অসমাপ্ত গল্পের শেষ পর্ব

রিমঝিম বৃষ্টি হচ্ছিল সেদিন। সময়টা ১০ঃ ৩০ মিনিট হবে। হাতে ঘড়ি ছিলো না। পকেটে মোবাইল ছিলো তবে বৃষ্টির কারণে বের করতে পারিনি। সঠিক সময়টা সেজন্য….।
হাতে ছিলো ফাইল ব্যাগ। ব্যাগের ভেতর ছিলো সার্টিফিকেট। চাকরির ভাইভা দিতে এসেছি।
ব্যস্ত নগরী। কারো দিকে কেউ তেমন করে তাকাচ্ছে না। অফিস টাইম মনে হয় এমনই। বাস থেকে নেমে ঠিকানা খুজছিলাম। এমন সময় কে যেন বলে উঠলো হায় হায়! কথা গুলো আমার খুব কাছে থেকে আসছিলো। এজন্য পাশ ফিরে তাকাতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম। একি! হাসিও পাচ্ছে। কিন্তু হাসতে পারছি না। বাম হাত দিয়ে মুখ বন্ধ করে তবুও কিছুটা হেসে নিলাম।
একজন অপরিচিত মেয়ে বাস থেকে নামতেই বৃষ্টির পানির কাঁদায় পা দিতেই রাস্তায় পরে গেছে। আসলে শহরের রাস্তাগুলো এতটাই খারাপ যে রাস্তা জুড়ে শুধু খাল আর খাল। সবুজ আর লাল রঙের সালোয়ার-কামিজের মেয়েটি নিমেষেই কাঁদায় মাখামাখি হয়ে গেল। হাতের ভ্যানিটিব্যাগ ছিটকে গিয়ে একটু দূরে গিয়ে পরেছে। তখনও ঘুরি ঘুরি বৃষ্টি পরছিলো। হয়তো এজন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। অথবা এরকম দৃশ্যটা দেখতে কেউ মিস করতে চাইছিল না। অথবা মানবিক সহযোগিতার হাত কেউ বাড়ায়নি।
খুব কাছে থাকায় শেষমেশ আমাকেই যেতে হলো। অবশ্য আশেপাশে তাকিয়ে ছিলাম কেউ এগিয়ে আসছে কিনা। যদি আসতো…….। দূরে থাকা ব্যাগটা নিয়ে কাছে যেতেই এক্সকিউজ মি আপনার ব্যাগটা।
সরি সরি!! একটু ধরে ওঠাবেন প্লিজ। গাড়িগুলো তখন যেন খুব জোরে জোরে হর্ণ দিচ্ছিল। খুব কাছে থেকেই না শোনার ভান করে তাকিয়ে রইলাম। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও মনে হয় সেও ঠিক এরকমই করতো। অনেক সুন্দর মেয়ে দেখেছি তবে এরূপ যেন সবাইকে ছেড়ে অন্য মাত্রায় চলে গিয়েছে। দূধে আলতা গায়ের রং। আর কণ্ঠটা কৃষ্ণ ঠাকুরের বাঁশির মতো। খুবই সুমধুর।

এক্সকিউজ মি!! এই যে, শুনতে পারছেন হ্যালো!! কিছুক্ষণ যেন অন্য শহরে গিয়েছিলাম। থমকে গিয়ে। জ্বি বলুন। ও আচ্ছা। আস্তে আস্তে উঠুন। নইলে আবার পরে যাবেন। আপনি ঠিক আছেন তো?
হুমম, ঠিক আছি। তবে……।
জ্বি, আর বলতে হবে না। চলুন, আমার সাথে চলুন।
কোথায় যাবো?
সামনেই, একটু সামনেই রেস্টুরেন্ট আছে। ওখানে গিয়ে একটু পরিষ্কার করে নিবেন।
না না। লাগবে না। আমি এভাবেই বাসায় চলে যাবো।
আরে না। তাই হয় নাকি। লোকে বলবে কি?
আরে কিছু হবে না। বাসায় গিয়ে চেঞ্জ করে নেব।
আর কোন কথা নয়। চলুন তো। আপনাকে সবাই হাসাহাসি করবে। আপনার দিকে সবাই তাকিয়ে থাকবে।
চুলগুলো তখন এলোমেলো ছিলো। দূর থেকে দেখে পলক পরতেই চাইছিল না। অভাগার মতো শুধু চেয়েই ছিলাম সেদিন। (কাছে এসেই) হু হু (হালকা কাশি) এই যে হ্যালো, মিস্টার। আচমকা বলে উঠি- হুমম, এখন অনেকটা ঠিক আছে। আর যাইহোক লোকজন আর আপনার দিকে তাকাবে না।
হুমম, একদম ঠিক বলেছেন (একটু হেসে)। চলুন এবার যাওয়া যাক।
চলুন।
(রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসতেই) এই রিক্সা যাবে?
জি আপা। কই যাবেন আপা?
চলো, সামনেই যাবো।
রিকশা হুড়হুড় করে চলতে লাগলো। আমি শুধু চেয়ে রইলাম। নামটাও জিজ্ঞেস করতে পারলাম না। ভেবেছিলাম ধন্যবাদটুকু হয়তো জানাবে। কিন্তু…….। আমি সামনে হাঁটতে থাকলাম।

হঠাৎ রিকশাওয়ালা দাড়িয়ে গেলো। মেয়েটি রিকশার ফাঁকে পিছনে ফিরে তাকালো। ভাবলাম হয়তো কিছু ফেলে গিয়েছে। কিন্তু না তেমনটা মনে হলো না।হ হাত বাড়িয়ে কাকে যেন ডাকছে। দূর থেকে বোঝা যাচ্ছে না। একবার ভাবলাম আমাকে। আবার ভাবলাম হয়তো পরিচিত কাউকে দেখেছে। কিন্তু না। শেষমেশ বুঝলাম আমাকেই ডাকছে। বুকের ভিতরটা যেন নড়েচড়ে উঠলো। অজানা কোন দমকা হাওয়া কিছু উষ্ণ পরশ দিয়ে গেলো। মুখে অজান্তেই মিষ্টি হাসি এসে গেল।
(কাছে যেতেই) সরি সরি সরি!! আপনাকে ধন্যবাদটুকুও জানাতে ভুলে গেছি। (হাত বাড়িয়ে) হায় আমি স্নিগ্ধা। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনি কোথায় যাবেন? চাইলে আমার সাথে যেতে পারেন।
ডান হাতের ছোঁয়া যেন বুকের ভিতরটা শীতল করে দিয়ে গেলো। আগে কখনো হয়নি এমন। এমন অনুভূতি কখনো খেলা করেনি আমার সাথে। প্রিয় মানুষের সাথে প্রথম দেখা বুঝি এরকমই।
ভাইভা পরীক্ষা দিতে সেদিন আর যাওয়া হয়নি। মনটাও কেন যেন চায়নি। পিছনে না গিয়ে ফিরে এসেছিলাম। পিছনে যাওয়াটাই সেদিন খুব জরুরি ছিলো। যদি যেতাম আর কিছু না হোক মেয়েটি কোথায় থাকে সেই ঠিকানাটা খুঁজে পাওয়া যেতো। বারবার সেই জায়গায় যেতো হতো না তাকে খুঁজতে। এক পলক দেখতে। কিছু কথা বলতে। সেদিনের পর থেকে সবকিছু মিলেমিশে কেমন যেন লাগে? কোন কিছুতেই মন বসাতে পারিনি। বারবার শুধু ওই কথাগুলো, ওই মুখটা, ওই হাতের স্পর্শটা সামনে এসে উঁকি দিয়ে যায়। আর আমাকে তার প্রেমে বারবার ডুবায়।
সপ্তাহে খানেক হলো ওই জায়গাটিতে (যেখানে মেয়েটি পরে গিয়েছিল) নিয়মিত যাওয়া হয় আমার। কোনদিন এক ঘন্টা, আবার কোনদিন ২ থেকে ৩ ঘন্টা, আবার সম্পুর্ন দিন সেখানে এদিকসেদিক বসে, দাড়িয়ে থেকে শুধু খুঁজেছি। কিন্তু পায়নি। আশপাশের কিছু দোকানদার আমাকে চিনেই ফেলেছিল রোজ রোজ এভাবে হাটতে দেখতে, দাড়িয়ে থাকতে দেখতে। অপেক্ষা জিনিসটা খুব কষ্টের হলেও আমি কিন্তু মোটেই বিরক্ত হয়নি। তবে মাঝেমাঝে খুব রাগ হতো যে কেন আসছে না সে?
তবে সেদিন (রোববার) ইচ্ছে করছিলো না যেতে। তবে কেন জানি মনের উপর জোর খাটিয়ে গিয়েছিলাম। অপেক্ষাও করেছিলাম ঘন্টা দুয়েক। প্রচন্ড রোদ ছিলো সেদিন। ঘামে শরীরটা ভিজে গিয়েছিল। যখন বাসায় ফিরবো বলে বাসে উঠতে যাবো ঠিক তখনই একটা পরিচিত আওয়াজ কানে এসে বাজলো –আরে! আপনি। কেমন আছেন?
আমি বাসের দরজার দিকে চেয়ে দেখি যাকে প্রতিদিন পাগলের মতো খুঁজছি আজ সেই……।
বাসে উঠবেন না প্লিজ। আপনার সাথে কথা আছে। চলুন সামনের ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসি।
আমি এমনিতেই বললাম, কেন? কি হয়েছে? আমার একটু তাড়া আছে।
আমি আপনার কোন কথা শুনবনা। চলুন না (হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে)।
আমি আর কিছু বলিনি সেদিন। তারপর কফি। অনেক কথাবার্তা। মোবাইল নাম্বার আদান-প্রদান। আমি অবশ্য বিলটা দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু স্নিগ্ধা দিতে দেয়নি। সে বলেছিলো আপনি সেদিন আপনি আমার অনেক বড় উপর করেছিলেন এটা আপনার প্রাপ্য ছিলো। আর আপনি…….। সেদিন যখন ঘামে শরীরটা ভিজে ছিলো। স্নিগ্ধা আমাকে টিস্যু দিয়েছিল ঘাম মুছতে। কিন্তু আমি পাগলের মতো এখনো রেখে দিয়েছি যত্ন করে। পরে অবশ্য সে জানতে পেরেছিলো।
এরপর আর দাড়িয়ে থাকতে হয়নি। রোজ কথা হতো। চ্যাটিং হতো। মাঝেমধ্যেই দেখা হতো, আড্ডা হতো। শপিংয়েও গিয়েছিলাম অনেকবার। একটা সময় আমি বুঝতে পারলাম আমি স্নিগ্ধা আসলেই পাগলের মতো ভালোবাসি। হয়তো স্নিগ্ধা নিজেও সেটা অনুভব করেছিল। তাই আর দেরি না করে একদিন হঠাৎই স্নিগ্ধাকে বলে ফেললাম “আমি তোমাকে ভালোবাসি” সেই প্রথম দিন থেকে। স্নিগ্ধা সেদিন অনেকটা সময় কথা বলেনি আমার সাথে। আমি নিজেও সেদিন কোন কথা পায়নি বলার। তবে সে বলেছিলো আমাকে কিছু সময় দাও। অবশ্য সেদিনই সন্ধ্যায় তার এসএমএস পেয়েছিলাম, মেসেঞ্জারে ভয়েস রেকর্ড শুনেছিলাম যে আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আগামীকাল দেখা হচ্ছে। ভালো থেক।
আমাদের দুজনের রিলেশনের একটা সময়ে ও বিয়ের কথা বলে। আমি তখনও বেকার ছিলাম। তবে আব্বুর যথেষ্ট টাকা পয়সা ছিলো। ঢাকায় বাড়িও ছিলো। কিন্তু আমি বিলাসিতা পছন্দ করতাম না। আমি স্নিগ্ধাকে বলেছিলাম আমাকে কিছু সময় দিতে। সে দিয়েছিল কিন্তু……..
হঠাৎ একদিন সকালে ফোন আসে…. হ্যালো, কি ঘুম থেকে উঠেছ?
কেন কি হয়েছে? এত সকালে ফোন।
আমি বাড়ি যাচ্ছি।
বাড়ি যাচ্ছি, মানে? কেন?
মায়ের শরীরটা ভীষণ খারাপ। ভাইয়া ফোন করেছিলো।
ও আচ্ছা। যাও। গিয়ে ফোন দিও।
ওকে, ভালো থেকো। বাই।
তারপর বেশ কয়েকদিন আর ফোন আসেনি স্নিগ্ধার। আমি মেসেঞ্জারে, ইমোতে, ফোনে শত শতবার কল দিয়েছিলাম। কিন্তু কোন রিপ্লাই পায়নি। শুধু রুমের মধ্যে বোকার মতো ফোন দিকে চেয়ে চেয়ে সময় পার করতাম। আম্মু অবশ্য বুঝতে পেরেছিল। সেজন্য বলতো বাইরে গিয়ে ঘুরে আসতে। কিন্তু আমার…..।
বন্ধু চিরঞ্জীবের ফোন। অনেক দিন পরে।
হ্যালো, কি রে শাওন কি খবর তোর?
এইতো ভালো। তোর খবর বল? অনেকদিন পরে কল দিলি।
আর বলিস না। তুই তো জানিস চাকরি বাকরি আমার দ্বারা সম্ভব না। সেজন্য বাবার ব্যবসাটা দেখছি। জমিজমা আবাদ করছি। এভাবেই চলছে। তোর খবর বল? আমার আর খবর। চলছে ঠিক আগের মতো।
তাই নাকি। তো চাচা চাঁচি কেমন আছে? আমার সালাম দিস।
হুমম, ভালো আছে।
আর শোন আগামী রবিবার আমার ছোট বোনের বিয়ে। তোকে কিন্তু আসতেই হবে।
কি বলিস তোর বোনের বিয়ে আর আমি যাবো না। অবশ্যই যাবো।
মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরলো। ঝড়ঝাপটায় নিমেষেই যেন সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেল। এক মুহূর্তেই বুকের ভেতরটা দাউদাউ করে জ্বলতে লাগলো। গলাটা শুকিয়ে চৌচির। তৃষ্ণায় বুকটা ফেটে যাওয়ার উপক্রম যখন চিরঞ্জীব স্নিগ্ধার সাথে পরিচয় করে দিল।
আমি তখন কিছুই বলিনি। শুধু বলেছিলাম খুব টায়ার্ড লাগছে। সাহস করে স্নিগ্ধার সামনে দাড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না।
সেদিন রাতে। রাত ১২ টার পর। দরজায় টোকার শব্দে চমকে উঠি। কান্না জড়িত আস্তে আস্তে বলতে থাকি কে? কিন্তু কোন শব্দ হয়নি। কিছুক্ষণ পর আবার দরজায় শব্দ। আমি আবার বলি কে? কিন্তু এবারও কোন শব্দ আসেনি। কিছুক্ষণ পর আবার…….। এইবার বসে না থেকে দুই হাত দিয়ে অশ্রুগুলো মুছে দরজা খুলে দেখি স্নিগ্ধা। আমি বলিনি কিছুই। “থ” হয়ে দাড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু স্নিগ্ধা বলেছিল তুমি মুসলিম আগে কখনো বলোনি কেন? এতোদিন কেন লুকিয়ে ছিলে (কাঁদতে কাঁদতে) ? আমি চুপ করে দাড়িয়ে ছিলাম। কিছুই বলিনি।
শুধু বলেছিলাম আমিও কি জানতাম তুমি…….। তুমি কি কখনো আমাকে বলেছো? বলোনি। তবে আজ কেন প্রশ্ন উঠছে।
আমি এখন কি করবো? আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবনা (কাঁদতে কাঁদতে)।
তোমার এতোদিন ফোন কেন বন্ধ ছিলো? তুমি আমাকে আগে বিয়ের কথা বলতে পারতে।
আমি কি করে জানবো আমার বিয়ে? বাড়িতে এসে জেনেছি। কিন্তু আমি তোমার কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম আমি একজনকে ভালোবাসি। কিন্তু বাড়ির কেউ মেনে নেয়নি। সেদিন থেকেই মোবাইল নিয়ে নেয় দাদা। আর বিয়ে না হওয়া অব্দি বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করে দেয়। আর আমি কি জানতাম তুমি দাদার বন্ধু।
আমিও কি জানতাম তুমি চিরঞ্জীবের বোন?
চলো পালিয়ে যাই। যা হবার তাই হবে। দাদা কোনকিছু জানার আগেই আমরা পালিয়ে যাবো। হঠাৎ কোনকিছুর শব্দ।
শাওন তুই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তুই আমাদের পরিবার, সমাজের সমন্ধে জানিস। আশাকরি তুই আমাদেরকে সমাজে ছোট করবি না। তোর কাছে একটাই অনুরোধ আমাদেরকে সম্মানের সাথে মাথা তুলে বাঁচতে দে।
পরেরদিন বিয়ের অনেক আগেই আমি ফিরে এসেছিলাম। নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে ফেলে রেখে রাতের আঁধারে পালিয়ে এসেছিলাম। পালিয়ে না আসা ছাড়া আর যে কোন উপায় ছিলো না। ভালোবাসার চেয়ে বন্ধুত্ব বড়। আর তাছাড়া আমার জীবনে চিরঞ্জীবের কাছে থেকে নেওয়া অনেক ঋন রয়েছে। শেষবার আব্বু যখন হার্ট অ্যাটাক করেছিলো, যখন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও রক্ত পাচ্ছিলাম না তখন চিরঞ্জীব এসে পাশে দাড়িয়েছিল। কিভাবে ভুলে যাই সে কথা? মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না। স্নিগ্ধাকে বলার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধু নীল রঙের শাড়িটি রেখে এসেছিলাম। ছোট চিরকুটে “সুখে থাকো ভালো থাকো-আর আমাকে ভুলে যেও”।

শেয়ার করুন

ব্লগার মাসুদ রানা

Chowbariya,Beltoyel,Shahzadpur,Sirajganj,angladesh

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।