সোমবার , জুন ১৭ ২০১৯

নারীমুক্তির দায় নারীদের

অনেক নারী আছে যারা সো-কল্ড নারীবাদী। নারীমুক্তির আন্দোলনের নামে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ভেঙে নারীতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। পৃথিবীটা সবার, নারী এবং পুরুষের, ব্যবধান শুধু লিঙ্গ ভিত্তিক। সেদিন এক নারীর সাথে মদ গিলতে আর সিগারেট টানতে টানতে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ আড্ডা গিয়ে ঠেকলো নারীবাদে। সে নারী সরাসরি পুরুষদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে দিচ্ছিলো। নারীবাদী পুরুষ সে জীবনে অনেক দেখেছে, সুযোগ পেলেই নাকি বিছানা ভাগ করার অফার করেছে। ব্লা ব্লা ব্লা। কথা হলো সবাই যৌনতার অন্তর্ভুক্ত, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বলেই বেশিরভাগ পুরুষ নারীকে যৌন প্রস্তাব দিচ্ছে এবং এটা স্বাভাবিক বরং অস্বাভাবিক বলপ্রয়োগ, বাধ্য করা। প্রস্তাবের পর আপনার উপর নির্ভর করে যাবেন কি যাবেন না। সেক্স এর প্রস্তাব নিশ্চয় অপরাধ নয়!!

সরাসরি প্রশ্ন করলাম আপনার কাছে নারীবাদ কি? উত্তর ছুড়ে দিলো। নারীবাদ মানে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা। বেশ খুব ভালো। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা আসলেই নারীবাদের মূল কেন্দ্র হওয়া উচিৎ। অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যদি নারীতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেন তা নিশ্চয় নারীবাদ না। বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা যেমন নিগৃহীত, নিষ্পেষিত, শোষিত, একটি নতুন নারীতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা হলে পুরুষরাও বর্তমান নারীর মতো নিগৃহীত হবে শোষিত হবে। নারী-পুরুষের সমান অধিকার বরং মূল আন্দোলন হতে পারে।

নারীবাদ চর্চা করতে গিয়ে আপনি একচেটিয়া পুরুষের প্রতি ঘৃণা ,গালাগাল নিক্ষেপ করতে পারেন না। অস্বীকার করতে পারেন না এই সমাজে কোন পুরুষেরই কোন কন্ট্রিবিউশন নেই। বর্তমান সমাজে নারীরা নিজেদের নিজেরা প্রোডাক্ট বানিয়ে রেখেছে, নিজেরা ভালোবাসছে ঘর বন্দি পাখি হিসেবে থাকতে। এইতো সেদিন এক মেয়ে তার অন্য মেয়ে বান্ধবীকে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে সুন্দরী, সবার ক্রাশ, হিসেবে। সে ত লজ্জ্বায় গদগদ হয়ে পড়লো। নারী বিয়ের আগে নিজেকে বেশ স্বাধীন হিসেবে ঠিকিয়ে রাখে বিয়ের পরে হয়ে যায় দাসী, ভাত কাপড়ের দাসী, যৌন বস্তু। বিয়ের অর্থ এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে নারীর যোনি টাকার হিসেবে ভাড়া নেওয়া। পুরুষের যেমন রাত বারোটার পর বাইরে থাকার অধিকার রয়েছে একটি নারীরও রয়েছে,।

নারীবাদ মানে যদি নারী পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা তাহলে বিয়ের আগে একজন নারী পুরুষের কাছ থেকে কেনো সিকিউরিটি নিবে? নির্দিষ্ট একটি কন্ট্রাক্ট এর ভিত্তিতে নারী পুরুষ একসাথে জীবন কাটাবে, নিজেদের মধ্যে নিজেরা ভারসাম্য না রাখতে পারলে আলাদা হয়ে যাবে এটাই তো হওয়া উচিৎ। নারীকে টাকা দিয়ে আলাদা করতে হবে কেনো। নারীদের নিজেদের এই জায়গাগুলোতে আগে পরিবর্তন আনতে হবে যদি সমঅধিকার নিশ্চিত করতে চায়। সমাজে অনেক মিথ চালু, নারীকে বন্দি এবং বশ করার অন্যতম মিথ হচ্ছে। আফটার সেক্স ম্যান হ্যাজ নো চেঞ্জ, স্টিল নাও হি হেজ বিন ভার্জিন বাট আ ওইমেন জাস্ট গু টো ডাস্টবিন, শি লস্ট হার ভার্জিনিটি। শারীরিক সম্পর্কে নারীর ভার্জিনিটি চলে যায় পুরুষের একটা বালও ছেড়ে না।

নারীকে সবচেয়ে বেশি বস্তা বন্দি করেছে ইসলাম। নারী ঘরের বাইরে যাওয়া পাপ, নারীর উচিৎ নিজেকে বস্তার মধ্যে ঢুকে থাকা, পুরুষ যাবে ঘরের বাইরে, টাকা কামাবে, নারীর কাজ শুধু ঘরে রান্না বান্না করা আর সন্তান লালন পালন করা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা ইসলামের দ্বারা হয়েছে বললে ভুল বলা হবে না। নারীকে মুক্তি পেতে হলে ভাঙতে হবে ধর্মীয় কু-প্রথাগুলো। নারী আজ ঠিকই ঘরের বাইরে এসেছে, উপার্জন করতে শিখেছে, তারপরেও নিজেকে মুক্ত করতে পারে নি। সময় অতিবাহিত , পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ভেঙে নারীতান্ত্রিক কিংবা সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা হবে আগামী প্রত্যাশায়।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার শিপ্ত বড়ুয়া

শূন্য দশকের অপরাধ

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!