সোমবার , জুলাই ২২ ২০১৯

বেলা শেষে এসে ফিরে পায়নি তোমায়

বেলা শেষে ফিরে
এসে পাইনি তোমায়

লাল গোলাপ এনে দিতে না পারলে মেয়েটা আমার সাথে নাচবে না বলেছে, বলতে বলতে কেঁদে ফেলল ছেলেটা,অতচ বাগানে কোনও লাল গোলাপ নেই!
ওক গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে নিজের বাসা থেকে কৌতুহলী চোখে তাখাল এক বুলবুলি।ছেলেটার দুঃখের কথা শুনে তাকে সাহায্য করবে বলে মমনস্থির করল।আসলেই সত্যিকার এক প্রেমিকের দেখা পেয়েছি আজ আমি,বলল বুলবুলি,ভাবল গান শুনিয়ে প্রেমিকের মন ভালো করে দেবে। কিন্তু পরক্ষণেই সে উপলব্ধি করল একাকীত্বের অনুভূতির সিথে সাথে প্রেমিককে অবসাদে ডুবিয়ে দেবে ওর গান!

উড়ন্ত এক প্রজাপতি এসে জিগ্যেস করল,ছেলেটা কাঁদছে কেন?জবাব দিল বুলবুলি একটা লাল গোলাপের জন্য সত্যিকারেরর প্রেমের জন্য।লাল গোলাপের জন্য?কী হাস্যকর! ব্যঙ্গভরে হেসে উঠল প্রজাপতি কিন্তু কেবল বুলবুলি ছেলেটার ব্যথা বুঝতে পারলো।ওক গাছের ডালে চুপচাপ বসে ভালোবাসার রহস্য নিয়ে ভাবতে লগল সে।হঠাৎ বাদামি ডানা দুটো মেলে উড়াল দিল বাতাসে,ছায়ার মত পেরোল পুরোটা বাগান।একটা গোলাপঝাড় দেখে সেদিকে উড়ে গেল বুলবুলি,বসল একটা ডালের ওপর।একটা লাল গোলাপ দিতে পারো যদি তবে আমার সবচেয়ে মিষ্টি গানটা শোনাবো আজত তোমাকে ডেকে বলল বুলবুলি।কিন্তু মাথা নাড়ল গোলাপ গাছ।আমার গোলাপেরা সাদা গো

বুলবুলি,উত্তর দিল সে।তবে আমার ভাই পুরনো গোলাপঝাড়ের কাছে যেতে পারো;তুমি যা চাইছো তা হয়তো পাবে।
শোনামাত্র বুলবুলি উড়াল দিল পুরনো গোলাপগাছের দিকে।একটা লাল গোলাপ দিতে পারো যদি তবে আমার সবচেয়ে মিষ্টি গানটা শোনাবো আজ তোমাকে। গোলাপ গাছকে ডেকে বলল বুলবুলি।কিন্তু মাথা নাড়ল গোলাপ গাছ।আমি বড্ড বুড়িয়ে গিয়েছি, উত্তর দিল সে। শীত এসে আমার শিরাগুলোকে জমিয়ে ফেলেছে, বরফে নষ্ট হয়ে গিয়েছে আমার অঙ্কুরগুলো আর ঝড়ে ভেঙ্গেছে ডাল।এ বছর আমি আর কোন গোলাপ ফোঁটাতে পারবো না।

একটামাত্র লাল গোলাপ চাই আমার মিনতি করলো বুলবুলি মাত্র একটা পাওয়ার কি কোনও উপায় নেই? একটা উপায় অবশ্য আছে, গোলাপ গাছ বলল কিন্তু সেটা এত ভয়বহ যে তোমাকে বলার মতো সাহস আমার নেই।
বলো আমাকে, বুলবুলি বললো, আমি ভয় পাই না।লাল গোলাপ পেতে চাইলে তোমাকে চাঁদের আলোয় সুর দিয়ে তৈরি করে নিতে হবে,আর নিজের হৃদয়েরর রক্তে রাঙাতে হবে তাকে। আমার কাঁটায় বুক পেতে দিয়ে গান শোনাতে হবে।

সারারাত তুমি আমাকে গান শোনাবে আমার কাঁটা তোমার হৃদপিন্ড ভেদ করবে আর তোমার রক্ত বইবে আমার শিরায় শিরায় তোমার রক্ত আমার শরীরে মিশে জন্ম দেবে লাল গোলাপ। গোলাপ গাছ উত্তর দিল।তারপর আকাশে যখন চাঁদ উঠলো বুলবুলি তখন গোলাপ গাছটার কাছে উড়ে গিয়ে কাঁটার নীচে বুক পেতে দিল।সারা রাত জুড়ে কাঁটায় বুক রেখে গাইলও আর ঠান্ডা কাঁচের মতো চাঁদটা নুয়ে এসে শুনল সে গান। কাঁটাটা ওর বুকের গভীর থেকে গভীরে যাওয়ার সাথে প্রাণরস বেরিয়ে যেতে লাগল একটু একটু করে। নরনারীর হৃদয়ে সবচেয়ে উঁচু

শাখায় ফুটলো চমৎকার এক গোলাপ একেকটা গানের সাথে সাথে একটা করে পাপড়ি মেলল।ধীরে ধীরে বুলবুলির রক্ত শুষে নিয়ে রক্তিম আভা ফুটে উঠল গোলাপের পাপড়িতে। আরও কাছে ছোট্ট বুলবুলি মিনতি করল গাছ তা না হলে গোলাপটাপরিপূর্ণ হবার আগেই রাত ফুরিয়ে যাবে।

বুলবুলি তখন আরো জোরে বুক চেপে ধরল কাঁটার গায়ে, সে কাঁটা ওর হৃদপিন্ড স্পর্শ করলো হঠাৎ তীব্র একটা ব্যথার তীর ছুটে গেল ওর শরীর দিয়ে ব্যথার তিক্ততা বাড়ার সাথে সাথে ওর গানের সুরও তীব্র থেকে তীব্রতর হলো। আশ্চর্য সুন্দর গোলাপটা তখন রক্তিম বর্ণ ধারণ করল ঠিক পুবাকাশের লালিমার মতো। কিন্তু বুলবুলির কন্ঠে আবছা হয়ে এলো ছোট্ট ডানা দুটো ঝাপটাতে লাগল প্রাণপণে।সমস্ত শক্তি দিয়ে উড়ে

প্রেমিকের জানালার পাশে লাল গোলাপটা রেখে দিল সে। তারপর লম্বা ঘাসগুলোর মাঝে মরে পড়ে রইল।
শব্দ শুনে ঘরের জানালা খুলে বাইরে তাকাল ছেলেটা। ইশ কী সৌভাগ্য আমার খুশিতে চিৎকার করে উঠল সে একটা লাল গোলাপ!এত সুন্দর গোলাপ আমি জীবনে বোধহয় কম,ই দেখেছি।
আকাশে তখন সূর্য উঠছে ফুলটা কুড়িয়ে নিয়ে প্রেয়সীর বাড়ির দিকে ছুটল সে।

বলেছিলে একটা লাল গোলাপ এনে দিতে পারলে আমার সাথে নাচবে তুমি হাসিমুখে বলল ছেলেটা।এই নাও পৃথিবীর সবচেয়ে লাল গোলাপ।ভ্রু কুঁচকে তাকাল মেয়েটা।আমার জামার সাথে এটা মানাবে বলে মনে হয় না উত্তর দিল সে আর তাছাড়া আজ রাতে আমার নাচের সঙ্গী আগেই ঠিক করে রেখেছি।

রাগে হতশায় সজোরে গোলাপটা রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলল প্রেমিক নর্দমায় গিয় পড়ল সেই ফুলটা আর একটা গাড়ির চাকা এসে মাড়িয়ে গেল।নিজের ঘরে ফিরে গেল ছেলেটা ধুলোজমা বিশাল এক বই বের করে পড়তে শুরু করলো। না এই বইগুলো কখনোই সাধ্যের বাইরে কিছু এনে দিতে বলেনি ওকে।

সুবোধটা বসে বসে লিখছে

প্রতি রাতে,বিছানায় খুঁজি তারে;
খুঁজে বেড়াই সেই স্বপ্নের রানি যার সাথে মোর আত্নার বন্ধন।
তবে হায়,তারে খুঁজে পাওয়া দায়।
তাই আমি খুঁজতে বেরোই,শহরের অলিতে গলিতে, চত্বরে চত্বরে
খুঁজে বেড়াই সেই স্বপ্নের রানি যার সাথে মোর আত্নার বন্ধন।
তবে হায় তারে খুঁজে পাওয়া দায়।
অবাক হয়ে শুধায় নগরের প্রহরী ;
উল্টো প্রশ্ন করি আমি-
দোখছ কি তারে, যার প্রেমে আমার হৃদয় পোড়ে?
থমকে দাঁড়িয়ে, খুজে পাই তারে ;
সেই স্বপ্নের রানি যার সাথে মোর আত্নার বন্ধন।
শক্ত করে আঁকড়ে রাখি,কেমনে হারাবে সেই পরাণ পাখি?

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার ইমরান মুন্না

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!