ডাইনোসর ও আদম : তুলনামূলক আলোচনা

()

ডাইনােসর সরিসৃপ গোত্রের প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী। পৃথিবীতে এরা বাস করতাে মেসােজোয়িক কালে। ২৩০ মিলিয়ন বছর আগে থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর আগ পর্যন্ত। ডাইনােসর নামটা তৈরি হয়েছে দুটি গ্রীক শব্দকে যুক্ত করে। মানে বিকট বা ভয়ঙ্কর গিরগিটি। ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে হুট করেই সব ডাইনােসর এক সঙ্গে মারা যায়। এভাবে চিরতরে হারিয়ে যাবার আগে ১৬০ মিলিয়ন বছরের বেশি সময় ধরে তারা পৃথিবীর প্রায় সব এলাকাতেই দাপটের সঙ্গে টিকে ছিলাে। তখন সমুদ্রগুলােতে ঘুরে বেড়াত দানব আকৃতির সব সরিসৃপ। যেমন, মেগালােডন, লাইওপ্লুরিডন। মাটিতে দাপিয়ে বেড়াতাে অসংখ্য রকমের ডাইনােসরেরা যেমন টিরানােসেরস রেক্স, ট্রাইসেরাটপস। কিন্তু সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে বিরাট কিছু একটা ঘটে , যার ফলে তখনকার পঁচাত্তর ভাগ প্রাণীই চিরতরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই বিলােপের উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য হলাে যে পুরাে ঘটনাটা ঘটেছিল খুব দ্রুত। [প্রথম ডাইনােসরের নাম মেগালােসরাস । ১৮২৪ সালে রেভারেণ্ড উইলিয়াম বাকল্যাণ্ড করেছিলেন এই নামকরণ। মেগালোসরাস কথার অর্থ বিরাট গিরগিটি। এটা লম্বায় ছিলাে ৯ মিটার এবং উচ্চতা ৩ মিটার।]

এতগুলাে প্রজাতির ডাইনােসরেরা ঠিক কিভাবে অমন একই সঙ্গে মারা গেল তার কারণ হিসাবে অধিকাংশ বিজ্ঞানী দায়ি করেন বিপুল আয়তনের এক উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুকে। প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে বিশাল সেই গ্রহাণুটা আছড়ে পড়েছিল মেক্সিকোর ইউকাটন পেনিনসুলা উপকূলে। যার আঘাতে পৃথিবীতে অবিশ্বাস্য রকমের বিশাল এক ক্ষত তৈরি হয়েছিল। ১৮০ কিলােমিটার চওড়া এবং ২০ কিলােমিটার গভীর। প্রচণ্ড সেই ধাক্কায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ধুলাের মেঘে ছেয়ে যায়। ফলে কয়েক মাস ধরে পৃথিবী অন্ধকারে তলিয়ে থাকে। তাতে করে সূর্যালােকের অভাবেই একে একে মারা পড়ে গাছপালা, তৃণভােজি প্রাণী, মাংসাশী প্রাণীরা। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত যত ডাইনােসরের খোঁজ পেয়েছেন তাদের সব কটাই ডিম পাড়তাে। তবে সবগুলাে প্রজাতির ডিমের নমুনা পাওয়া যায়নি, চল্লিশটার মত পাওয়া গিয়েছে।

[দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ডাইনােসর সিসমােসােরাস। এদের নাক থেকে লেজ পর্যন্ত ছিলাে ৪০ মিটারেরও বেশি। মানে পাঁচটা দোতলা বাসকে এক লাইনে দাঁড় করালে যতটা লম্বা হয় তার চেয়েও বেশি। আর সব চাইতে জোট ডাইনােসর লেসােথােসােঙ্গাস। পূর্ণ বয়স্ক লেসােথােসােরাস আকৃতিতে এখনকার মুরগির কাছাকাছি হত।]

এমনটা ভাবা স্বাভাবিক যে , বড় বড় প্রাণীগুলাে বােধহয় বেশির ভাগই মাংসাশী। কিন্তু ডাইনােসরদের বেলায় ব্যাপারটা পুরো উল্টো, এদের বড়গুলাে বেশির ভাগই ছিল তৃণভােজি। কোন কোন ডাইনােসরের শুধু মাথার আয়তনই হতাে ছোটখাটো একটা গাড়ির মত বিশাল। তবে এদের মাথার খুলিতে বড় বড় জানালার মত ফাঁকা থাকায় তা অন্য প্রাণীদের মাথার তুলনায় হাল্কা হত। আমরা ভাবি ডাইনােসর মানেই বুঝি বিরাট বিশাল একটা প্রাণী। আসলে এদের অধিকাংশই মানুষের মত বা তার চেয়েও ছােট। প্রকৃতির কোন এক বিচিত্র কারণে হাড় বড় হলে তা ফসিলে রূপান্তরিত হয় সহজে। সেজন্যই বড় ডাইনােসরের ফসিল পাওয়াও যায় বেশি। বিশাল ডাইনােসরদের লেজও হতাে বিশাল মাপের। ৪৫ ফুটের বেশি লম্বা লেজওয়ালা ভাইনোসরের ফসিলও পাওয়া গেছে। আসলে এত লম্বা লেজের সাহায্যে ডাইনােসরেরা বিশেষ করে দৌড়ানাের সময় ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারতাে।
[আজ পর্যন্ত যতগুলো ডাইনোসরের সন্ধান পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভারী ডাইনােসরটির নাম ব্রকিওসোরাস। এটির ওজন ছিলাে ৮০ টনের মত। মানে প্রায় ১৭ টা আফ্রিকান পূর্ণ বয়স্ক হাতির সমান। এটা লম্বায় ছিলো ২৬ মিটার এর উচ্চতা ছিলাে ১৬ মিটার মানে প্রায় পাঁচ তলা বাড়ির সমান। মনে রাখা জরুরী যে, ১ মিটার =৩.২৮০৮ ফুট]

আব্রাহামিক ধর্ম অর্থাৎ ইহুদী, খ্রিস্টান, ইসলাম, বাহাই, ইয়াজিদি, দ্রুজ ধর্মে বর্ণিত আদি পিতা আদম (আ)। এসব ধর্মে আদম আ. এর উচ্চতা ৯০ ফুট মতান্তরে ৬০ ফুট হিসেবে বর্ণিত করা হয়েছে এবং তিনি বেঁচে ছিলেন হাজার বছর। এছাড়া পরবর্তী অনেক নবী, রাসূলও নাকি ঐরকম উচ্চতা এবং বয়স ধারণ করেছেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ৫৭০/৫৭১ খ্রিস্টাব্দে এবং ইব্রাহিম ( আঃ) এর জন্ম খ্রিষ্টাব্দ পূর্ব ১৮০০ অব্দে । উল্লেখিত ধারা অনুসারে খ্রীষ্টপূর্ব ১৮০০ অব্দের পূর্বে মাত্র ১৯ নম্বর পূর্বপুরুষের বয়স গননা করলে আদম (আ) এর জন্মসাল জানা যাবে। গবেষকদের হিসেব মতে আদম (আ)-এর জন্ম নবী মুহাম্মদের জন্মের ৪৫৯৮ বছর পূর্বে। অর্থাৎ আজ থেকে ১৪৪৬+৪৫৯৮= ৬০৪৪ বছর আগে হযরত আদম (আ)-এর জন্ম। সাধারণভাবে হযরত আদম (আ.) যিনি আল্লাহর একজন নবী ছিলেন এবং যিনি ৬০০০ হাজার বছর পূর্বে এ পৃথিবীতে বসবাস করেছিলেন তাকেই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ কর্তৃক প্রথম মানুষ বলে মনে করা হয়। কিন্তু পবিত্র কুরআন এ মতবাদ সমর্থন করে না। তার সাথে আধুনিক বিজ্ঞান আজ আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আজ থেকে চার মিলিয়ন বা চল্লিশ লক্ষ বছর পূর্বেও পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল। তাহলে এখন প্রশ্ন আসে, কিভাবে ৬০০০ হাজার পূর্বে আগমনকৃত হযরত আদম (আ.) প্রথম মানুষ হতে পারে?


আমরা জানি, Neanderthals বা (Homo Sapiens Neanderthalensis) অর্থাৎ মানব জাতির পূর্ব-পুরুষগণের অস্তিত্ব প্রথম আবিস্কৃত হয় ১৮৫৬ সালে জার্মানীর নিয়ানডার উপত্যকায়। তারা ছিল আদিম অধিবাসী যারা বরফ যুগের ১,২০,০০০-৩,৫০,০০০ হাজার পূর্বে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাস করতো। কোন এক অজ্ঞাত কারণে প্রায় ৩৫,০০০ হাজার পূর্বে Neanderthals-রা মারা পড়ে এবং Homo Sapiens (বর্তমান মানব জাতির আদি পুরষ) বরফ যুগের প্রতিকূলতাসূমহ যে কোনভাবে তাদের বুদ্ধিমত্তার কারণে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় এবং এভাবে তারা বেঁচে যায়। আর এরই ফলশ্রুতিতে বর্তমান প্রজন্মের মানুষের আবির্ভাব ঘটে এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন দেশে। জার্মানী, আফ্রিকা, পেরুসহ বিভিন্ন দেশে প্রাপ্ত Fossil (জীবাশ্ম) গুলির দ্বারা ডি.এন.এ পরীক্ষার মাধ্যমে এ কথা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, লক্ষ-লক্ষ বছর পূর্বেও এ পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল।

হযরত আদম (আ.) যিনি মাত্র ৬০০০ হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি কি করে পৃথিবীর প্রথম মানুষ হতে পারে প্রশ্নটি খুবই কৌতুহলী উদ্দীপক। কারণ যদি আমরা তাঁকে প্রথম মানুষ হিসেবে মেনে নেই তাহলে স্বীকৃত ও প্রমাণিত সত্যকেই অস্বীকার করতে হয়। কারণ ফ্রান্সের গুহায় আবিস্কৃত “বাইসন” এর পেইন্টিং এর কথা আমরা জানি যা ৩৫০০০ বছর আগেই তো মানুষ এঁকেছিল। আর তারা যে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছিল সেটা তাদের চিত্রলিপি থেকেই পরিস্কার। বিজ্ঞান বলে ২ কোটি বছর পূর্বে মানুষের উদ্ভব হয়েছে, সে হিসাবে ২ কোটি বছর অাগে আদম (অাঃ) পৃথিবীতে আসতে পারে। তবে ধর্মে এ সম্পর্কে কিছু বলা নেই, তাই বিশ্বাস করা না করা আপনার বিষয়।

সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, সহীহ ইবনে খুযায়মা প্রভৃতি হাদীসগ্রন্থে হযরত আবু হুরায়রার রেওয়ায়েতে একটি হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে–
“আদি মানব হযরত আদম আ. ৬০ হাত (৯০ ফুট) দীর্ঘ দেহের অধিকারী ছিলেন।”
ব্যাপারটা নিয়ে বেশ মুশকিলে পড়ে গিয়েছি। কেননা সনদের দিক থেকে শক্তিশালী হওয়ায় হাদীসটি নির্ভরযোগ্য, কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে এরকম কোনো মানব-জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে বলে শুনি নি।”

এবার আসুন বিজ্ঞান কি বলে? দেহের ৫ ফুট উচ্চতার পুরুষের ওজন মোটামুটি ভাবে ১১৫ পাউন্ডের মত হয়। এখন কোন মানুষের উচ্চতা যদি ১৫ ফুট হয় তবে আমরা জানি স্কেল ল অনুযায়ী তার দেহের ওজন বেড়ে যাবে দেহের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির হারের ঘনফল হিসাবে। মানে মাত্র তিন গুন বেশী লম্বা হওয়ার কারণে ঐ মানুষটির ওজন হবে ৩×৩×৩ = ২৭ গুন বেশি। অর্থাৎ ১৫ ফুট মানুষটির ওজন হবে (১১৫ ×২৭) = ৩১০৫ পাউন্ড। যা কিনা ক্যালেন্ডারে দেখা স্বাস্হ্যবান দুই কিংবা তিনটা অস্ট্রেলিয়ান গরুর ওজনের সমান। তাও আবার তাদের দেহের ওয়েট সাপোর্টের জন্য চারটা করে পা আছে এবং সোজা হয়ে দাঁড়াতে হয় না। [৬০ ফুট কিংকংয়ের ওজন হবে ১২ x ১২ x ১২ = ১৭২৮ গুন বা ১,৯৮,৭২০ পাঊন্ড বা ১০০ টন আর ৯০ ফুট আদমের হবে ১৮X১৮X১৮X১১৫= ৬৭০৬৮০ পাঊন্ড। এইখানে একটা জিনিস খেয়াল রাখা প্রয়োজন যে, ১৫ কিংবা ৬০ কিংবা ৯০ ফুট লম্বা মানুষটির দেহের পেশী কিংবা হাঁড় যে পরিমাণ ভার বহন বা শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে তা বৃদ্ধি পাবে হাঁড় এবং পেশীর পুরুত্বের আনুপাতিক হারে। ১৫ ফুট মানুষটির দেহের ভার বহন কিংবা শক্তি প্রয়োগ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে তার হাঁড় এবং পেশীর ক্রস সেকশনাল এরিয়া’র (cross sectional area) বর্গ হিসাবে। অর্থাৎ তার শক্তি হবে ৫ ফুট মানুষটির তুলনায় মাত্র ৩ ×৩ = ৯ গুন বেশি। মানে হল তিন গুন লম্বা হওয়ার কারণে তার ওজন বৃদ্ধি পাবে ২৭ গুন আর দেহের শক্তি বৃদ্ধি পাবে মাত্র ৯ গুন। অর্থাৎ তুলনামূলক বিচারে (দেহ এবং শক্তির) ৫ ফুট মানুষটির তুলানায় ১৫ ফুট মানুষটি হবে অনেক অনেক বেশী দুর্বল (এক তৃতীয়াংশ) এবং তার বডি স্ট্টাকচার তাকে খুব একটা সাপোর্ট দিতে পারবে না। ফলে হাটাহাটি কিংবা দৌড়াদৌড়ি করতে গেলেই তার হাঁড়গোড় ভেঙ্গে পরে থাকবার ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত থাকা যেতে পারে। শিশু থেকে পূর্ন বয়স্ক জীবনে পৌছানো তো অনেক পরের কথা। এ কারনেই লম্বা খেলোয়াড়দের মাঝে আঘাতের হার অনেক বেশী থাকে। আর জিমন্যাস্ট কিংবা আইস স্কেটারদের আকৃতি ছোট হওয়া সুবিধাজঙ্ক কারণ আনুপাতিক হারে তাদের পার ইউনিট বডি ম্যাসের তুলনায় তাদের দেহের শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা অনেক বেশী হয়ে থাকে। ৬০ ফুট কিংকং এর ক্ষেত্রে অনুপাতটা হবে ১৭২৮ বনাম ১৪৪ গুণ আর ৯০ ফুট আদমের ক্ষেত্রে সেটা হবে ২৭০০০ গুণ বনাম ৯০০. কিংকং কিংবা আদম এক পা হাটার আগেই হাড়গোর ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে থাকবে।

প্রাণীদেহের অভ্যন্তরে উৎপাদিত তাপ হারানোর হারও নির্ভের করে প্রাণীটির দেহের সারফেস এরিয়ার উপর। ফলে মানুষটি দৈর্ঘ্যে যদি তিনগুন লম্বা হয় তবে তার তাপ হারানোর হার হবে ৩ ×৩ = ৯ গুন। কিন্তু দেহের অভ্যন্তরে তাপের উৎপাদনের পরিমাণ এর আয়তনের (ওজনের মত) ঘনফল হিসাবে বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ দেহের ভিতরের তাপ বৃদ্ধি পাবে ২৭ গুন। তার মানে উৎপাদিত তাপের ৬৫ ভাগ তাপই দেহ থেকে বের হতে সক্ষ্মম হবে না। তাই এটাকে ব্যালান্স করতে হলে বা উৎপন্ন হওয়া অতিরিক্ত তাপ হারানোর জন্য ঐ মানুষটির বডি সারফেস এরিয়া বাড়াতে হবে বিশাল পরিমাণে বা দৈহিক বৈশিষ্ঠ্যে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আর সেটা সম্ভব হবে যদি লম্বা ঠিক রেখে তার প্রস্হ ৩ গুন না বাড়িয়ে ৫-৬ গুন মত বাড়ানো যায়। যদি ধরে নেই গড়ে প্রতিটা মানুষ প্রস্থে ২ ফুট হয়ে থাকে তবে ১৫ ফুট লম্বা মানুষটিকে প্রস্থে হতে হবে ১০-১২ ফুট। এইবার কল্পনা করেন একটা ১৫ ফুট লম্বা আর ১০-১২ ফুট মোটা মানুষ। কি কল্পনা করা যায়? অথবা চতুষ্পদী প্রানীদের মত বিশেষ অংগের প্রয়োজন হবে। যেমন হাতির বিশালাকার কান বিশেষভাবে বিবর্তিত হয়েছে অতিরিক্ত তাপ হারানোর জন্য। হাতির দেহের অতিরিক্ত তাপ হারানোর এটিই একমাত্র বৈশিষ্ঠ্য না, আরো আছে। আর এরকম বৈশিষ্ঠ্য যদি মানুষের ক্ষেত্রে থাকে তবে নিঃসন্দেহে তাকে যে আর মানুষ বলা যাবেনা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। হাতীর কিংবা অন্য পশুদের চামড়াও অনেক মোটা হয় কারণ দেহের অভ্যন্তরের অতিরিক্ত রক্ত এবং অন্যান্য ফ্লুইডের যে বিশাল চাপ থাকে তা সহ্য করার জন্য। আর ৬০ ফুট কিংকং কিংবা ৯০ ফুট আদমের কথা আর বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

জীব বিজ্ঞানী জেবিএস হ্যালডেন দেখিয়েছেন কিভাবে সারফেস এরিয়া এবং আয়তনের মধ্যকার সম্পর্ক প্রাণিদের বিবর্তিত হতে সাহায্য করেছে। মনে রাখবেন উপরের তিনটি জিনিষের যে কোন একটির কারনেই মানুষের উচ্চতা খুব একটা বেশী হতে পারার কথা না। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে লম্বা পুরুষ মানুষ ৮ ফুট ১১ ইঞ্চির আমেরিকান রবার্ট ওয়াল্ডো বেঁচে ছিলেন মাত্র ২২ বছর আর তাকে বিশেষ ধরণের লেগ ব্রেস ব্যবহার করে হাটতে হত। আর সবচাইতে লম্বা মহিলা চীনের জেং জিনলিয়ান বেঁচে ছিলেন মাত্র ১৭ বছর। বর্তমানে সবচাইতে লম্বা তুরস্কের ৮ ফুট ৩ ইঞ্চির ২৯ বছর বয়সী সুলতান কোসেনও স্বাভাবিক নন। একথা মোটামুটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে মানুষের উচ্চতা ১০- ফুটের উপরে যাওয়াটা সম্ভব হবে না স্কেল ল এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষন শক্তির কারনে। আর ১৫ ফুট কিংবা ৩০ ফুট আদম জাতীয় মানুষ কিংবা ৬০ ফুটি কিংকং কিম্বা ৯০ ফুট আদম তো এক কথায় অসম্ভব ব্যাপার।

আরেকটা কথা, মানব সভ্যতার জন্য এটা খুবই দুঃখজনক হলো, বিভিন্ন প্রকারের ডাইনোসরের অনেক ফসিল পাওয়া গেলেও আদম (আ) বা ৬০/৯০ ফুট উচ্চতার কোন মানুষের ফসিল বা কঙ্কাল অদ্যাবধি পাওয়া যায় নাই। বর্তমান জর্ডানে আদম আ. এর কবর রয়েছে। যেটা দেখলে ঠিক মানুষের কবর বলে মনে হয় না। মনে হবে অন্যকিছু। সেটা আমি বলবো না, ছবি দেখে আপনারাই বলুন।

তথ্যাদির সূত্রঃ
১. পপ আপ চলো যাই ডাইনোসরের রাজ্যে
২.  ‍মুক্তমনা ব্লগ
৩. Physics of the Impossible: Michio Kaku
৪. Universal Bangla Encyclopaedia of The World
৫. Sahih Bukhari
৬. গুগল

পাদটীকাঃ
১. Narrated Abu Huraira: The Prophet said, “Allah created Adam in his complete shape and form (directly), sixty cubits (about 30 meters) in heigh

লেখক: ডি. এম রেজাউল করিম।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 4
    Shares

লেখক অতিথি লেখক

অতিথি লেখকদের ব্লগপোষ্ট এই একাউন্ট থেকে প্রকাশিত হবে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: এই ব্লগের লেখা কপি করা যাবে না