মধ্যবিত্ত

()

আজ সকালেই বুঝেছিলাম দিনটা কেমন যাবে। যা ভেবেছিলাম তার শতভাগ টের পাচ্ছি এখন। তবে দিনটা যে আমার খুব সুখকর হবেনা তা এতক্ষনে অনেকেই বুঝতে পেরেছেন।

প্রথমত, ভাঙ্গা আয়নাটার কথাই বলি ; সেই ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি ভাঙ্গা আয়নায় মুখ দেখা ঠিক নয়। দেখলে নাকি সাইত নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ সকল ভালো কাজেই বাগড়া লাগে। আবার ভাঙ্গা চিরুনি দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ালে নাকি বুদ্ধি – বিদ্যা কমে যায়!
যাইহোক আমার আয়নাটা যে কবে ভেঙ্গে গেছে তা বলার সার্ধ আমার নাই।
এবার আসি পরের প্রসঙ্গে ; আজকে একটা চাকুরির ইন্টারভিউ ছিল। সভাবতই ঘুম থেকে উঠে, পরের সমস্ত ছোট ছোট কাজ শেষ করে। ঘরে খাবার যা ছিল মুখে দিয়ে, আমার আধ – পুরানো ভালোমতো ইস্ত্রি করা শার্ট প্যান্ট পরে ঘর থেকে বের হলাম। আমি তখন সবে সরু গলিটা দিয়ে যাচ্ছি আর ওমনি পাশ থেকে কিছু পানির ঝটকা খেলাম। আহা! কত পরিষ্কার একপ্লেট এটো পানি? আমার ইস্ত্রি করা একমাত্র ভালো শার্ট নষ্ট হয়ে গেল মুহুর্তে! কিন্তু যেই ভদ্র লোক এক কাজটি করলেন উনি প্রায় সত্তরার্ধো এক মুরুব্বি আর আমি ছাব্বিশার্ধো। তাই কি আর করার ওই আয়নাটাকে কিছু গাল-মন্দ করে আবার হাটা আরম্ভ করলাম।

(দুই),
আষাঢ় মাসের আকাশ আর মেয়েদের মন বুঝা বড় দাই ;
কখন যে এদের রঙ বদলাবে কেউ জানেনা। তারুপর ঢাকায় আমার বসবাস। বুঝতেই পারছেন কি পরিমাণ যন্ত্রণা দেই ট্রাফিকজ্যাম। আর যদি একবার বৃষ্টি হয় তো বলাই বাহুল্য। আজকেই কেন বৃষ্টি হতে হবে এমন আসময়ে? যদি বৃষ্টি হবে তবে ঘরে থাকতেই এলেনা কেন? নাকি আমায় ভেজাবে বলেই ঠিক করে রেখেছিলে, নাকি আমায় বৃষ্টি তুমি খুব ভালবাসো?
একবার ভেবেছিলাম সি.এন.জি নেব, কিন্তু পকেটের দিকে দেখে বাধ্য হয়ে বাসে ওটতে হলো। অবশেষ মিরপুর বাস থেকে নামলাম ১০টা বাজার ২ মিনিট আগে। মোহাম্মদ পুর থেকে মিরপুর পাক্কা দেড় ঘন্টা শেষ। আবার কে জানত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আমিই প্রথম। শেষ পর্যন্ত পরিক্ষা আর দিতে পারলাম না!
এইযে এখানে বসে আছি। আর ওদিকে ভাইভা পরিক্ষা চলছে। এবার কার উপর দোষ দিব ঠিক বুঝে ওঠতে পারছিনা। ট্রাফিকজ্যাম কে, নাকি কপালের উপর অথবা বৃষ্টি? না আসলে আমার নিজেরি দোস। সত্যি কথা বলতে কী আমি একটু অলস! সবকিছু জানার পরেও ঘুম থেকে দেরী করে ওঠলাম। আসলে এটা আমার ইচ্ছে আলসেমি না। ওই যে রাতে সময়মত ঘুম আসেনা! তাও আবার এমনি জেগে থাকিনা, মানসিক অস্থিরতা। – তাও তো আমার দোষনা এটা। আমি যে গরীব। আমাকে তো অনেক কিছুই ভাবতে হয়। ঘরে মা আছে, বাবা, ছোট ভাই আছে বিবাহ উপযুক্ত ছোট বোন।
আমার যে একটা চাকরী পেতেই হবে! যদি C.N.G ভাড়া দিয়ে টাকা নষ্ট করি, তবে আগামীকাল আরেকটা চাকরী জন্য আবেদন করব কিভাবে? আমাকে তো উপাস থাকতে হবে। আমাকে যে অনেক কিছুই ভাবতে হয়! আবার মুখে হাসিও ধরে রাখতে হবে, নতুবা আমার চাকরী তো আর হবেনা। গোমড়া মুখো মানুষের সাথে কী কেউ মেশে? – মিশতে চাই।
যাইহোক এখানের মানুষ গুলো খুব মন্দ নয়। উনাদের বোঝাতে পেরেছি আমি গরীব না, কিন্তু রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম তাই আসতে কয়েক মিনিট দেরী হলো। আর উনারা তা মেনে নিয়ে সবশেষে আমার ইন্টার্ভিউ নিতে রাজি হয়েছেন।

অবশেষ আমার ডাক এলো, এবার যেতে হবে ইন্টার্ভিউ দিতে সবাই দোয়া করবেন।

(৩),
কি ভাবছেন? আমার চাকরী টা কি হবে? না এবার কিছুটা চিন্তা কমবে। হয়ত আর চাকরীর পত্রিকাদি ঘেটে দেখতে হবেনা কোথায় কোথায় চাকরির আবেদন করার যোগ্যতা আমার আছে?
হ্যাঁ চাকুরীটা আমার এবার হয়েই গেল। কিন্তু বোনটাকে যে এবার বিয়ে দিতে হবে?

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

আপনি কি এই পোস্টটি দরকারী মনে করছেন?

সামাজিক মিডিয়াতে জানান!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক মুহাম্মদ নাজমুল হক

পেশাঃ ফিজিওথেরাপীস্টrnনেশাঃ লেখালেখি করাrnশখঃ বই পড়া , ভ্রমন আর অদুর ভবিষ্যতে ফিল্ম মেকিং এর ইচ্ছা আছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!