সোমবার , জুলাই ২২ ২০১৯

দ্বন্দ্ববাদ অবধারণা

রূপান্তরের এক পদ্ধতি : অবধারণা হচ্ছে চেতনা ও বাস্তবের পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানার্জন । কোনো বিজ্ঞান শুধু অতীতের জ্ঞানার্জনের ফলই নয়, নতুন নতুন সত্য আবিষ্কারেরও হাতিয়ার । অর্থাৎ যে কোনো মানবিক জ্ঞান নতুন জ্ঞানার্জনেরও পদ্ধতি । সেই অর্থে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ নতুন জ্ঞানার্জনের একটি পদ্ধতি এবং তত্ত্বগতভাবে এই পদ্ধতির গরুত্ব অপরীসীম । ডায়ালেকটিকস নতুন জ্ঞানার্জন ও ব্যবহারিক ক্রিয়াকলাপের সবচেয়ে সাধারণ ও সার্বিক এক পদ্ধতি । তত্ত্বগতভাবে তা বিকাশের প্রবণতাকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে । এজন্য ব্যবহারিক ক্রিয়াকলাপের সাফল্যের নিশ্চয়তা নির্ভর করে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ সম্পর্কিত জ্ঞানের উপর । দ্বন্দ্ববিদ্যা থেকে বিচ্যুতি কর্মপ্রয়োগে ভ্রান্তির কারণ হয় । নির্দিষ্ট বিজ্ঞানের সাথে দ্বন্দ্ববাদের বিচক্ষণ মিলন চিন্তাকে অধিদ্যাগত ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে । দ্বান্দ্বিক-বস্তুবাদী পদ্ধতির সঠিক ব্যবহারের জন্য কতগুলো দাবি মেনে চলা প্রয়োজন । লেনিন মনে করতেন, বস্তুকে বা ঘটনাকে জানতে ওর সমস্ত দিক অর্থাৎ সংযোগগুলো অবশ্য দেখতে ও পরীক্ষা করতে হবে । একটি বস্তুকে জ্ঞানার্জনে নিতে হবে বিকাশে, পরিবর্তনে ও আত্মগতিতে । বস্তুটির বিষয়ে থাকতে হবে মানুষের সমগ্র অভিজ্ঞতা, মানুষের চাহিদার সাথে বস্তুটির সংযোগের ব্যবহারিক দিকগুলো । বোঝতে হবে সত্য সর্বদাই মূর্ত, কখনো বিমূর্ত নয় । সুতরাং এই বিবেচনায় প্রধান দাবিগুলো হলো

(ক) বিষয়মুখ দৃষ্টিভঙ্গি : সামাজিক প্রক্রিয়া ও ব্যাপারসমূহ অধ্যয়ন করতে হবে সেগুলো যেভাবে আছে সেভাবে ।নতুন জ্ঞানার্জনের জন্য জানতে হবে সেগুলো যেভাবে আছে সেভাবে । নতুন জ্ঞানার্জনের জন্য জানতে হবে এর সারমর্ম ।

(খ) সর্বাত্মক বিশ্লেষণ : বস্তুবাদী দ্বন্দ্ববিদ্যা বাস্তবের প্রক্রিয়া ও ব্যাপারসমূহের এক সর্বাত্মক বিশ্লেষণ দাবি করে । বস্তুর বিশ্বজনীন সংযোগের কারণে এই সর্বাত্মকতার প্রয়োজন পড়ে । প্রয়োজন পড়ে বস্তুটির সাথে অন্যান্য বস্তুসমূহের সংযোগগুলোর অধ্যয়ন । কারণ বিচ্ছিন্নতা মতান্ধতা, ভ্রান্তি সৃষ্টি করে ।

(গ) বিরোধ চিহ্নিত করা : কোনো বস্তুর বিকাশের মূল কারণ বস্তুটির মধ্যে নিহিত বিপরীতধর্মী দুটো গুণের উপস্থিতি এবং এর সংঘর্ষ । অবধারণার ক্ষেত্রে এই বিরোধটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে । বস্তু বা ব্যাপারটির সারমর্মে পৌঁছতে পারলেই নতুন সৃষ্টি সম্ভব ।

(ঘ) সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ : সামাজিক প্রক্রিয়া সমূহ ও ব্যাপারসমূহ বিশ্লেষণ করার সময়ে এক সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত । মার্কস বলেছেন, প্রতিটি ব্যাপারকে বিবেচনা করতে হবে শুধু ঐতিহাসিকভাবে, শুধু অন্যগুলোর সাথে সংযুক্তভাবে, শুধু ইতিহাসের মূর্ত-নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার সাথে যুক্তভাবে । অর্থাৎ প্রক্রিয়াটির জায়গা ও সময় গণ্য করতে হবে ।

(ঙ) কর্মপ্রয়োগ : পৃথিবীকে বদলাতে হবে – এটাই লক্ষ্য । বদলানোর কাজই হলো নতুন জ্ঞানার্জনের ভিত্তি ও চালিকাশক্তি । কারণ পৃথিবীকে বদলানোর জন্য প্রথমে তাকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার । তার বিষয়গত নিয়মগুলো জানা থাকা দরকার । সেইসব নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা দরকার । (চ) মূল গ্রন্থিটি খুঁজে বের করা : বৈজ্ঞানিক অবধারণা ও ব্যবহারিক ক্রিয়াকলাপে ঘটনাসমূহের মধ্যে মূল গ্রন্থিটি খুঁজে বের করতে হবে । নানান কর্তব্যের মধ্যে প্রধান কর্তব্যটি নির্দিষ্ট করতে হবে । এটাই হলো সাফল্যের আবশ্যিক শর্ত । বিষয়টি সহজ নয় । একমাত্র দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদই সেটা পারে তার বিকাশের বিশ্বজনীন পদ্ধতি প্রয়োগ করে ।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ব্লগার লুৎফর রহমান

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!