অবরুদ্ধ পাহাড়

অবরুদ্ধ পাহাড়,
বাংলাদেশ উপনিবেশ শাসন-শোষণের।
‘অপারেশন উত্তোরণ’ নামে সামরিক শাসন কায়েমের।
‘শান্তি-সম্প্রীতি-উন্নতি’ তথা ‘অপারেশন শান্তকরণ’ নীতি প্রয়োগের।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
রাষ্ট্রীয় কূটনীতি তথা রাজনীতিতে।
উন্নয়নের রাজনীতি নামক লুটপাট রাজনীতিতে।
রাষ্ট্র ‘কালচারাল জেনোসাইড তথা এথনোসাইড’ নীতি প্রয়োগের।
রাষ্ট্র পাহাড়ে ‘ডেভেলপমেন্ট জেনোসাইড’ তত্ত্ব প্রয়োগের।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
রাষ্ট্র ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতি প্রয়োগের।
কমিউনিটি ভিত্তিক এক ধরণের রাজনীতি খেলার নীতিতে।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
ইসলামিকরণ এবং বাঙালিকরণে নীতি প্রয়োগে।
‘লাভ জিহাদ’ তত্ত্ব প্রয়োগের।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
‘খাও দাও, ফূর্তি কর’ তথা ভোগবাদী সংস্কৃতি ফাঁদে পড়ে।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
দাসত্ব চেতনামুখী হয়ে,
আত্মকেন্দ্রিকতা ও আত্মমুখী উন্নয়নের চেতনাতলে।
প্রতিবাদহীন চেতনা ও আন্দোলনবিমুখ চেতনাতলে।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
রাষ্ট্র পাহাড়ীদের প্রান্তিককরণে।
অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলনে ফাঁদে।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
আদিবাসীদের নিশ্চিহ্নকরণ ফাঁদ ‘পর্যটন জোন’ তৈরিতে।
থাইল্যান্ডের অনুকরণে সেক্স টুরিজমকরণে।
লাস ভোগাসের মতো মদ-যৌনতা অঞ্চল তৈরিতে।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
‘ডেমোগ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং’ তত্ত্ব প্রয়োগে সেটেলার স্টেলমেন্টের।
সেটেলারদের বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠকরণ ও পাহাড়ীদের সংখ্যালঘুকরণে।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
সেনা সদস্য-সেটেলার বাঙালি কর্তৃক পাহাড়ী নারীদের ধর্ষণ, অপহরণে।
উগ্র জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি জ্যাতভিমান পদানত পিষ্ট হয়ে।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
পাহাড়ীদের ভিটেমাটি থেকে উৎখাতকরণে,
ক্যাম্প সম্প্রসারণ নামক জোরপূর্বক ভূমিবেদখলে।
পর্যটন সম্প্রসারণ নামক ভূমি অধিগ্রহণে।
সেটেলারা বাঙালিরা লাশকে ঘিরে রাজনীতি খেলাতে।

অবরুদ্ধ পাহাড়,
আদিবাসী জাতিসত্তারসমূহের অস্তিত্ব সংকট ও আত্ম-পরিচয় সংকটে।
রাজনীতি – প্রতিরাজনীতি খেলাতে।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্র ‘এথনিক ক্লিনজিং পলিসি’ প্রয়োগের অবরুদ্ধ পাহাড়।

(চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, বিএমএসসির,
পাইং আমুঙ,
মারমা সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মুখপত্র
মাহা সাংগ্রাইং সংখ্যা,বর্ষ ১২, ৮ম সংখ্যা ১৪ এপ্রিল, ২০১৮ এর প্রকাশিত)

শেয়ার করুন

ব্লগার উথোয়াইনু মারমা

I'm student.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।