পাহাড়ের কান্না

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই পাহাড়ের কান্না শুরু হয়েছিলো যা আজ অবদি সেই কান্না চলমান।একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অংশ “পার্বত্য চট্টগ্রাম”। গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ে পরিপূর্ণ।পার্বত্য চট্টগ্রাম বা পাহাড় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অতোপ্রোত একটা অংশ হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বা পাহাড়ের মাটিতে নেই কোন স্বাধীনতার চিহ্ন,পাহাড়ের আদিবাসীদের নেই কোন স্বাধীন দেশের স্বাধীন সার্বভৌমত্বের গণতান্ত্রিক অধিকার।


পাহাড়ে যুগযুগান্তরে বসবাস করা আদিবাসীরা কোননা কোনভাবে বিশেষ শোষন বঞ্চনার শিকার বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র কতৃক। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তথকালীন ক্ষমতাসীন সরকার আওয়ামীলীগের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে “পার্বত্য চুক্তি” স্বাক্ষরিত হলে পাহাড়ের আদিবাসীদের মানসিক পরিবর্তীত হওয়ার কিছু সম্ভাবনাময়ী রূপরেখা দেখা দেয়।কারণ আদিবাসীরা “পার্বত্য চুক্তি”র মধ্য দিয়ে আশান্বিত হয়েছিলো যে,সকল শোষন বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এবার বুঝি পাহাড়ের আদিবাসীদের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে।স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বাধীন স্বপ্ন বাসা বাঁধতে থাকে আদিবাসীদের মনে।সকল অতীত বাস্তবতাকে দূরে ঠেলে নতুন জীবনপ্রণালী গঠনের দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়েছিলো আদিবাসীদের মনে।

কিন্তু অপ্রিয় হলেও বাস্তব সত্য যে,পার্বত্য চুক্তির মধ্য দিয়ে মুক্ত আলোর স্বাধীন বাতাসে স্বাধীন স্বপ্ন দেখা আদিবাসীদের স্বপ্নের সফলতা বরাবরই রয়ে গেল শূণ্যতার জায়গাতে। দীর্ঘ ২২টি বছরের পরও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হয়নি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের প্রাণের দাবি “পার্বত্য চুক্তি”,আওয়ামীলীগ সরকারের অনীহা এবং অবহেলার কারণে।বরং আওয়ামীলীগ সরকার “পার্বত্য চুক্তি” পরিপন্থী এবং আদিবাসী স্বার্থপরিপন্থী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে একের পর এক ধারাবাহিকভাবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা শাসনের নামে জারি করা হয়েছে দাবানলীয় নীতি।পর্যটন নামের অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন দেখিয়ে নানাভাবে বেদখল করা হচ্ছে আদিবাসীদের বাপ দাদা চৌদ্দ পুরুষের ভীটেমাটি,উচ্ছেদ করা হচ্ছে হাজার হাজার আদিবাসী পরিবারকে এবং বানানো হয়েছে নিজ ভূমিতে পরবাসী।


রাষ্ট্র কতৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা পাহাড়ের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন নির্যাতনের ইতিহাসে পাহাড়ের কান্নার কোন ইতি নেই।ক্রমশ বেড়ে চলেছে পাহাড়ে পরাধীন কান্নার হুংকার।
রাষ্ট্র চাইলেই পারে পাহাড়ের পরাধীন কান্নার হুংকারের ইতি করে দিতে।ব্যাক্তিগতভাবে আমিও চাই স্বাধীন সার্বভৌম দেশে আমার/আমাদের পাহাড় ভালো থাকুক,ভালো থাকুক পাহাড়ের আদিবাসী প্রকৃতিপ্রেমী মানুষগুলো।মুক্ত আলোর স্বাধীন বাতাসে বেঁচে থাকার নিরন্তর স্বপ্ন বুনতে পারুক পাহাড়ের আদিবাসী মানুষগুলো।স্বাধীনভাবে ছুঁটে চলতে থাকুক পাহাড়ের দিগ দিগন্তে স্বাধীনতার গুণ গুণ বাতাসে গান করে আমার আদিবাসী বোনটি।”পার্বত্য চুক্তি”র পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্র ফিরিয়ে দিক আদিবাসীদের বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ মৌলিক অধিকার।বিশ্বের মানচিত্রে অক্ষুন্ন থাকুক স্বাধীন বাংলাদেশের সুনাম।ভালো থাকুক আমার পাহাড়।স্বাধীনতা ফিরে পাক আমার পাহাড়।

শেয়ার করুন

ব্লগার তপন চাকমা

নিপীড়িত,নির্যাতিত,শোষিত,বঞ্চিত,সর্বহারা মেহনতি মানুষের পক্ষে থাকবো সদা সর্বদা

একটি মন্তব্য

  1. স্বাধীনতা ফিরে পাক আমার পাহাড়…সুন্দর লেখনী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।