চীনের করোনাভাইরাস থেকে বাঙলাদেশের ব্যঙ্গব্যাধি

()

শেষ খবর পাওয়া অব্দি ১৬২৩২ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে করোনাভাইরাস আর তামাশাপ্রিয় বাঙালির মনে লেগেছিলো ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় রঙ। ইতালির পার আউয়ার মৃত্যু দেখে থমকে গেছে পৃথি,  তারপরেও যেনো আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকছি, ঘুরছি-ফিরছি। সমাধানহীন কিছু প্রশ্ন!

চীনসহ যখন ১০৬ টি দেশে করোনাভাইরাস মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে তখন থেকে চিন্তা করলে বাংলাদেশ সরকার সকল আন্তর্জাতিক এরাইভাল কি অফ করতে পারতো না?

আচ্ছা এরাইভাল হুট করে বন্ধ করা না গেলেও সরকার কি বুঝতে পারেনি করোনাভাইরাস বাঙলাদেশে ইন করবে? যদি বুঝতে পেরে থাকে তাহলে কেনো তখন থেকে যথেষ্ট পরিমাণে টেস্ট কিট এবং পিপিই আমদানি করে নাই?

শেষ সংবাদে দেখলাম বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ থেকে বহু লোক আসলেও সকলের হিসাব প্রশাসনের কাছে নেই যে চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টাইন এ নেওয়ার। ইন করানোর সময় ইমিগ্রেশন অফিসাররা সে হিসেব কেনো রাখেন নি বা প্রশাসনকে সরবরাহ করেন নি?

কে.এন নাইন্টি ফাইভ মাস্ক এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে, বড় জোর এক বছর। এই মাস্ক সার্টিফাইড মাস্ক এবং উন্নত। হঠাৎ করেই কেনো বা এই মাস্ক বাংলাদেশে রপ্তানি হলো?

খালেদা জিয়ার এইমুহুর্তে মুক্তির হাজারটা প্রশ্ন আপনারা এড়াতে পারেন কি?

স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সংকিত, যেকোন মুহুর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তিনি জানতেন তার বয়সের মানুষদের করোনাভাইরাস মজা করে খায় তাও তিনি দৃঢ় মনোচিত্তে সাংবাদিকদের প্রতিদিন করোনা ঠেকানোর ঠকানো আপডেট দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ ভয়ে আমি হাত ধুতে ধুতে হাতের চামড়া পাতলা করে ফেলেছি। সরকারের আমলা মন্ত্রীদের অনেক দায়সারা বক্তব্যের মধ্য দিয়েই আগাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি, কেমন হবে এবং প্রশ্নের উত্তর আদৌ পাবো কিনা সন্দেহ আছে।

যেদেশ বাৎসরিক বাজেট এর একটি বিশাল অংশ দিয়ে দেয় সামরিক খাতে এবং অস্ত্র কেনার নামে সেদেশে এমনই হওয়ার কথা। একটি দেশের কি পরিমাণে লজ্জা না থাকলে আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় গবেষণা খাতে বাজেটের অপ্রতুল্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরেও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়না। জীবানুবিজ্ঞান, পরমাণু বিভাগের একটি জেনারেশনকে বিভোর হতে হয় বিসিএস এর স্বপ্নে। চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটুকু উন্নতি হয়েছে মানুষ এখন ঠিকঠাক বুঝতে পারবে, শিক্ষা ব্যবস্থা কতটুকু ডিজিটাল এবং শিক্ষার্থীবান্দব হয়েছে তা হাড়েহাড়ে টের পাওয়া যাবে।

উন্নয়নশীল একটি দেশ এতো এতো সব অকাজের অকাজ কেনো যে করে বেড়ায় বুঝি না। আমি একদম এদেশের জনগণ নিয়ে হতাশ নই যখন দেখি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়েরা শত রকমের পলিটিকাল থিওরি জানার পরে, ভালো-মন্দ বুজশক্তি গেন করার পরেও সারাজীবন ওমুক ভাই এগিয়ে চলো আর সহমত ভাইদের মিছিলের সারথি হয়। দিনশেষে তার পাওনা একটা সরকারি চাকরি, সফলতা অথচ সুখ নয়। গনতন্ত্র বলতে এদেশের মানুষ কি বুঝে? পাঁচ বছর পর ভোট দেওয়া, তাও দিতে পারেনি। গণতন্ত্র স্বৈরাচারের মতো ধর্ষণ করেছে অশিক্ষিত, মূর্খ ম্যাংগো পাবলিককে।

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে বার বার এলকোহলিক হ্যান্ড রাব দিয়ে হাত ধোয়া, নাক,মুখ, চোখে হাত না দেওয়া এবং হাঁছি-কাশি দেওয়ার সময় হাতের কনুই ব্যবহার এবং ইনফেকটেড ব্যক্তিকে মাস্ক ইউজের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডাব্লিউ এইচ ও’র ওয়েবসাইটের নির্দেশনা কি তা না পড়েই দেশে একটা অবস্থা দাঁড়াইছে সুস্থ-অসুস্থ সবাই মাস্ক পড়া শুরু করছে, অবশ্য এটা ভালো। কয়েকটি ভিডিও দেখলাম পুলিশ লাটিচার্জ করছে মাস্ক পরে নাই কেনো, বের হলো কেনো এইসব কারণে। মাস্ক সবার পড়া জরুরি নয় তা তারা জানে কি জানে না তা জানি না, অদ্ভুত রকমের সেলুকাস এই বাঙালির, ভারত আর বাঙলা। তাছাড়া আমাদের মতো এমন একটা দেশে মানুষ যে এখনো সরকারি-বেসরকারি সকল খাদ্য গুদাম ডাকাতি করছে না এটাই বেশি। কোন আইনে পিটান সাধারণ মানুষদের? রাইট টু লাইফ, ফ্রি মুভমেন্ট, এএক্সপ্রেশন এগুলো রুল অব ল মানে মানুষের অধিকার। সর্বোচ্চ মাইকিং অথবা জল কামান ব্যবহার করতে পারেন এরকম সিরিয়াস পরিস্থিতিতেও, তারপরেও মানুষ ঘরে না ফিরলে কিছু করার থাকে তাও গায়ে হাত তোলা নয়। লকডাউন খুলে যাবে, মানুষের পেটে টান পড়লে,খাওয়া না পেলে, সামরিক-বেসামরিকসহ করোনাকে মানুষ তখন বর্তমানের মতো যত্নসহকারে চুদবে না বরং রাষ্ট্রকে ডাকাতি করে বিশ্ববাজারে সস্তা দামে বিক্রি করে ছাড়বে।

বিশ্বের বিশাল ধর্মের মার্কেট যেখানে বন্ধ, আমার দেশের মুসলমান তখনো বুঝতে অপারগ এবং দৃঢ় বিশ্বাসী যে এসব চীনের ইসলাম বিদ্বেষমূলক গুজব, বিশিষ্ট বাঙলাদেশী ইসলামি বিজ্ঞানীদের মতে করোনাভাইরাস চীনের প্রতি আল্লার পাঠানো অস্ত্র। মজার বিষয় আল্লার ওয়াস্তে ভয় এখন মনে ঢুকছে, মোটামুটি বুঝা যাচ্ছে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে না। ইন্ডিয়ার হিন্দু মন্ত্রী, রাজ্য প্রধান পর্যন্ত গু-মুত শ্রী শ্রী র নাম নিয়ে খেয়ে ফেললো, পরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় খাওয়া কমলো। কর্মই ধর্ম প্রধান বৌদ্ধদের কাছে জীবানুনাশক ছিটানোর চেয়ে প্রধান কর্তব্য হয়ে উঠলো রতন সূত্র পাঠ। এক কথায় কাজ না করে খেতে চাওয়া।এসব ঈশ্বর পছন্দ করেন না হে ঈশ্বরের বান্দাগণ। ঈশ্বর যেহেতু আপনাদের পিতা, করোনাভাইরাস আপনাদের ছোট ভাই মানে রিসেন্ট নবজাতক। ঈশ্বর আপনাদের মতো অসভ্য, কর্মভীরু, দুর্নীতিবাজদের তার কাছে পাঠানোর জন্য ছোট ভাই করোনাকে পাঠাইছে। সুতরাং হাবিযাবি নট এলাউট। প্রার্থনা, নামাজ-কালাম মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখে, তবে এই সময়টায় নিজ ঘরে ধর্ম চর্চা করুন, মসজিদ কিংবা মন্দিরে অহেতুক ভিড় করবেন না তাতে মহতী করোনাভাইরাস নারাজ হয়ে আপনার কাঁধে ভর করবে।

ধর্মীয় আবেগ চুদায়েন না, করোনাভাইরাস ধর্মহীন নাস্তেক, তার বিশ্বাস মানুষের ফুসফুস অত্যন্ত মজাদার এবং মানুষ তার সবচেয়ে বড় বন্ধু।

এতকিছুর পরেও বেঁচে আছি শুধুমাত্র ফেসবুক সেলিব্রেটিদের দৈনিক ছবিতে রিয়েক্ট দিবো বলে। যাদের করোনাভাইরাস পর্যন্ত কোন টেনশন দিতে পারে না। সমাজ-মানুষ-পরিবেশ নিয়ে যাদের কোন চিন্তা নাই বললেই চলে, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গণটয়লেটে হাগছে-মুতছে গত কয়েক বছর ধরে। বরাবরের মতোই যারা ফেসবুকে নিয়মিত আমাদের মতো আশাহত মানুষদের জন্য নিয়মিত ছবি তুলে সুন্দর ক্যাপশন দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন তাদের পরিশেষে ধন্যবাদ না দিলে অপরাধবোধ থেকে যায়।

বোকাচোদা মানুষ মরুক এদেশে, যেদেশ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, এক্সপায়ার্ড নেতা-আমলা ও লুটেরাদের শাসন ভার দেয়।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 24
    Shares

লেখক শিপ্ত বড়ুয়া

লেখক ও গবেষক

২ টি মন্তব্য

  1. আলমগীর হোসাইন

    আপনার লিখা পড়লাম। এমন মনে করার কারন দেখিনা যে আপনি ভাল লেখক। আপনি যে খুব ছোট জাত থেকে হালে জাতে উঠার চেষ্টা করছেন সেটা আপনার লিখায় চিন্তায় লজ্জাহীনভাবে প্রকটিত। ভালো লেখক হতে হলে মার্জিত হতে হয়। সভ‍্য হতে হয়। সেটা সভ‍্য বংশে জন্ম না নিয়েও পারা যায়। যেমন কৃষ্ঞ দৈপায়ন জারজ সন্তান হয়েও মহাভারত রচনা করেছেন। ভালো কিছু সৃষ্টি করুন যার দরুন আমরা আপনাকে নিয়ে গর্ব করতে পারি।

  2. আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আপনি পাঠক হিসেবে আরো স্পেসিফিক মন্তব্য করলে আমার লেখার ক্রিটিসিজম আরো ক্লিয়ার হতো। কোন জায়গায় আপনার আপত্তি জানাতে পারেন,আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: এই ব্লগের লেখা কপি করা যাবে না