ইতিহাস

সংকটাপন্ন ও ক্রান্তির পথে আদিবাসী অস্তিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সরকারের হীন দৃষ্টিভঙ্গী

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান প্রেক্ষাপথ বিবেচনায় আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব এখন চরম সংকটাপন্ন ও ক্রান্তির অবস্থানে দাড়ানো। পাহাড়ের প্রকৃতিও এখন বেশ হতাশ। যাপিত বাস্তবতার উপত্যকায় দাড়ানো জীববৈচিত্রতার আর্তচিৎকার। প্রকট ধ্বনিত পাহাড়ের ক্রন্দন। সবমিলিয়ে পাহাড় কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা এবং পাহাড়ের সহজ সরল আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলোর অস্তিত্ব ব্যাপক হুমকির মূখে পতিত। একসময় পাহাড় অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমির অনুকূলে বেশ সবুজ ছিলো, কিন্তু এখন আর নেই। সবুজ পাহাড়কে বিবর্ণ করা হয়েছে। চরম বিবর্ণ!!! যে বিবর্ণের হিংস্র …

আরও পড়ুন

আদিবাসী লক্ষ লোকের মরণ ফাঁদ, কাপ্তাই বাঁধ!!!

কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের কাজ ১৯৫২ সালে শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৯৬২ সালে।এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট ৩৬৯টি মৌজার ১৫২টির মোট ১৮ হাজার পরিবারের প্রায় ১ লক্ষ লোক উদ্বাস্ত হয়।এই ১৮ হাজার পরিবারের ১০ হাজার পরিবার কর্ণফুলী, চেংগী,কাসালং এবং আর ছোট ছোট কয়েকটি নদী উপনদীর অববাহিকার চাষী এবং বাকী ৮ হাজার পরিবার জুম চাষী।ক্ষতিগ্রস্ত সর্বোচ্চ লোককে পূনর্বাচনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়েল সংশোধন করা হয় এবং সংশোধিত ধারায় বলা হয় যে,এখন থেকে …

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের ই-কমার্সের ইতিহাস

১৯৯৭ সালে ই-কমার্সের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭১ মতান্তরে ১৯৭২ সালে ARPANET ব্যবহার করে মারিজুয়ানা বিক্রি হয় স্ট্যানফোর্ড আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ল্যাব এর স্টুডেন্টদের সাথে ম্যাসাচুসেট ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজির স্টুডেন্টদের মধ্যে। ১৯৭৯ সালে মাইকেল আল্ড্রিচ প্রথম অনলাইন শপিং এর ডেমো দেখান।শুররু দিকের ই-কমার্স আজকের মত ছিল না তখন ব্যবসায়ীরা নিজেদের সুবিধার্থে অনলাইনে কেনাকাটা করত।অর্থ্যাৎ এটা ছিল বি২বি।বর্তমানে চার ধরনের ই কমার্স দেখা যায় ।যথা বিটুবি , বিটুসি,সি২সি,বি২জি।বিটুবি হচ্ছে বিজনেসঅম্যান টু বিজনেসম্যান অর্থ্যাৎ …

আরও পড়ুন

হিলফ উল ফুজুল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আসলে কে

ইসলাম পূর্ব যুগে হিলফ উল ফুজুল নামে এক বিরাট সমাজ কল্যাণ সংগঠন প্রতিষ্ঠা হয়। যার প্রভাব ছিল সুদূর প্রসারী। যেটা বিভিন্ন সময়ে আরবে শান্তি স্থাপনে এবং মুক্তমত প্রচারে বিরাট ভূমিকা পালন করে। মুসলিম রচিত বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট, বহুসংখ্যক পুস্তক এবং বাংলাদেশের প্রতিটা পাঠ্যবইএ এর প্রতিষ্ঠা নিয়ে ব্যাপক মিথ্যাচার করা হয়েছে। এবং করা হয়েছে তা পরিকল্পিতভাবে। ঐসব লেখায় দাবি করা হয়েছে ঐ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হযরত মুহাম্মদ। এমনকি বাংলা উইকিপিডিয়ায়ও এর …

আরও পড়ুন

ভাষা আন্দোলনের পারমার্থিক পর্যালোচনা

ভাষা আন্দোলন ও পরমার্থ এই দুটো ব্যাপার ভালভাবে না বুঝলে আমরা শিরোনাম সংক্রান্ত বিষয়ে প্রবেশ করতে পারবনা৷ আমাদের ভালভাবে বুঝে নিতে হবে দুটি বিষয়, তারপর হতে পারে পর্যালোচনা। কিন্তু তার আগে ফয়সালা করা প্রয়োজন কেন পারমার্থিক পর্যালোচনা দরকার। আমরা তো পর্যালোচনার করার জন্য কত রকম পদ্ধতির নাম শুনেছি ; মার্ক্সীয় পদ্ধতি, উদারনৈতিক পদ্ধতি ইত্যাদি পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা পর্যালোচনা করে থাকি। তাই শেষ কালে আমি যখন আলাদা কথা বলব তখন আমার …

আরও পড়ুন

বৌদ্ধ পণ্ডিত বিশ্ববিদ্যালয়

দশম শতকের প্রথমার্ধে চট্টগ্রাম পট্টিকারা (বর্তমান পটিয়া) চন্দ্রবংশের রাজাদের শাসনাধীন ছিল । এই চন্দ্র রাজবংশের সাথে আরাকানের চন্দ্ররাজ বংশের বৈবাহিক সম্পর্ক তথা জ্ঞাতি সম্পর্ক ছিল । পট্টিকারা চন্দ্র রাজবংশের শাসনকালে চট্টগ্রামে পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় । তিব্বত বিশেষজ্ঞ পণ্ডিত শরচ্ছন্দ্র দাস (১৮৪১-১৯৯১ সাল) ও লামা তারানাথ তিব্বতি গ্রন্থ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যায় । শুরুর দিকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাযান বা তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা …

আরও পড়ুন

ঠেগরপুণি মেলার ইতিহাস

পঞ্চদশ শতাব্দীতে ঠেগরপুনি গ্রামে অবস্থান করতেন চকরিয়া নিবাসী রাজমঙ্গল মহাস্থবির। চন্দ্রজ্যোতি ভিক্ষু কর্তৃক ব্রক্ষদেশ থেকে আনিত একটি ত্রিভঙ্গ বুদ্ধমূর্তি তার পিতৃব্য রাজমঙ্গল মহাস্থবির ঠেগরপুনি গ্রামের বিহারের পার্শে কাঠের ঘর প্রতিষ্ঠা করেন ৷ তৎকালীন চিরিজিয়া নামী একজন স্ত্রীলোক ঠেগরপুনি গ্রামে একটা বুদ্ধ মন্দির নির্মান করে দেন । মন্দিরে অতি প্রাচীন কালের কালবর্ণ প্রস্তরের বুদ্ধ মূর্ত্তি স্থাপিত আছে । বরিয়া গ্রামের প্রেতরাম বড়ুয়া ও ঠেগরপুনি গ্রামের শ্রীযুক্ত ধর্ম্ম সিংহ বড়ুয়া প্রত্যেকে এক …

আরও পড়ুন

কর্তালা বেলখাইন মহাবোধি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাস

প্রাচীন নাম: কর্তালা বেলখাইন মধ্য ইংরেজী স্কুল । প্রতিষ্ঠা: ১৯১১ সাল, আমার গবেষণা তার ও আগে হতে পারে । বর্তমান নাম: কর্তালা বেলখাইন মহাবোধি উচ্চ বিদ্যালয় । প্রতিষ্ঠা: ১৯৩৪ সাল, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত । প্রতিষ্ঠাতা: ডা: শান্ত কুমার চৌধুরী প্রথম শিক্ষক: অতিন্দ্র লাল চৌধুরী, নীলাম্বর বড়ুয়া (জলদী,বাশখালী) প্রথম প্রধান শিক্ষক: কংগ্রেস নেতা অধ্যাপক সুরেন্দ্র নাথ বড়ুয়া (চত্তরপটিয়া, পটিয়া), প্রেমানন্দ বড়ুয়া (নাইখাইন, পটিয়া) ভূমিদান: তথ্যের অভাবে ভূমিদাতাদের নাম দিতে …

আরও পড়ুন

পাকিস্তান আমল,প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম

বিংশ শতকের চল্লিশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান আন্দোলন যখন জোরদার হতে থাকে তখন ত্রিপুরা রাজ্যের শেষ মহারাজা বীরবিক্রম উত্তরপূর্ব ভারতের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিয়ে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনে উদ্যোগী হন।কিন্তু তিনি সফল হতে পারেন নি।পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন রাজা এবং নেতাসহ অন্যান্য উপজাতি অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ তাকে সমর্থন করেনি।১৯৪৭ সালের মে মাসে মহারাজার মৃত্যু হয় এবং তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে সেই উদ্যোগেরও মৃত্যু ঘটে।অতপর মুসলীম লীগের দ্বিজাতিতত্ত্ব এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দাবি …

আরও পড়ুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা অরুণ নন্দী ; বাংলাদেশের সুপারহিরো

তখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিন শত শত মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছেন মাতৃভূমিকে মুক্ত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে। সেই সময় কলকাতার মাটিতে শরণার্থী ছিলেন বাংলাদেশের এক সন্তান, নাম অরুণ নন্দী। নিজের জন্মভূমির এ দুঃসময়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন দেশের জন্য কিছু একটা করার, একেবারেই অন্যরকম কিছু। অন্ত্র হাতে নিয়ে শত্রুর বুকে গুলি চালানোর সামর্থ্য তার আছে। তবে তারচেয়েও বড় এক প্রতিভার অধিকারী তিনি, বিরতিহীন সাঁতরে যাবার অসাধারণ ক্ষমতা আছে …

আরও পড়ুন

কিছু কথা,প্রেক্ষিত পাহাড়

রাঙ্গামাটি,বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে গঠিত “পার্বত্য চট্টগ্রাম”।পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে গড়ে ওঠা সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশাল বিশাল সুউচ্চ পাহাড়।দেশের অন্যান্য জায়গা থেকে এই পাহাড়ের অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্রটা যেমনি আলাদা, তেমনি আলাদা পাহাড় এবং পাহাড়ের বুকে বসবাস করা প্রকৃতিপ্রেমী প্রাণবন্ত সহজ সরল সাদামাটা পাহাড়ী মানুষগুলোর ইতিহাস।পাহাড়ের বুকে বসবাসরত ১৩ ভাষাভাষি ১৪টি জুম্ম জাতীসত্তার মানুষগুলো ইস্পাত সংগ্রামী এবং প্রকৃতিপ্রেমীও বটে।তারা প্রতিনিয়ত পাহাড় প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে, বেঁচে থাকার তাগিদে,দু বেলা দু-মুতো অন্ন …

আরও পড়ুন

আমাদের বঙ্গবন্ধু

পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে আজ অবধি যুগে যুগে এমন সব ব্যক্তিত্বের আগমন ঘটেছে, যাদের হাত ধরে মানবতার মুক্তির সনদ রচিত হয়েছে। ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের এই ছোট্ট ভূ-খন্ডটির জন্মের সাথে যার নাম অঙ্গাঙ্গীকভাবে জড়িত তিনি আর কেউ নন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতি নদীর তীরবর্তী টুঙ্গিপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে শেখ লুৎফুর রহমান ও সাহেরা খাতুনের ঘর আলোকিত করে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ (বাংলা …

আরও পড়ুন

শঙ্করদেব পাঠের গোড়ার আলাপ

শঙ্করদেব আমাদের এই অঞ্চলের ভাবান্দোলন বা ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। আমাদের এই অঞ্চলের জনগণের সামাজিক-সাংস্কৃতিক -রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রবাদ পুরুষ।তিনি ১৪৪৯ খ্রীষ্টাব্দে আসামে জন্মগ্রহণ করেন।সালটা পড়ে আমরা বুঝতে পারছি তিনি চৈতন্যদেবের প্রায় অর্ধশতাব্দী আগেরকার মানুষ। এই মহান ব্যক্তিত্ব শুধু আসামের নন, তিনি একইসঙ্গে বাঙলার সাথে সংযুক্ত। আমরা বলতে পারি তিনি বৃহৎ বাঙলার ভাবান্দোলনের প্রবাদ পুরুষ। তাঁর সাহিত্য- দর্শন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহৎ বাঙলার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার জন্য তাঁকে পাঠ …

আরও পড়ুন

বড়ুয়া’রা ‘মগ’ নয় !

মগ প্রথমত চট্টগ্রাম গালির ভাষা হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়েছিলো । অন্থানীয় বা অচট্টগ্রামীরা চট্টগ্রামীদের মগ বলে হেয় করতে চাইত । যা হোক, মগের নামে একটা সম্প্রদায় ছিল এখন ও আছে । মগ আরাকান নিবাসী জাতি বিশেষ । জাতিতত্ত্ববিদেরা এদের ইন্দো-চীন নিবাসী বলে মনে করেন । সাধারণত মগ বলতে আরাকানীদের বুঝায় । আরাকানীরা চট্টগ্রামের কিছু অংশ, কখনো পুরো অংশ শাসন করেছে । স্থানীয় বৌদ্ধদের উপর মগদের শাসন যেমন ছিল ত্রিপুরাধিপতিদের শাসন, …

আরও পড়ুন

চর্যাপদ : বাংলা সাহিত্যের পথ প্রদর্শক

বাংলায় মুসলমান আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবার আগে ব্রাহ্মণ্য হিন্দুসমাজের পীড়নের আশঙ্কায় বাংলার বৌদ্ধগণ তাঁদের ধর্মীয় পুঁথিপত্র নিয়ে শিষ্যদেরকে সঙ্গী করে নেপাল, ভুটান ও তিব্বতে পলায়ন করেছিলেন, এই ধারণার বশবর্তী হয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চারবার নেপাল পরিভ্রমণ করেন। ১৮৯৭ সালে বৌদ্ধ লোকাচার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি প্রথমবার নেপাল ভ্রমণ করেন। ১৮৯৮ সালের তার দ্বিতীয়বার নেপাল ভ্রমণের সময় তিনি কিছু বৌদ্ধ ধর্মীয় পুঁথিপত্র সংগ্রহ করেন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয়বার নেপাল ভ্রমণকালে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় নামক একটি …

আরও পড়ুন
error: Content is protected !!