জেরুজালেম

অস্ট্রেলিয়াও জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই এই স্বীকৃতি দিয়েছিল।
এটা নিয়ে চলছে তুমুল বাক বিতণ্ডা।
চলতেই থাকবে!

কেউ কেউ জানেন যে জেরুজালেম ইজরায়েলের রাজধানী ১৯৮০ সাল থেকেই।
১৯৬৭ সালে সমস্ত আরব দেশগুলো ইজরায়েলকে যৌথভাবে আক্রমণ করে। উছিলা ছিল ফিলিস্তিন কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঐ মুসলিম আরবদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল কোরআনের ভয়ঙ্কর বাণী, “ইহুদিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না। – ইহুদিরা যেখানেই বসতি স্থাপন করবে তাদের উচ্ছেদ করো। – কোপাও তাদের যেখানে পাও! ”
কিন্তু বর্বর আরবদেশগুলো মাত্র ছয়দিনেই শোচনীয়ভভাবে পরাজিত হয় ইজরায়েলের কাছে। তখনই ইজরায়েল পুরো জেরুজালেম দখল করে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মাত্র।

প্রধানত ধর্মীয় কারণে এবং ইসলামের নির্দেশে মুসলিমরা ইহুদি এবং ইজরায়েলের ধ্বংস চায়। সেই কারণেই তারা সম্মিলিতভাবে ইজরায়েল আক্রমণ করেছিল। মুসলমানরা জয়ী হলে কী ঘটতো? ইহুদি পুরুষদের খুন করা হতো আর নারী শিশুরা হতো ধর্ষিত। আর তাদের সহায় সম্পত্তি হয়ে যেত গনিমতের মাল।
আর ইজরায়েল তো জয় করেছে তাদেরই পিতৃভূমি, মিথ্যে?
যে ইসলাম যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইহুদিদের বিরুদ্ধে চৌদ্দশ বছর আগে, যা পালন করতে সারা বিশ্বের মুসলমানরা এখনও মরিয়া, তাদের ছেড়ে দেবে ইজরাইল? নিজ এলাকা থেকে পালানোর পর নবী মুহাম্মাদ আশ্রয় নেয় ইহুদিদের কাছে। ইহুদিদের কাছে থেকে, খেয়ে দেয়ে শক্তি অর্জন করে মুহাম্মাদ ইহুদিদেরকেই মুসলমানদের প্রধান শত্রু ঘোষণা করে। নিমকহারামীর এক লজ্জাষ্কর জলন্ত উদাহরণ।
যে ইজরায়েল বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রেের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলদেশ। কারণ ঐ একটাই ইহুদিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব না করার কোরানিক নির্দেশ। তাহলে ইজরায়েল কেন বন্ধুত্ত্বের বাহানা করবে, মরণের জন্য? গনিমতের মাল হওয়ার জন্য?
সত্যিই অবাক লাগে, পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত জাতিটিকে রক্ষা করার চিন্তা যেন আস্তাকুরে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান জাতিগোষ্ঠীটির ধ্বংস কামনা করার মূল উদ্দেশ্য কী আসলে নিজেদের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ? আমি নিকৃষ্ট তাই উৎকৃষ্টকে ধ্বংস করে আপেক্ষিক সুবিধা এবং শ্রেষ্ঠত্ব নিতে চাই?

জেরুজালেম নিঃসন্দেহে মহাপবিত্র নগরী। প্রমাণ? ওখানে সবচেয়ে বেশি রক্তপাত হয়েছে।কারণ,ধর্মগুলো মানুষকে বিভেদ এবং ঘৃণা শিখিয়েছে। কারণ, পৃথিবীর তিন তিনটা কুৎসিত ধর্মের পাপ এবং অভিশপ্ত নগরী (?) এই জেরুজালেম। কারণ, শহীদের রক্তই ঈশ্বরের খাদ্য।

প্রাচীণ কাল থেকে জেরুজালেম নিয়ে ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিমদের মধ্যে যে কামড়াকামড়ি চলছে তাতে এটাকে তিন কুকুরের লড়াই বলাই বাস্তবসম্মত। লক্ষ লক্ষ প্রাণহানী, ধর্ষণ, খুন, লুটপাট আর হাঙ্গামার প্রাণকেন্দ্র এই নিকৃষ্ট ভূমি জেরুজালেম।
হিংস্র কুকুরদের লড়াইয়ে মানুষ কী করবে?দেখতে থাকুন। এক কুকুর হারবে আর এক কুকুর জিতবে, আবার আর এক কুকুর হারবে, জিতবে অন্য কুকুর। চলুক অদৃশ্য হাড্ডি নিয়ে কামড়াকামড়ি।
আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব ও ধর্মের মেরুকরণ এখনও চলমান, কারণ সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মের ফলশ্রুতি সবসময়ই যুদ্ধ। সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্ম পরস্পর পরস্পরের উপর নির্ভরশীল, পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক।

তবুও নানীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ” আচ্ছা নানুমণি, এই ইতরামির কী শেষ নেই? ”
নানীর সাফ জবাব “কেন থাকবে না, ঐ সেমেটিক ধর্মগুলোকে দশ হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে; সমস্ত যাজক, পুরোহিত, মোল্লা, পাদ্রি সহ। আর জেরুজালেমকে বানাতে হবে পৃথিবীর ডাস্টবিন। ”

(Basic law of Isreal in Israel constituation 1980 Jerusalem Law
Establishes the status of Jerusalem as the capital of Israel; secures the integrity and unity of Jerusalem; deals with holy places; secures rights of members of all religions; grants special preference with regards to development.)
(মূল লেখাটি গতবছর লেখা হয়েছিল, দিয়ার্ষি আরাগ নামে)

শেয়ার করুন

ব্লগার দিয়ার্ষি আরাগ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।