দূরত্ব

()

দূরত্ব জিনিসটা কেমন যেনো।কারো সাথে কথা বলতে চাও না ! মুখ ঘুরিয়ে নাও।শেষ, তাকে কিছু না বলেও বলা হয়ে গেলো তোমাকে দেখতে আমার ভালো লাগে না ,তোমার সাথে কথা বলতে আমি কোন আগ্রহ অনুভব করি না।
অভিমান আর দূরত্ব দুটো ভিন্ন জিনিস।
কার্যকারণ সম্পর্ক বলা যায়। অভিমান যত গাঢ় হবে দূরত্ব তত বেশি হবে। সময়ের সাথে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনের দূরত্ব বাড়তে থাকবে। ভালোবাসা নামক রেলগাড়ির জোর কমে যাবে হয়তোবা মাঝপথে আটকে যাবে।অভিমান ভাঙানো হবে না, চোখের জল মোছা হবে না, আবার একসাথে বসে চা খেতে খেতে গল্প হবে না,চুড়ি পড়ানো যাবে না যদিও কিনে ঘর ভর্তি করা যাবে।
মন্দ না, চুড়ি পড়ার মানুষ না থাকুক, গল্প করার মানুষ না থাকুক, একসাথে শহরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে জোছনা রাতে গল্প করার মানুষ না থাকুক তবুও ঘর ভর্তি চুড়ি থাকুক আর থাকুক মৃদু বাতাসে জেগে উঠা চুড়ির শব্দ।

যখন খুব একা হয়ে যাবে কেউ, যখন ফোন অনবরত বেজে যাবে কিন্তু ফোনের অপর পাশ থেকে কাঙ্খিত কন্ঠস্বরটি শোনা যাবে না তবুও একটা মেয়ে কন্ঠ বলে উঠবে -“আপনি যাকে চাচ্ছেন সে ব্যস্ত “, অথবা যদি বলে উঠে-“এই মুহূর্তে কাঙ্খিত নম্বরটিতে সংযোগ দেয়া সম্ভব না।”
এর মানে অনেক কিছু আবার কিছুই না। সহজভাবে বললে বলা যায়, শেষ গাড়িতে ফেরার মত মনের জোর আর তার নেই।
একাকীত্ব বাড়তে বাড়তে যখন তুঙ্গে তখন বোবা বাক্সের মাঝে একাকীত্ব কাটানোর ঔষধ খোঁজাও বোকামি।
একটা ধমক মায়ার বাঁধন উপড়ে না ফেললেও আলগা করে দিয়ে যায়।
তখন মানুষ ভালো লাগে না। একা একটা অন্ধকার ঘরে আনন্দ লাগে।সঙ্গী হয় অন্যের আদেশে চলা যন্ত্র আর লতাপাতার মত একজোড়া হেডফোন।
যখন বেশি একা লাগে তখন ড্রয়ারে থাকা ঘুমের ট্যাবলেটের কৌটা খুলে ঘুমের ঔষধ ঘুনতে হয়।কখনো দুএকটা খেয়েও ফেলতে হয়।
এই সমাজ, পরিবার, প্রেমিকার সাথে দূরত্ব বেড়ে গেলে ঘরের ছিলিং এর সাথে সখ্যতা বাড়ে।তাকিয়ে থাকতে থাকতে একবার মনে হয় ঝুলে পড়ি পরক্ষণেই চিন্তা হয় ,যদি ভূল বুজে থাকি কাউকে। হয়তো ঘটনা যেমনটা ভাবছি তেমন নয়, হয়তো দেখার মাঝে অল্প আলোর দূরত্ব রয়েছে।মস্তিষ্কের কাছে অল্প আলোর কারণে ঘটনাগুলো আলোকিত হয় নি।
এগুলো মৃত্যুকে পাস কাটানোর একটা অজুহাত মাত্র।কারণ,এত বীরপুরুষ হয়নি সে ,এত সাহস তার হৃদয় সঞ্চার করতে পারে নি যে,এক শিশি ঘুমের ঔষধ গিলে ফেলতে পারবে এক ধাক্কায় অথবা,হটাৎ কাপড় নাড়ার দড়ি তার গলায় পরিয়ে দিবে সে নিজেই, জল্লাদের মত।
নাকি সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়ায় আস্তে আস্তে মেরে ফেলবে সব যন্ত্রনা নাকি নিজেকে মেরে ফেলবে নিজের অজানায়।
সবচেয়ে ভালো বোধহয় হবে হেমলক গাছ লাগালে।এই গাছের পুরো অংশ জুড়েই রয়েছে কোনিইন নিউরোটক্সিন জাতীয় বিষাক্ত বিষ।
এটি আক্রান্ত প্রাণীর দেহের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। কোনিইন মূলত প্রাণীদেহের ‘নিউরো-মাসকুলার জাংশন’-কে ব্লক করে দেয়। যে সব তন্তু স্নায়ুর সাথে পেশীর সংযোগ স্থাপন করে সেগুলোকে নিউরো-মাসকুলার জাংশন বলে। নিউরো-মাসকুলার জাংশন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় স্নায়ুর সাথে পেশীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে, পেশীকোষ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে যেসব পেশী যুক্ত সেগুলোও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় আক্রান্ত প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ না হওয়ায় আক্রান্ত প্রাণী দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
সক্রেটিসকেও দেয়া হয়েছিল এরকম একটি বিষের বাটি।
হেমলক বিষ খাওয়ানোর পর তাকে পায়চারী করতে বলা হলো যাতে বিষ সারা শরীরে ছড়ায়। সে পায়চারী করলো এবং তার পায়ের অনুভব ক্ষমতা শেষ হতে থাকলো এবং এক সময় ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লো।

আচ্ছা, এত দূরত্ব তবু ভালোবাসা কি থাকতে পারে না?
কেমন হয় যদি শরতের সাদা মেঘের সাথে নীল আকাশের মিলন যদি সাদা কাশফুলের উপর শুয়ে দেখা যায়।দেখতে দেখতে যখন তার চোখে -মুখে হাতরাবো সুখের খোঁজে তখন কাশফুলের গায়ে দুটো ফড়িং এসে বসবে, নীল আকাশের নিচে দুজনার মাথার উপর হরেক রঙের প্রজাপতি উড়বে ।
কেমন হবে?
খুব যে খারাপ হবে তা বলার সাহস আমার এ জন্মে হবে না।তবে এতটুকু বলতে পারি জীবনকে নতুনভাবে দেখার একটা সুযোগ হয়তো পাবো।
আহ!
দূরত্ব কত সখ্যতা কমিয়ে দেয় এই পৃথিবীর সাথে, এই পৃথিবীর মানুষগুলোর সাথে।
আর,
ভালোবাসা কতটা তাগিদ দেয় নিজেকে ভালোবাসার।আহ!
রাতে না ঘুমানোয় পুড়ে যাওয়া চোখের আলোয় আরেকটা সকাল দেখবো, ভাঙা গলায় আরেকবার গুনগুনিয়ে গান গাবো আরেকবার ভালোবাসার পাল তুলবো ঝড়ের মাঝে , আরেকবার দূরুত্বের রেখা টানবো পেনছিল দিয়ে যেনো যেকোনো সময় মিটিয়ে ফেলা যায়।
আহা দূরত্ব, আহা।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

আপনি কি এই পোস্টটি দরকারী মনে করছেন?

সামাজিক মিডিয়াতে জানান!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক মো.ইকবাল হাসান

মো.ইকবাল হাসান, লেখাপড়া করছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায়।

২ টি মন্তব্য

  1. আসলেই। আপনার দূরত্ব লেখাটা ভালো লাগলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!