ছবি: ইন্টারেনেট।

আতঙ্কিত নয়, সতর্ক হয়ে প্রতিরোধ করতে হবে

()

চীনে প্রথম ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস ইউরোপ, লাতিন আমেরিকাসহ ছয় মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত ও নেপালে শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে করোনা রোগী। যে তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে তাদের দুইজন শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ইতালি ফেরত বাংলাদেশী ও একজন তাদের কর্তৃক সংক্রমিত। অথচ শাহজালাল বিমানবন্দরের করোনা পরীক্ষার ঘাটতি ও থার্মাল স্ক্যানার নষ্টের কথা বারবার বলা মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছিল। সিঙ্গাপুরপর সহ তিনদেশে ৭ জন বাংলাদেশী নাগরিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও ২জন সুস্থ হয়ে উঠার খবর পাওয়া গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় প্রকাশিত শীর্ষ করোনা ঝুঁকিতে থাকা দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। ফলে জনজীবনে এই ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে এখনি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বানিজ্যিক অংশীদার করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে এই্ পর্যন্ত ৮০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হলেও মারা গিয়েছে ২,৯৮১ জন। অন্যদিকে বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ পৌঁছেছে। ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপ সফর ওহোলি বা দোল উৎসব বাতিল করেছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানেও শনাক্ত হয়েছে রোগী। অবাক করার ঘটনা হচ্ছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের রোগীরা ইতালি ও ইরান ফেরত। সুতরাং উৎপত্তিস্থল চীন নয় বরং সব দেশের নাগরিকই এখন সম্ভাব্য করোনা রোগী। ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও জাপানকে হটস্পট হিসাবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে আশার বিষয় হচ্ছে চীনে আক্রান্ত রোগীদের অনেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছেন। তবে ভারতে ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশের জন্য আশঙ্কার। কারণ প্রতিবছর ভারত যায় প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশী। ফলে বিমানবন্দরের পাশাপাশি স্থল বন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ‘বাংলাদেশের বন্দরগুলোতে শুধুমাত্র চীনা নাগরিকদের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে।’ অথচ এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ছয় মহাদেশে। এছাড়া আমাদের বিমান,স্থল ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে সকল বিদেশী নাগরিকদের করোনা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। তিন আন্তজার্তিক বিমান বন্দরের সাতটি থার্মাল স্ক্যানারের মধ্যে ছয়টি নষ্ট। ফলে হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানারই ভরসা। যদিওবা বাংলাদেশ সরকার এই পর্যন্ত বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯২ জন যাত্রীদের স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করেছে।
জাতিসংঘের বানিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা করোনা ভাইরাসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ দেশের যে তালিকা ঘোষণা করেছে সেখানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে চীনের সাথে বাংলাদেশের বানিজ্য ছিল প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার। প্রতিবছর প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের গার্মেণ্টস কাঁচামাল আমদানি করে বাংলাদেশ। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে চীনের শিপিং  স্বাভাবিক না হলে আমদানির বিকল্প দেশ খোঁজা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া ক্ষতির মুখে রয়েছে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ও কুঁচিয়া, কাঁকড়া রফতানি।বানিজ্য ক্ষতির চেয়ে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনজীবনে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করা। কারণ হাঁচি কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আর জীবিত থাকে ২-৯ ঘন্টা। এই জন্য পাবলিক সমাবেশ সীমিত ঘোষণা করা উচিত। এছাড়া কোলাকুলি, হ্যান্ডশেইক এড়িয়ে চলার অভ্যাস করা উচিত জনগণকে। সবাইকে ঘনঘন হাত ধুতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ডাক্তাররা অবশ্য ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোঁয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ভাইরাস প্রতিরোধ ও সতর্কতার জন্য সবচেয়ে ভাল হয় যদি ফেইস মাস্ক ব্যবহার করা যায়।
ইতিমধ্যে  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় করোনা (কভিড-১৯) প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু দুঃখ ও আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে হু হু করে বেড়ে চলেছে ফেইস মাস্কের দাম। স্বাভাবিকের চেয়ে ৪/৫ গুণ বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক। এই যেন আমাদের পুরানো সংস্কৃতি, রমজান আসলেই বেড়ে চলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম। মহামারী হতে যাওয়া চীনের অভ্যন্তরে এই ভাইরাস অনকেটা নিয়ন্ত্রণে। সরকারের সময়মতো পদক্ষেপ, জনগণের রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মানা ও জনগণের  স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। ফলে আমাদের সামনেও যদি কোন দূর্যোগ আসে সেটার জন্য দেশের সকল নাগরিককে সচেতন ও সৎভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একার পক্ষে কোন দূর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব না।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

আপনি কি এই পোস্টটি দরকারী মনে করছেন?

সামাজিক মিডিয়াতে জানান!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!