অতিথি পাখিদের রক্ষা করুন

()

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ।পালাক্রমে দুই মাস করে একটি ঋতু।একটির পর একটি ঋতু পরিবর্তন হয় , সেই সাথে প্রকৃতিও তার রুপ নতুন করে দেখায়।অগ্রায়ণের শেষে অর্থাৎ হেমন্ত ঋতু বিদায়ের সাথে সাথেই প্রতিবারের মত এবারও প্রকৃতিতে আবির্ভূত হয়েছে শীতকাল।

শিশির বিন্দু ঝরার টুপটাপ শব্দ আর মৃদু শীতলতা জানান দিয়ে যায় ঋতু পরিবর্তনের খবর। প্রতিটি প্রাণে জেগে ওঠে চাঞ্চল্যের শিহরণ।হিম শীতলতায় ছেয়ে যায় চারপাশ। লতাপাতা থেকে ঝরে পড়ে টুপটাপ শিশিরবিন্দু। এ যেন কোনো আহ্লাদি বালিকার নূপুরনৃত্যের ঝংকার।চারদিক রুক্ষ, শুষ্ক রূপ ধারণ করে।

এত এত রুক্ষ,শুষ্কতার মাঝে জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। মানুষের কাজে যেতে অসুবিধা হয়, ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়ে যায় এবং সবশেষে প্রচন্ড রকমের আলস্য দেখা যায় মানব চরিত্রে।
শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন জন বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকে।শীতের এইসব কষ্টের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটি হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন।এই দৃশ্যটি যতটা দেখতে সুন্দর তারচেয়ে কুৎসিত দৃশ্য হচ্ছে এইসব অতিথি পাখি শিকারের দৃশ্য।
কিছু বাড়তি টাকার আশায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অতিথি পাখি শিকারের কাজটি করে থাকে।এছাড়াও ব্যাক্তি উদ্যোগেও অবৈধভাবে অনেকে এই কাজটি করে থাকেন।

পৃথিবীতে প্রায় ৫ লাখ প্রজাতির পাখি আছে। এর মধ্যে অনেক প্রজাতিই বছরের নির্দিষ্ট সময় অন্য দেশে চলে যায়। আমাদের দেশের বেশির ভাগ অতিথি পাখি হিমালয় কিংবা হিমালয়ের ওপাশ থেকে আসে। এরা এই দেশে শীত মৌসুমে আসে নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে।কারণ,এই সময় সাইবেরিয়াসহ অন্যান্য শীতপ্রধান দেশের তীব্র শীতে তাদের পক্ষে বেঁচে থাকা কষ্টকর।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবারের মতো এবারও সুদূর  সাইবেরিয়া, হিমালয়, নেপাল, মঙ্গোলিয়া, সিনচিয়াং ও চীনের আশপাশের শীত প্রধান দেশ থেকে এসেছে হাজারো শীতের অতিথি পাখি। বাংলাদেশে আসা পাখিদের ৮ – ৯ শতাংশ এই ক্যাম্পাসে আসে।এছাড়াও বাংলাদেশের আরো অনেক জায়গায় অতিথি পাখি দেখা যায়।এসব অতিথি পাখিগুলো পর্যটক হিসেবে যেরকম অভিভূত করে মনকে তেমনি প্রকৃতির এক নতুন রূপ দেখতে পাওয়া যায় এই সময়টায়।

অতিথি পাখিগুলো শীতের সময়ে বাংলাদেশে আসা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাখিগুলো বিপদের সম্মুখীন হয়। অতিথি পাখি অনেকটা আমাদের মেহমানের মত।তারা আমাদের সম্পদ।অনেকেই অবৈধভাবে অতিথি পাখি শিকার করে থাকে। এদের মধ্যে আছে পেশাদার শিকারী ,শৌখিন শিকারী। শিকারের হাত থেকে অতিথি পাখিগুলোকে রক্ষা করতে হবে নাহলে এমনও হতে পারে তারা পরবর্তীতে বাংলাদেশে এত দূরের পথ পাড়ি দিয়ে নাও আসতে পারে।
অতিথি পাখিদের শিকারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে করা হয়েছে।
আইনে বলা হয়েছে,পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ আবার করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণ।
আইনে এসব শাস্তির উল্লেখ থাকলেও প্রয়োগকারী সংস্থার ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই চলে পাখি নিধন। উদাসীন বন বিভাগের নজরে আসেনা পাখি নিধনের কোনও ঘটনা। হাতেনাতে ধরা না পড়লে পুলিশও এর দায় নেয় না।
এর ফলে, পাখি নিধন বেড়ে গিয়েছে। একসময় দেখা যাবে অতিথি পাখি আসছে না বাংলাদেশে।নতুন জায়গা খুঁজে নিবে অতিথি পাখিরা তাদের এই নিদিষ্ট সময় কাটানোর জন্য।

পাখিপ্রেমী যেমন আছে তেমনি সামান্য টাকার লোভে পাখি শিকার করা মানুষও এই সমাজে আছে।আমাদের সবার উচিত বাংলাদেশ সরকারের প্রণয়ন করা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং আইন মান্য করা।যাতে করে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটু সুন্দর পৃথিবী উপহার পায়।

লেখাটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

লেখার উপরে এই লেখার মোট রেটিং দেখুন

এখন পর্যন্ত কোনও রেটিং নেই! এই পোস্টটি রেটিং করুন

আপনি কি এই পোস্টটি দরকারী মনে করছেন?

সামাজিক মিডিয়াতে জানান!

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 54
    Shares
  •  
    54
    Shares
  • 54
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক মো.ইকবাল হাসান

মো.ইকবাল হাসান, লেখাপড়া করছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায়।

২ টি মন্তব্য

  1. অতিথি পাখিদের রক্ষা করা খুবই জরুরি। আমাদের অবহেলার কারণে প্রকৃতির বন্ধু আমাদের অতিথি আমাদের ঘরে আর আসবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!