কর্তালা বেলখাইন মহাবোধি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস

প্রাচীন নাম: কর্তালা বেলখাইন মধ্য ইংরেজী স্কুল ।
প্রতিষ্ঠা: ১৯১১ সাল, আমার গবেষণা তার ও আগে হতে পারে ।

বর্তমান নাম: কর্তালা বেলখাইন মহাবোধি উচ্চ বিদ্যালয় ।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৩৪ সাল, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত ।

প্রতিষ্ঠাতা: ডা: শান্ত কুমার চৌধুরী

প্রথম শিক্ষক: অতিন্দ্র লাল চৌধুরী, নীলাম্বর বড়ুয়া (জলদী,বাশখালী)

প্রথম প্রধান শিক্ষক: কংগ্রেস নেতা অধ্যাপক সুরেন্দ্র নাথ বড়ুয়া (চত্তরপটিয়া, পটিয়া), প্রেমানন্দ বড়ুয়া (নাইখাইন, পটিয়া)

ভূমিদান: তথ্যের অভাবে ভূমিদাতাদের নাম দিতে পারছি না বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত ।

সভাপতি: গিরিধন তালুকদার, মোক্তার ললিত কুমার বড়ুয়া, আজীবন সভাপতি কৃপাশরন মহাস্থবির, অনাগারিক ধর্মাপাল মহোদয়, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা: শান্ত কুমার চৌধুরী ।

সাধারণ সম্পাদক: গিরিশ চন্দ্র বড়ুয়া, ডাক্তার হরকিশোর বড়ুয়া, ডাক্তার রাজেন্দ্র লাল চৌধুরী, কালী কুমার বড়ুয়া, অনন্ত কুমার বড়ুয়া ।

ডোনার: ডা: শান্ত কুমার চৌধুরী ।

ফাউণ্ডার: গিরিশ চন্দ্র তালুকদার, অতীন্দ্র লাল চৌধুরী, অনন্ত কুমার বড়ুয়া, অন্নদা চরন বড়ুয়া ।

প্রথম ম্যাটিকুলেশন: বোয়ালখালী থানার জৈষ্ঠপুরা গ্রামের বাবু মুকুন্দ বিহারী বড়ুয়া পালিতে লেটার পেয়ে কৃর্তীতের সাথে পাশ করেন ।

চট্টগ্রামে স্বল্প সংখ্যক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী কর্তৃক প্রায় ৬ টি মধ্য ইংরেজী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় । মহামুনি এ্যাংলো পালি, কর্তালা-বেলখাইন, রাঙ্গুনিয়া, আর্যমৈত্রেয়, রামু, অমিতাভ । এই সব বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম ছিল কর্তালা-বেলখাইম মধ্য ইংরেজী স্কুল । তৎকালীন এই সব মধ্য ইংরেজী স্কুলকে উচ্চ বিদ্যালয় করার জন্য অনুমোধন দিতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক । তাছাড়া ডোনার ছাড়া কোন অবস্থাতেই উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুমোধন দিতো না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ।
১৯১১ সালে কর্তালা-বেলখাইন মধ্য ইংরেজী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় । এই স্কুলটির জন্য সর্ব প্রথম যাদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাষ্টার অতীন্দ্র লাল চৌধুরী ও গিরিধন তালুকদার নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য । এই মধ্য স্কুলকে উন্নতি করার জন্য কর্তালা-বেলখাইন ও আশে পাশের গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দফায় দফায় বৈঠক হয় ।

১৯১৪ সাল, ১২ই জ্যােষ্ঠ বাংলা সোমবার ৫ ঘটিকায় কর্তালা-বেলখাইন মধ্য ইংরেজী স্কুলে গ্রামবাসীগণের উদ্যােগে এক বিরাট সভার অধিবেশন হয় । উক্ত সভায় কলকাতা মহাবোধি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা অনাগারিক ধর্মপাল মহোদয় সভাপতি পদে ব্রত হন । সভাপতি মহোদয় ইংরেজী ভাষায় শিক্ষা সম্বন্ধে অতি সুন্দর সারগর্ভ বক্তৃতা প্রদান করেন । শ্রীযুক্ত বাবু মহেন্দ্রলাল তাহা বাংলা ভাষায় সভ্যবৃন্দকে বুঝাইয়া দেন। এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা ধর্মাঙ্কুর বিহার সভার প্রতিষ্ঠাতা কর্মযোগী কৃপাশরণ মহাস্থবির । ৬ ঘটিকার সময় সভা ভঙ্গ হয় ।

১৯২১ সালে ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ১৩২৭ বাংলা ১৫ই ফাল্গুন কর্তালা বিহারের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে কর্তালা-বেলখাইন মধ্য ইংরেজী স্কুলকে উন্নতি বিধানের জন্য এক সভা হয় এবং কৃপাশরণ মহাস্থবিরকে স্কুলের পরিচালনা সভার আজীবন সভাপতি ব্রত করা হয় । ঐ সভায় তিনি স্কুলের উন্নতির জন্য ৫০ টাকা দান করেন ও ভবিষ্যৎ আর আর্থিক সাহার্য্যের প্রতিশ্রুতি দেন । এই স্কুলটিকে তিনি কলকাতা ধর্মাঙ্কুর সভার সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলের তালিকায় অন্তভুক্ত করে নেন ।

১৯২৬ সালে কর্মযোগী কৃপাশরণ মহাস্থবির মহাপ্রয়ান হন । এই সময় ১৯২৮ সালে কর্তালা নিবাসী ডা: শান্ত কুমার চৌধুরী তৎকালীন ভারত-বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একমাত্র প্রতিনিধি মূলক বঙ্গীয় বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভা সংস্থার আজীবন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন । এলাকায় স্কুলের ও ছাত্রদের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে সুখ্যাতি অর্জন করেন । বেলখাইন নিবাসী স্কলার ও মেধাবী ছাত্র সুকোমল চৌধূরী বিএসসি অনার্স, ডা: শান্ত বাবুর অর্থ সাহায্যে উচ্চ শিক্ষা লাভের সক্ষম হয়েছিলেন । কলকাতা হাইকোর্টে উচ্চ পদে নিযুক্ত হন সুকোমল চৌধূরী । বহু আত্নীয় অনাত্নীয় ছাত্র ডা: শান্ত বাবুর অর্থিক সাহায্যে জীবনোন্নতির পথে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।

এই কর্তালা-বেলখাইন মধ্য ইংরেজী স্কুলকে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করার জন্য ডা: শান্ত কুমার চৌধুরী মহোদয় তাহার কলকাতা বাসভবনে এক সভা আহ্বান করেন । কর্তালা বেলখাইন ও পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের কলকাতা প্রবাসী চাকুরীজীবি ভদ্রলোকের উপস্থিতিতে ও লাখেরা গ্রামের বাবু কিশোরী মোহন বড়ুয়া মহোদয়ের সভাপতিত্বে রাত্রি দশ ঘটিকায় এক সভা হয় । সভায় সর্ব সম্মতি ক্রমে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রস্তাব গৃহীত হয় ।

প্রথমে ডা: শান্ত বাবু ১২৫০ টাকা সহ আর্দশ ও উন্নত মানের স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য চট্টগ্রাম কংগ্রেসের সভাপতি, বৌদ্ধ নেতা, মহান শিক্ষাবিধ বাবু সুরেন্দ্র লাল বড়ুয়া এমএ মহোদয়কে প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত করেন এবং তাহার নিজ বাড়ীতে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে কলকাতায় প্রত্যাবর্ত্তন করেন ।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পত্রে জানানো হয়, কোন অবস্থাতে ডোনার ছাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুমোধন দেওয়া সম্ভব নয় । এমতবস্থায়, স্বশীরের ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে সাক্ষাৎ করে ১৩০০ টাকা জমা দিয়ে অনুমোধন নিয়ে আসেন এবং বিদ্যালয়ের “মহাবোধি” নামকরন করেন ।
১৯৩৪ সালে স্কুল ভবন সম্প্রসারন হওয়ার পর ডা: শান্ত বাবু কলকাতা থেকে এসে ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করে এই উচ্চ বিদ্যালয় উদ্ধোধন করেন । সেই উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের সামনে তাহার বক্তৃতা প্রধান করেন এবং প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে স্কুল পরিচালনা ও মাষ্টারদের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন । ১২ টাকা বেতন ধার্য্য করেন মাষ্টার সুরেন্দ্র লাল বড়ুয়া এমএ মহোদয় এবং ৫ টাকা বেতন ধার্য্য করেন স্বগ্রামের অতীন্দ্র লাল চৌধূরী’র । ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী এই উচ্চ বিদ্যালয়ের নামদাতা, অনুমতিদাতা, প্রতিষ্ঠাতা । তাহার ঐক্লান্তিক প্রচেষ্ঠায় কর্তালা বেলখাইন সহ আশে পাশের গ্রাম শিক্ষা সংস্কৃতিতে প্রথম শ্রেণীর অন্যতম গ্রামে পরিনত হতে সক্ষম হয়েছিল ।

তথ্য সূত্রঃ

বাংলা বৌদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি
শিমুল বড়ুয়া
২০১৫ সাল
পৃ: ২০৮

জগজ্যােতি, ৬ষ্ঠ বর্ষ, ১২শ সংখ্যা
১৩২১ বাংলা
পৃ: ২১

ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী জীবনালেখ্য
ডা: রবীন্দ্র নাথ বড়ুয়া
১৯৮৫ সাল
পৃ: ৪,৫,৬

জগজ্যােতি, (মাসিক)
১৩২৮ বাংলা
পৃ: ৪৫

সভাপতির ভাষন
শ্রী নির্মল বড়ুয়া বিএ
১৯৭১ সাল
পৃ: ১০,১১,১২,

প্রজ্ঞালংকার মহোদয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
বংশদীপ মহাস্থবির
১৯৬২ সাল
পৃ: ৩

জগজ্যােতি, কৃপাশরণ মহাস্থবির
১২৫ তম জন্মবার্ষিকী
১৯৯০ সাল
পৃ: ২১, ৪৫

জীবনের জলছবি
ডা: অর্কিট বড়ুয়া
ডা: সুতপা বড়ুয়া
২০০১ সাল
পৃ: ১০০, ১০১

শেয়ার করুন

ব্লগার জিতু চৌধূরী

মুক্ত চিন্তার মানুষ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।