীর জন্য।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 96
    Shares

লেখক শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: এই ব্লগের লেখা কপি করা যাবে না